কুইম্যারী ভার্সিটি হলে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ফ্রিডম ফিফটি অনুষ্ঠান

৭১-এ বৃটিশ মিডিয়ার ভূমিকা, বাংলাদেশের প্রেস ফ্রিডম, ৫০ বছরের অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানে অনেক উন্নতি হয়েছে। নানা ক্ষেত্রে দেশটি এগিয়েছে। কিন্তু দুর্ণীতি, গণতন্ত্র, স্বাধীন, গণমাধ্যম, মানবাধিকার ইত্যাদি নানা বিষয়ে রয়ে গেছে চ্যালেন্জ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে কুইম্যারী ইউনিভার্সিটি হলে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে নির্ধারিত বক্তারা এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতার ৫০ বছরে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ছিলো এই আয়োজন। ৭১-এ বৃটিশ মিডিয়ার ভূমিকা, বাংলাদেশের প্রেস ফ্রিডম এবং ৫০ বছরের অর্জন এবং চ্যালেনজ নিয়ে ছিলো তিনটি উপস্থাপনা।

কুইম্যারী আর্টস স্টুডিও হলের এই অনুষ্ঠানে ৫০ বছরের গণমাধ্যম শীর্ষক আলোচনায় স্বাধীনতার একটি চিত্র তুলে ধরেন বিবিসিখ্যাত প্রবীন সাংবাদিক উদয় সংকর দাস।
৯ নভেম্বর মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ ওয়ার অব ইন্ডিপেনডেন্স: রোল অব মিডিয়া ইন দ্য ইউকে‘ শীর্ষক উপস্থাপনা ছিলো ই-সাউথ এশিয়া সম্পাদক বুলবুল হাসানের।
ফিফটি ইয়ার: এচিভম্যান্ট এন্ড চ্যালেঞ্জ‘ শীর্ষক উপস্থাপনা চ্যানেল এস-এর হেড অব প্রোগ্রাম ফারহান মাসুদ খানের।

প্রেস ফ্রিডম শীর্ষক আলোচনায় প্রবীণ সাংবাদিক উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, স্বাধীন দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সব সময়ই সংগ্রাম করতে হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দেশের গণমাধ্যম আরও বেশী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আর শ্বৈরশাসনের সময়ে ছিলো চরমভাবে নিয়ন্ত্রিত। তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ মোকাবেলার মোক্ষম জবাব হচ্ছে আরও বেশি সক্রিয় সাংবাদিকতা। যত বাধাই আসুক সাংবাদিকতার কাজটা ঠিকঠাক চালিয়ে যেতে হবে সাংবাদিকদের।


বুলবুল হাসান ভিডিও ও পেপার ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে জানান, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে বিশ্ববাসীর সমর্থন আদায়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।
ফারহান মাসুদ খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জিডিপি, মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, শিক্ষার হারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চমৎকার অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে দুর্নীতি মোকাবেলা, মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকরণে চ্যালেঞ্জ এখনও দেশের কাঙ্খিত অগ্রগতির পথে বাধা।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সমাপনী বক্তব্য ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার আ স ম মাসুম, সার্বিক তত্ববধানে ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আর্টস অফিসার কাজী রুকসানা বেগম।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রেসক্লাবের এই আয়োজনের সহযোগি ছিলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এ সিজন অব বাংলা ড্রামা প্রজেক্ট।


অনুষ্ঠানের শেষদিকে ছিলো ব্যতিক্রমী লং টেবিল ডিসকাশন। এতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা মন্তব্যে অংশ নেন ১০ জন আলোচক। ক্লাব প্রেসিডেন্ট ছিলেন হোস্ট। এতে তিন নির্ধারতি বক্তা ছাড়াও যোগ দেন এশিয়ান এইজ-এর সাবেক সম্পাদক বদরুল আহসান, সাপ্তাহিক সুরমার
সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান মোহাম্মদ সম্পাদক বেলাল আহমদ, যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজ মিশু, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের আইটি সেকেটারী সালেহ আহমদ
এবং নির্বাহী সদস্য নাজমুল ইসলাম।

ইসি মেম্বারদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এতে আলোচনার বিরতিতে দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করেন প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য রুপি আমীন, সদস্য মোস্তফা কামাল মিলন ও পাপ্পু।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত মিডিয়া ফুটবল কাপ জিতলো ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে ও গ্রামীণ লিংক, মিন্ট ক্যাটারাস,সোনার গাঁও রেস্টুরেন্ট, বার্কিং ফিস বাজার এবং লিজেন্ড এক্সপ্রেসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘মিডিয়া কাপ ফুটবল ২০২১’ এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড। রানার্স-আপ হয়েছে, আবাহনী।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বৃটিশ বাংলাদেশি কর্মব্যস্ত সাংবাদিকদের নির্মল বিনোদনের প্রয়াসে আজ রবিবার দুপুর ১২টায় পূর্ব লন্ডনের মাইল এন্ড স্টেডিয়ামের আর্টিফিসিয়াল টার্ফে এই সিক্স এ সাইড টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়াসহ মোট ১০টি গণমাধ্যম দুইটি গ্রুপে ভাগ হয়ে পরস্পরের মোকাবেলা করে। ‘এ’ গ্রুপে গতবারের রানার্স-আপ ‘চ্যানেল এস’ এর সাথে ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’, ‘বিলেত’, ‘আবাহনী’ ও ‘বাংলা পোস্ট’ অংশ নেয়। ‘বি’ গ্রুপে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ এর সাথে ‘সাপ্তাহিক দেশ’, ‘এলবি২৪’, ‘মিডল্যান্ড বাংলা মিডিয়া’ ও ‘আইওএন টিভি’ অংশ নেয়।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ‘চ্যানেল এস’ ২-০ গোলে ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ কে হারিয়ে দেয়। দলের পক্ষে গোল করেন, ইব্রাহিম খলিল ও সাগর। দ্বিতীয় খেলায় ‘বিলেত’ ০-০ গোলে ‘বাংলা পোস্ট’ এর সাথে ড্র করে। তৃতীয় খেলায় ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ৩-০ গোলে ‘আইওএন টিভি’কে হারিয়ে দেয়। প্রথম গোলটি ছিলো আত্মঘাতি গোল, দলের পক্ষে অপর দুটি গোল করেন আহাদ চৌধুরী বাবু ও রুহেল। চতুর্থ খেলায় ‘সাপ্তাহিক দেশ’ ০-২ গোলে ‘এলবি২৪’ এর কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে দুটি গোলই করেন, সোহেল। পঞ্চম খেলায় ‘আবাহনী’ ০-২ গোলে ‘চ্যানেল এস’ এর কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, সাগর। ষষ্ঠ খেলায় ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ ০-২ গোলে ‘বিলেত’ এর কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল করেন, আলম। সপ্তম খেলায় ‘মিডল্যান্ডস বাংলা মিডিয়া’ মাঠে না আসায় ১-০ গোলে ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ওয়াক ওভার লাভ করে। অষ্টম খেলায় ‘সাপ্তাহিক দেশ’ ২-০ গোলে ‘আইওএন টিভি’কে হারিয়ে দেয়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, ফয়সাল ও রুমান। নবম খেলায় ‘বাংলা পোস্ট’ ০-২ গোলে ‘আবাহনী‘র কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, বুলবুল হাসান ও রুহুল। দশম খেলায় ‘বিলেত’ ০-২ গোলে ‘চ্যানেল এস’ এর কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, বাহার। একাদশতম খেলায় ‘মিডল্যান্ডস বাংলা মিডিয়া’ মাঠে না আসায় ‘এলবি২৪’ ১-০ গোলে ওয়াক ওভার লাভ করে। দ্বাদশ খেলায় ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ৪-০ গোলে ‘সাপ্তাহিক দেশ’কে হারিয়ে দেয়। দলের পক্ষে দুটি গোল করেন, আহাদ চৌধুরী বাবু, অপর দুটি গোল করেন, সোবহান ও রুহেল। ত্রয়োদশ খেলায় ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ ০-২ গোলে ‘আবাহনী’র কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন রুহুল। চতুর্দশ খেলায় ‘বাংলা পোস্ট’ ০-২ গোলে ‘চ্যানেল এস’ এর কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, বাহার। পঞ্চদশ খেলায় ‘মিডল্যান্ডস বাংলা মিডিয়া’ মাঠে না আসলে ০-১ গোলে ‘আইওএন টিভি’ ওয়াক ওভার লাভ করে। ষোড়শ খেলায় ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ১-২ গোলে ‘এলবি২৪’ এর কাছে হেরে যায়। এলবি২৪ এর পক্ষে গোল দুটি করেন সোহেল; ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড এর পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন, আহাদ চৌধুরী বাবু। সপ্তদশ খেলায় ‘বিলেত’ মাঠে না নামলে ০-১ গোলে ‘আবাহনী’ ওয়াক ওভার লাভ করে। অষ্টাদশ খেলায় ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ ১-০ গোলে ‘বাংলা পোস্ট’কে হারিয়ে দেয়। দলের পক্ষে গোল করেন, হেলাল সাইফ। ঊনবিংশ খেলায় ‘মিডল্যান্ডস বাংলা মিডিয়া’ মাঠে না আসলে ০-১ গোলে ‘সাপ্তাহিক দেশ’ ওয়াক ওভার লাভ করে। কুড়িতম খেলায় ‘এলবি২৪’ ১-০ গোলে ‘আইওএন টিভি’কে হারিয়ে দেয়। দলের পক্ষে গোল করেন, জুবায়ের আহমেদ।

গ্রুপ ‘এ’ থেকে ‘চ্যানেল এস’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ও ‘আবাহনী’ রানার্স-আপ হয়ে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। গ্রুপ ‘বি’ থেকে ‘এলবি২৪’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ও ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ রানার্স-আপ হয়ে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। প্রথম সেমিফাইনালে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ‘চ্যানেল এস’, ‘বি’ গ্রুপ রানার্স-আপ ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ কে মোকাবিলা করে। নির্ধারিত সময়ে খেলা ড্র হলে পরে ট্রাইব্রেকারে ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ২-১ গোলে ‘চ্যানেল এস’ কে পরাজিত করে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। পেনাল্টি শুট আউটে ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ এর পক্ষে কয়েছ আহমেদ রুহেল ও জাকির হোসেন কয়েছ গোল করেন, আহাদ চৌধুরী বাবু গোল মিস করেন। ‘চ্যানেল এস’ এর পক্ষে বাহার গোল করেন, সাগর ও তাজ গোল মিস করেন। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ‘এলবি২৪’, ‘এ’ গ্রুপ রানার্স-আপ ‘আবাহনী’ কে মোকাবিলা করে। ‘আবাহনী’ ২-০ গোলে ‘এলবি২৪’ কে পরাজিত করে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, রুহেল ও বিপুল। ফাইনালে ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ১-০ গোলে ‘আবাহনী’ কে হারিয়ে ‘মিডিয়া কাপ ফুটবল ২০২১’ এর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ফাইনালে দলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন আকরাম হোসাইন।

ফাইনালের ম্যাচ সেরা হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট‘ জিতেছেন ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ এর জাকির হোসেন কয়েছ। সর্বোচ্চ ৫টি গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন, ‘চ্যানেল এস’ এর বাহার। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ আকর্ষণীয় ট্রফিসহ প্রাইজমানি পেয়েছে ৫০০ পাউন্ড। টুর্নামেন্টের রানার্সআপ দল ‘আবাহনী’ আকর্ষণীয় ট্রফিসহ প্রাইজমানি পেয়েছে ২৫০ পাউন্ড। ফাইনালে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলের স্পীকার আহবাব হোসেন। স্বাগত বক্তব্যে রাখেন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ জুবায়ের।

‘মিডিয়া কাপ ফুটবল ২০২১’ এর দায়িত্বে ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ইভেন্ট এ্যান্ড ফেসেলিটিজ সেক্রেটারি মো: রেজাউল করিম মৃধা; কোঅর্ডিনেশন করেছেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ট্রেজারার আ স ম মাসুম, ট্রেনিং সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল ও আই টি সেক্রেটারি সালেহ আহমেদ এবং সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ জুবায়ের। টুর্নামেন্ট পরিচালনার সহযোগিতা করেন ফিফটি এ্যাক্টিভ ক্লাব। টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের মেম্বাররাই অংশ গ্রহণ করেন। এই নিয়ে পর পর দুইবার চ্যাম্পিয়ন হলো, ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড।

-‘মিডিয়া কাপ ফুটবল ২০২১’ এর টুকিটাকি –

গোল:- টুর্নামেন্টের ২৩ ম্যাচে সর্বমোট ৩২টি গোল হয়েছে। এর মধ্যে ‘আইওএন টিভি’ ওয়াক ওভার ছাড়া প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ গোলশূণ্যভাবে টুর্নামেন্টে শেষ করেছে বিপরীতে তারা টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৬টি গোল হজম করেছে। গোল দিতে না পারার পেছনে দলের মাঝ মাঠের খেলোয়াড় মাহবুব আলী খানশূর ও খিজির হায়াত কাওছার তাদের তারকা স্ট্রাইকার আনোয়ার শাহজাহানের ইনজুরিকে দায়ী করেছেন। ‘সাপ্তাহিক দেশ’ ওয়াক ওভার ছাড়া প্রতিপক্ষের জালে মাত্র দুইবার বল পাঠাতে পেরেছে বিপরীতে তারা টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৬টি গোল হজম করেছে। ওয়াক ওভার না পেলে আরও বেশি গোল তাদের হজম করতে হতো বলে অনেকেই মনে করছে। ‘বাংলা পোস্ট’ গোলশূণ্যভাবে টুর্নামেন্টে শেষ করেছে বিপরীতে তারা ৫টি গোল হজম করেছে। ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ প্রতিপক্ষের জালে ১টি গোল দিয়েছে, বিপরীতে তারা টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৬টি গোল হজম করেছে। আরেকটা গোল তারা দিতে পারতো যদি তবারক পারভেজ তার বুলেট গতির শটটা গোলবারের ভেতরে মারতে পারতো। যাইহোক, গতবারের রানার্স-আপ ‘চ্যানেল এস’ এবারের টুর্নামেন্টে মাত্র ২টি গোল হজম করেছে বিপরীতে তারা প্রতিপক্ষের জালে ৯ বার বল পাঠিয়েছে। আবাহনী ৩টি গোল হজম করেছে বিপরীতে তারা প্রতিপক্ষকে ৭ টি গোল দিয়েছে। এবারের চ্যাম্পিয়ন ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ মাত্র ২টি গোল হজম করেছে বিপরীতে তারা প্রতিপক্ষের জালে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ১০ বার বল পাঠিয়েছে। টুর্নামেন্টে ‘চ্যানেল এস’ এর ইব্রাহিম খলিল প্রথম গোল করেছেন। পেনাল্টি শটে জাকির হোসেন কয়েছ টুর্নামেন্টের শেষ গোলটি করেছেন।
আত্মঘাতি গোল:- ‘আইওএন টিভি’ টুর্নামেন্টের একমাত্র আত্মঘাতি গোলটি হজম করেছে। ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ এর আহাদ চৌধুরী বাবুর শট ‘আইওএন টিভি’র গোলকিপার মাহাবুবুর রহমানের পায়ে লেগে জালে ঢুকেছে।

গোলকিপারদের টুর্নামেন্ট:- আর্টিফিসিয়াল টার্ফে সিক্স এ সাইড টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলে গোল সংখ্যা সাধারনত বেশি হয়। কিন্তু এ টুর্নামেন্ট এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল হয়েছে ৪টি। এছাড়া কোন ম্যাচ ০-০ গোলে অমিমাংসিতভাবে শেষ হয়েছে। সেমিফাইনালের ম্যাচ ট্রাইব্রেকারে গড়িয়েছে। একজন গোলকিপার ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট হয়েছেন এ থেকে বুঝাই যাচ্ছে, এটা গোলকিপারদের টুর্নামেন্ট হয়েছে। ‘চ্যানেল এস’ এর কামরুল, ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ এর জাকির হোসেন কয়েছ, ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ এর এমদাদুল হক চৌধুরী, ‘আবাহনী’র খালেদ, ‘এলবি২৪’ এর এনাম চৌধুরী ও ‘আইওএন টিভি’ এর মাহাবুবুর রহমান প্রত্যেকেই দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। রহমত আলীর মত অভিজ্ঞ গোলকিপারও ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ এর লাইনআপে ছিলেন।

এক ম্যাচে দুই দলকে হারানোর উল্লাস:- সাপ্তাহিক সুরমা আর সাপ্তাহিক পত্রিকা এবারে একসাথে ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ নামে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন। যে দলই এই দলকে হারিয়েছে তারা এক ম্যাচে দুই দলকে হারানোর স্বাদ পেয়েছেন। সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড কে একসাথে হারানোয় তারা ডাবল উল্লাস করেছেন বলে ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন।
জার্সি বিভ্রাট:- ‘বিলেত’ ও ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ এর জার্সির রং (লাল) এক হয়ে যাওয়ায় কিছুটা জার্সি বিভ্রাট হয়েছে। দর্শকরা কেউ কেউ একটাকে গরুর রক্তের লাল ও অন্যটাকে মহিষের রক্তের লাল বলে রসিকতা করেছেন। পরে ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ এর খেলোয়াড়েরা তাদের জার্সির উপর ভেস্ট পরে খেলতে নেমেছেন।
ট্রফির স্বপ্ন:- নিজেদের প্রথম ম্যাচে ‘বিলেত’ এর আ স ম মাসুম, এমরান আহমেদ, তানীম ও অন্য খেলোয়াড়েরা সাপ্তাহিক বাংলা পোস্টের সাথে গোলশূণ্য ড্র করে অতি আত্মবিশ্বাসে চ্যাম্পিয়ন ট্রফির সাথে ছবি তুলেছেন। দর্শকদের হুড়োহুড়িতে পরে যদি আর ছবি তুলার সুযোগ না পান। প্রেস রিলিজে ছবি দেওয়ার জন্য তারা আগেই তাদের ছবি তুলে রেখেছেন। যদিও পরে তাদের একজন খেলোয়াড় ইনজুরড় হলে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে তারা সরে দাড়িয়েছেন। তাদের ট্রফির স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে।
তারকা জুটি:- ‘চ্যানেল এস’ এর ইব্রাহিম খলিল ও মোহাম্মদ জুবায়ের এর জুটি সবার নজর কেড়েছেন। দুজনেই দুর্দান্ত খেলেছেন। তারা ব্রাজিলের রোমারিও-বেবেতো জুটির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাদের পায়ে বল গেলেই দর্শকেরা নড়েচড়ে বসেছেন। একইভাবে ‘আবাহনী’র বুলবুল হাসান ও সারোয়ার হোসাইনের খেলা বাংলাদেশের শেখ আসলাম ও মুনেম মুন্নাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন। ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ আহাদ চৌধুরী বাবু ও জাকির হোসেন কয়েছ মোহামেডানের সাব্বির-কাননদের মনে করিয়ে দিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি এসিস্ট:– ‘এলবি২৪’ এর শাহ ইউসুফ সবচেয়ে বেশি এসিস্ট করেছেন। তারপরে যিনি বেশি এসিস্ট করেছেন তিনি হলেন ‘আবাহনী’র জিআর সোহেল। নিজ দলের প্রত্যেকটা গোলেই তারা কম বেশি অবদান রেখেছেন। হান্নান ভাই মাঠের বাইরে থেকে তাদের দু’জনকে বেশি বেশি পাস দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন।
রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন:- খেলা শেষে ‘বাংলা পোস্ট’ ও ‘আইওএন’ টিভির খেলোয়াড়েরা রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাত্বিতের অভিযোগ এনেছেন। তারা বলেছেন, রেফারি আমাদের ন্যায্য পেনাল্টি দেয়নি। রেফারি যদি মাঠে তাদের প্রতি একটু সদয় হতেন, যদি একটা, দুইটা পেনাল্টি দিতেন তাহলে তারাও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে সক্ষম হতেন। এভাবে গোলশূণ্যভাবে তাদের টুর্নামেন্টে শেষ করতে হতোনা বলে তারা মনে করছেন। ফিফায় অভিযোগ দেওয়ার কথাও তাদের কেউ কেউ বলেছেন।

ম্যানেজার ফ্যাক্টর:- যিনি খেলোয়াড় তিনিই আবার দলের ম্যনেজার, প্রায় প্রতিটা দলেই এমনটা দেখা গেছে। কেবল ব্যাতিক্রম ছিলো ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’, ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ ও ‘এলবি২৪’। ‘এলবি২৪’ সাবিহা খাতুনকে ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছেন। ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ মোস্তাক বাবুলকে ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছেন। মোস্তাক বাবুল এই দায়িত্ব খুব ভালোভাবেই সামলেছেন। টুর্নামেন্টে ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’এর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে মোস্তাক বাবুল একটা ভূমিকা রেখেছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

চ্যাম্পিয়ন ‘এলবি২৪’ :- ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ‘এলবি২৪’ নিজেদের চ্যাম্পিয়ন বলে দাবী করছেন। এই ক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হলো, গ্রুপ পর্বে আমরা ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ কে ১-২ গোলে হারিয়েছি। ওরা আমাদের কাছে হেরেছে। আমরা ওদের কাছে হারিনি। কাজেই আমরাই প্রকৃত চ্যাম্পিয়ন।

হেডিং এর খোঁজে তাইসির মাহমুদ:- ম্যাচ শেষে তাইসির মাহমুদ তার ‘সাপ্তাহিক দেশ’ এ কী শিরোনামে এই মিডিয়া কাপের সংবাদ ছাপবেন, নিজ দলের বাজে পারফর্মেন্স আড়াল করে কী লিখবেন তা নিয়ে এমাদাদুল হক চৌধুরী ও বেলাল আহমেদের সাথে পরামর্শ করছিলেন। এমাদাদুল হক চৌধুরী বলছিলেন, শিরোনাম দিবা ‘শেষ ম্যাচে জিতে মিডিয়া ফুটবল কাপ’ থেকে বিদায় নিলো ‘সাপ্তাহিক দেশ’। বেলাল আহমেদও হেসে সায় দিলেন। তাইসির মাহমুদও শিরোনামটা বেশ পছন্দ করলেন।

বাজি:- গতবারের রানার্স’-আপ চ্যানেল এস’ এবারও চ্যাম্পিয়ন হবে, মাঠের মুড়ি বিক্রেতাকে স্বাক্ষী রেখে এই নিয়ে দুইজন দর্শক বাজি ধরেছেন। বাজি হেরে ‘চ্যানেল এস’ কে গাল মন্দ করতে করতে হেরে যাওয়া সেই দর্শক বাড়ি ফিরেছেন।

কুসংস্কারমুক্ত টুর্নামেন্ট:- ফুটবল খেলোয়াড়েরা নানা রকমের কুসংস্কার মেনে চলেন। কেউ তার জার্সির হাত কেটে বাদ দেন, কেউ মোজা উল্টা করে পরেন, কেউ প্রতি খেলার আগে গোল লাইন পর্যন্ত তার এলাকায় বাঁ পা দিয়ে দাগ টেনে চিহ্নিত করে রাখেন, কেউ ‘মুড আনার জন্য’ প্রতিবার একই গান শোনেন বা পর্ণ ভিডিও দেখেন, কেউ লাল বা নীল রঙের আন্ডারওয়্যার পড়েন, কেউ মাঠে ঢোকার সময় প্রথম ডান পা ফেলেন, আর কেউ তার দল যখনই গোল করে, তখন তিনি গোল মুখে ফিরে এসে ছোট একটা লাফ দেন এবং বাঁ হাত দিয়ে গোল পোস্ট স্পর্শ করেন। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব আয়োজিত মিডিয়া কাপের ফুটবল খেলোয়াড়েরা এসব কুসংস্কারমুক্ত ছিলেন। কাউকে এ ধরনের কিছু করতে দেখা যায়নি।

প্রয়াত মিজান চৌধুরীও মাঠে ছিলেন:- প্রয়াত মিজান চৌধুরী মাঠে না থেকেও ছিলেন। ‘বাংলা পোস্ট’ এর তারেক চৌধুরী বল পায়ে এলোমেলো ছুটেছেন। তারেক চৌধুরীকে এলোমেলো ছুটতে দেখে একজন মহিলা দর্শক তারেক চৌধুরী গোল পোস্ট চিনেন না বলে বিদ্রুপ করেছেন। মহিলার কথা শোনে ফিফটি এ্যাক্টিভ ক্লাবের একজন সদস্য ‘মিজান চৌধুরীর গোল পোস্ট’ প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, আপনি আজকে তারেক চৌধুরীকে যেমন বিদ্রুপ করছেন তেমনি আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী একদিন সংসদে মিজান চৌধুরীকে বিদ্রুপ করে বলেছিলেন, মিজান চৌধুরী সাহেব যখন বক্তৃতা করতে দাঁড়ান তখন আমার মনে পড়ে পাগলা ফুটবলার রাজা মিয়ার কথা। রাজা মিয়ার পায়ে বল গেলে দু’দিকের গোল কিপারকেই সামাল থাকতে হতো। কারণ, রাজা মিয়া যে কখন কোন দিকে গোল দিবে তার কোনো ঠিক ছিল না। এরপর আত্মপক্ষ সমর্থনে মিজান সাহেব দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমার স্ত্রীর নাম সাজেদা চৌধুরী। তাই এ নামের প্রতি আমার বিশেষ দুর্বলতা আছে। মিসেস সাজেদা চৌধুরী আমার সাবেক রাজনৈতিক সহচরী। সেই যৌবনকাল থেকে দু’জনে আওয়ামী লীগ করেছি একসঙ্গে বহুকাল। আমাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার কোনো অভাব ছিল না। আজ দুঃখ পেলাম মিসেস চৌধুরীর এই অভিযোগ শুনে যে, আমি নাকি সঠিক গোলপোস্ট চিনিনা। অথচ মিসেস চৌধুরী নিজে খুব ভালো করেই জানেন যে, আমি সঠিক গোলপোস্ট খুব ভালো করেই চিনি এবং দক্ষ শটে আমি সঠিক জায়গাতেই গোল করতে জানি। এখন আপনার কথা শুনে তারেক চৌধুরীও যদি মিজান চৌধুরীর মত এমন কিছু বলেন তখন আপনি কি উত্তর দিবেন! ভদ্র মহিলা নিচু স্বরে বললেন, সাংবাদিকরাও খেলতে জানেন, দক্ষ শটে গোলও করতে জানেন। বলে মুচকি হেসে স্থান ত্যাগ করলেন।

ইনজুরির হানা:- ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ এর শামসুল আলম লিটন ও ‘বিলেত’ এর সালাউদ্দিন শাহিন আহত হয়ে মাঠ ছেড়েছেন। শামসুল আলম লিটন শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন। সালাউদ্দিন শাহিনের মাথার আলগা চুল খুলে পড়ে যাওয়ায় খোলোয়াড় ও দর্শকরা প্রথমে খুবই ভয় পেয়েছেন। দর্শকরা ভেবেছেন সালাউদ্দিন শাহিনের মাথা খুলে পরে গেছে। যাইহোক, পড়ে গিয়ে তিনি মাঠেই জ্ঞান হারিয়েছেন। এম্বুলেন্স আসার আগেই তিনি অবশ্য আ.স.ম মাসুমের চেষ্টায় জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন। বাসায় গিয়ে তারা ভালো আছেন জেনে খোলোয়াড় ও দর্শকরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছেন।

স্টার অব দ্যা ডে:- ‘বিলেত’ এর সালাউদ্দিন শাহিন মাঠে পরে জ্ঞান হারালে খেলা বন্ধ করে আ.স.ম মাসুম যেভাবে তার মুখে নিজের মুখ লাগিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখতে সাহায্য করেছেন, মাসুমের চেষ্টায় যেভাবে তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন তা দেখে দর্শকরা আ.স.ম মাসুমকেই ‘স্টার অব দ্যা ডে’ বলেছেন।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব ইজ দ্যা বেস্ট:- খেলা শেষে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মোহাম্মদ জুবায়ের ক্লাবের এক্সিকিউটিভ মেম্বার কাইয়ুম আব্দুল্লাহ, এমরান আহমেদ, রেজাউল করিম মৃধা ও অন্যান্যদের নিয়ে মাঠের পাশে পরে থাকা পানির বোতল, কলার খোসা, বিরিয়ানির পরিত্যক্ত কনটেইনার পরিস্কার করেছেন, ব্যাগে ভরে বিনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজটা সহজ করেছেন, তা দেখে মাঠের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা খুবই খুশি হয়েছেন। বলেছেন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব ইজ দ্যা বেস্ট।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বর্তমান সদস্যদের জন্য ২৫% ডিসকাউন্টে মেম্বারশীপ

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব কভিড কালিন বাস্তবতায় মেম্বারশীপ ফিতে ২৫% ডিসকাউন্ট দিয়েছে। তবে এটা শুধুমাত্র নবায়নের জন্য।

# ব্যাংক ট্রান্সফার বা চেক-এর মাধ্যমে ফি দিতে হবে

# ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন

চলমান ৮০ পাউন্ড নির্ধারিত রেখে শুধুমাত্র কভিড বাস্তবতার আলোকে বর্তমান মেম্বারদের জন্য এই বিশেষ বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে বর্তমান মেম্বারদের জন্য ফি ৬০ পাউন্ড। সম্প্রতি ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া নতুন আবেদনকারীর ফি ১০০ পাউন্ড থাকছে। আবেদন সফলকাম না হলে ২০% এডমিন ফি কেটে রাখা হবে।
আগ্রহী আবেদনকারীকে মেম্বারশীপ পলিসির পরিবর্তন ও সংযোজনের আলোকে ছবিসহ ফরম পূরণ করতে হবে। সরাসরি ক্লাব অফিসে অথবা পোষ্টে জমা দিতে হবে। এড্রেস এবং ব্যাংকিং তথ্য ফরমেই রয়েছে।
পুরো পলিসি পেপার এবং ফরম ভালো করে পড়ে সংশ্লিষ্ট ডক্যুমেন্টসহ আবেদন জমা দেয়ার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মূলত নতুন সংযোজন পুরোনো পলিসিকে সুনির্দিষ্ট করেছে, বড়ধরনের মৌলীক পরিবর্তন আসেনি। যেমন-পুরোনো পলিসি অনুযায়ী আবেদনকারীকে নিউজ মিডিয়ায় দু বছরের ধারাবাহিকতার উল্লেখ করতে হবে।
এবার ফি নেয়া হবে শুধুমাত্র ব্যাংক ট্রান্সফার এবং চেক-এর মাধ্যমে। নিজের ব্যাংক একাউন্টের বাইরে একান্ত নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের একাউন্টের চেক গৃহীত হবে। নিজের একাউন্ট থেকে ব্যাংক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আবেদনের সাথেই রিসিট কপি দিতে হবে। নতুন আবেদনকারীর মিডিয়া কর্তৃপক্ষের একটি রেফারেন্স লাগবে। উল্লেখ থাকতে হবে তিনি এতে দু বছর যাবত যুক্ত। না হলে অপর কতৃপক্ষেরও রেফারেন্স আনতে হবে। রিনিউ আবেদনে যদিও রেফারেন্স লাগবে না, কিন্তু সর্বশেষ কর্মস্থলে দু বছরের কম থাকলে একটি রেফারেন্স দিতে হবে।

সুনির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়াসহ
মেম্বারশীপ পলিসি:
সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকতার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশ্য মেম্বার পদে আবেদনের বেলায় ইউকেতে নূন্যতম দুই বছর বসবাস এবং সর্বশেষ দু’বছর ধারাবাহিকভাবে মিডিয়ায় সক্রিয় থাকার যে সাংবিধানিক পুরোনো পলিসি রয়েছে সেটি এখোনো বহাল রয়েছে। যোগ হয়েছে কিছু প্রমাণাদি জমা দেয়ার বিষয়। যেমন: টিভি ও অনলাইন এবং পত্রপত্রিকার রিপোর্টারকে সর্বশেষ বছরে অন্তত ৫টি রিপোর্ট প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। ফ্রিল্যান্স হলে যথার্থ প্রমাণ থাকতে হবে এবং আবেদনের সাথে দিতে হবে অন্তত ৫টি প্রতিবেদন/ লেখা। আর যারা প্রত্যক্ষ সাংবাদিকতায় নন তারা নিউজ এবং কারেন্ট এফেয়ার্সে কীভাবে যুক্ত তার তিনটি বা চারটি সঠিক উদাহরণ দেবেন। উল্লেখ্য, নতুন নিয়মে মেম্বারশীপ আবেদনের শেষ দিন ৩১ অক্টোবর।

অনলাইন থেকে আবেদনের বেলায়
অতিরিক্ত শর্তাবলী:
সবার জন্য কিছু পলিসি ছাড়াও অনলাইন মিডিয়ার আবেদনকারীকে অতিরিক্ত কিছু ডক্যুমেন্ট দিতে হবে। সংবাদকর্মী হিসেবে সক্রিয় থাকতে হবে বৃটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ব্যাংক একাউন্ট/লিমিটেড কোম্পানী থাকতে হবে। ফেইসবুক পেইজে নূন্যতম ১০ হাজার ফলোয়ার আর ইউটিউভ চ্যানেলের ক্ষেত্রে নূন্যতম ১ হাজার সাবসক্রাইবার হতে হবে।

ফাউন্ডিং ও মুক্তিযোদ্ধা মেম্বাররা
বিশেষ মর্যাদা পাবেন:
ইউকেজুড়ে ৩১৮ জন মেম্বারের ২৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের ফাউন্ডিং মেম্বাররা আজীবন কোনো সক্রিয়তার ডক্যুমেন্ট জমা দেয়া ছাড়াই বিশেষ মর্যাদায় মেম্বার থাকবেন– ইসির প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্ত এসজিএমে পাশ হয়েছে। আর সদস্যের সম্পূরক প্রস্তাবে পাশ হয়েছে— ক্লাবের মুক্তিযোদ্ধা মেম্বাররাও আজীবন সমান মর্যাদা পাবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ক্লাবের সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের জন্য সদস্যপদ নবায়নের এই বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে। তাঁরা শুধুমাত্র ফি জমা দিয়ে সদস্য হবেন।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নিজস্ব প্রোপার্টির উদ্বোধন- খরচ ২০০ হাজার পাউন্ড, ২৮ বছরের সংগঠনে এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন

বাংলাদেশের বাইরে প্রথম ও পুরোনো বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব তাদের ক্রয়কৃত প্রপার্টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে মঙ্গলবার ৬ জুলাই। এর মাধ্যমে ক্লাবের ২৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কাঙিক্ষত কাজটি বাস্তবে পরিণত হলো। প্রায় দুশ’হাজার পাউন্ড ক্যাশ দিয়ে কেনা হলো এই প্রোপার্টি। ক্লাব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী এর আনুষ্ঠানিক ফিতা কাটেন, সাথে ছিলেন ক্লাব সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়ের ও ট্রেজারার আ স ম মাসুমসহ ইসি কমিটি এবং সাবেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
করোনা পরিস্থিতির বিধি নিষেধের কারনে বর্তমান ইসি কমিটির সাথে শুধুমাত্র ক্লাবে দায়িত্বপালনকারী সকল প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী, ট্রেজারার, ভাইস প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থেকে প্রোপার্টির উদ্বোধন করেন।

গ্রাউ-ফ্লোরে ফ্রন্ট গার্ডেন ও পার্কিং সুবিধা সমৃদ্ধ এই প্রোপার্টির মাধ্যমে বছরে ভাড়া ও মূল্যবৃদ্ধি সূত্রে অন্তত ১৫ হাজার পাউ- আয় করবে ক্লাব। পূর্ব ল-নের বার্কিং-এ প্রোপার্টি ক্রয় এবং ক্রয় পরবর্তী মেরামতসহ প্রায় ২০০ হাজার পাউ- খরচ হয়েছে। এই পুরো অর্থই গত ২০০৩ সাল থেকে ২০২১সাল পর্যন্ত ১৮ বছরে অন্তত চারটি ছোট বড় ফা-রেইজিং কার্যক্রমের মাধ্যমে উত্তোলিত হয়। কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবন্দ ও ব্যবসায়ীরা লাইফ মেম্বার হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হয়ে এই সহযোগিতা করেন। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে সারা যুক্তরাজ্যে কর্মরত সাংবাদিক, মিডিয়া কর্মী মিলিয়ে ৩১৭ জন মেম্বার রয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মহিব চৌধুরী, সাবেক সভাপতিবৃন্দ যথাক্রমে মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সৈয়দ নাহাস পাশা, সাবেক সেক্রেটারী নজরুল ইসলাম বাসন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রহমান ও আমিরুল চৌধুরী, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মুসলেহ উদ্দিন, বর্তমান সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী, সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়ের, কোষাধ্যক্ষ আ স ম মাসুম, ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মতিউর রহমান চৌধুরী, কমিউনিক্যাশন সেক্রেটারী মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ূম, আইটি সেক্রেটারী সালেহ আহমেদ, ইভেন্ট সেক্রেটারী রেজাউল করিম মৃধা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ূম, পলি রহমান, রুপি আমিন ও শাহনাজ সুলতানা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মহিব চৌধুরী বলেন, জীবনে ব্যাক্তিগতভাবে নানা প্রোপার্টি ক্রয় করেছি। কিন্তু সম্মিলিতভাবে এই কাজটির আমার নেতৃত্বে শুরু করেছিলাম, সেটা আজ বাস্তবায়ন হলো যেটা আমার জীবনের অন্যতম বড় তৃপ্তি। এছাড়া একটি সংগঠনে বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী ও ট্রেজারার ঐক্যবন্ধ থাকলে যে অনেক কিছু অর্জন করা যায়-তার প্রমান হচ্ছে এই সফলতা।

সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ বলেন, আজ একটি কমিটম্যান্ট পূর্ণ হলো। এই নিজস্ব প্রোপাটি শুধুমাত্র প্রেস ক্লাবের জন্য নয় কমিউনিটির অন্যান্য সংগঠনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, প্রথম যখন ফা-রেইজিং শুরু হয় তখন মাইলের পর মাইল ড্রাইভ করে বৃটেনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়েছি। এতো বছর ধরে রক্ষিত সেই অর্থগুলো সঠিকভাবে কাজে লেগেছে এটা বিশাল অর্জন। আগামীতে এই স্বপ্ন আরো বড় হবে আরো বিশাল হবে এবং এরও একদিন বাস্তবায়ন হবে।

ক্লাবের বর্তমান সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, এই অর্জন প্রেসক্লাবে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যারা দায়িত্বে আছেন ও ছিলেন তাদের। আমরা বর্তমান কমিটি এর চুড়ান্ত বাস্তবায়ন করেছি, কিন্তু এর পেছনে ভুমিকা আছে সকল নেতৃবৃন্দের। আমরা কৃতজ্ঞ তাদের সকলের প্রতি।
বর্তমান সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, আমরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ আমাদের ডোনার ও লাইফ মেম্বারদের প্রতি। সর্বশেষ ৩০ হাজার পাউ- সংগ্রহে ব্যক্তিগত ভাবে ৫ হাজার পাউ- দানকারী কর্পোরেট মেম্বাররা ছিলেন বিশেষ সহায়ক। দাতারা এবং সবাই বাংলা মিডিয়াকে সম্মানের চোখে দেখেন বলেই প্রেসক্লাব কমিউনিটির মধ্যে অন্যতম মর্যাদাশীল সংগঠনে পরিণত করেছে।
বর্তমান কোষাধ্যক্ষ আ স ম মাসুম বলেন, ডোনার ও সাধারণ মেম্বারদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই প্রপার্টি কেনার মধ্য দিয়ে ল-ন বাংলা প্রেসক্লাবের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হলো। এখান থেকে বছরে যে ভাড়া আসবে সেটা দিয়ে ব্রিকলেনের অফিসের খরচ চলবে, সেই সাথে ক্লাবের সদস্য ফি, প্রেস-কনফারেন্স ফিসহ অন্যান্য যেসব আয় আছে সেগুলো দিয়ে এখন ক্লাবের এক্টিভিটিস ভালোভাবে চলবে।

READ MORE

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নি:শ্বর্ত মুক্তির দাবীতে লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের মানবন্ধন- বির্তকিত অফিসিয়্যাল সিক্রেট এ্যাক্ট ১৯২৩ বাতিলের দাবী

দৈনিক প্রথম আলোর অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবীতে পূর্ব লণ্ডনের আলতাব আলী পার্কে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবন্ধন করেছে ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়াতে কর্মরত সাংবাদিকরা।
লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ওই সমাবেশে বক্তরা বলেন, রোজিনার উপর আক্রমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপরই হস্তক্ষেপ ।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নি:শ্বর্ত মুক্তি ও বির্তকিত অফিসিয়্যাল সিক্রেসি এ্যাক্ট ১৯২৩ বাতিলের দাবী জানিয়েছেন তারা। আয়জিত প্রতিবাদ সমাবেশে ব্রিটেনে কর্মরত টেলিভিশন, প্রিন্ট ও অন লাইনে কর্মরত সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীরা অংশ নেন।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং চ্যানেল এস-এর চীফ রিপোর্টার মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ও অংশ নেন, ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্টাতা সেক্রেটারী যথাক্রমে মহিব চৌধুরী ও নজরম্নল ইসলাম বাসন, ক্লাব ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলা পোষ্ট সম্পাদক ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, ট্রেজারার ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের ইউরোপ চীফ আ স ম মাসুম, সাবকে প্রেসিডেন্ট সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ বেলাল আহমদ, এটিএন বাংলা ইউকে’র প্রেজেন্টার উর্মি মাযহার, বিবিসির বাংলার সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন, বিশিষ্ট কলামিস্ট ড: রেনু লুতফা, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সাংবাদিক শামিম চৌধুরী,সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন,সাপ্তাহিক জনমতের বার্তা সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন,সত্যবানী সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা, সানরাইজ রেডিও প্রেজেন্টার মিসবাহ জামাল,টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়রের পলিটিক্যাল এডভাইজার সাংবাদিক সৈয়দ মনসুর উদ্দিন, নিউজ প্রেজেন্টার ও কাউন্সিলার সৈয়দা সায়মা আহমদ, ই-সাউথ এশিয়া এডিটর বুলবুল আহমদ,সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইছির মাহমুদ, চ্যানেল এসের কারেন্ট এফেয়ার্স এডিটর তানভীর আহমেদ, প্রবীন সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলোর লন্ডন প্রতিনিধি তবারুকুল ইসলাম, এটিএন বাংলা নিউজ-এর প্রধান মোস্তাক বাবুল, এটিএন নিউজ প্রেজেন্টার শওকত মাহমুদ,কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি জুয়ের রাজ, বাংলা টিভি ও আইওন টিভির সিনিয়র রিপোর্টার মুরাদ চৌধুরী, টিভি ওয়ানের সিনিয়র রিপোর্টার জাকির হোসেন সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে বক্তারা রোজিনা ইসলামের উপর নির্যাতন ও হয়রানীর সুষ্টু তদন্ত্মের জন্য একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবী জানান। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা রীতিমতো উদ্বেগজনক। সেখানে তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের যে ছবি এবং ভিডিও দেখা গেছে তা একটি সরকারের সচিবালয়ের সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ এবং পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের উপর যে তথ্য চুরির অভিযোগ আনা হচ্ছে, এটা একটা অনুসন্ধানী সাংবাদিকের খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক ব্যাপার। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দূর্নীতি এবং অনিয়মের বিরম্নদ্ধে একাধিক আলোচিত প্রতিবেদন করেছেন এবং তার পত্রিকায় ফলাও করে তা ছাপা হয়েছে। সুতরাং তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য বলে আমরা মনে করি।

বক্তার আরো বলেন, রোজিনা ইসলামকে যেভাবে আটকে রেখে হেনস্থা করা হয়েছে, গলা চেপে ধরা হয়েছে তা স্বাধীন গণমাধ্যম ও সঠিক তথ্য প্রবাহের জন্য বড় বাধা। এমন ঘটনা স্বাধীন গনমাধ্যমের জন্য হুমকী। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং তাকে এমন এক কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে যা নিয়ে তিনি তিন মাস আগে রিপোট করেছেন। এটি হতাশাজনক ঘটনা।

এতে আরো অংশ নেন, ক্লাবের কমিউনিক্যাশন্স সেক্রেটারী ও জাস্ট বিডি সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম, আইটি সেক্রেটারী ও বাংলা পোষ্টের প্রডাকশন এডিটর সালেহ আহমদ, ইভেন্ট সেক্রেটারী ব্রিট বাংলার কমিউনিটি এডিটর রেজাউল করিম মৃধা, দুই ইসি মেম্বার যথাক্রমে ম্যাক্স মিডিয়ার মিডিয়া এন্ড কমিউনিক্যাশন্স এডিটর রুপি আমিন ও নতুন দিন অনলাইনের ম্যানেজিং এডিটর পলি রহমান, দর্পন সম্পাদক রহমত আলী, লন্ডন বাংলা, লন্ডন বাংলার প্রধান সম্পাদক আবদুল মুনিম জাহিদি ক্যারল, দ্য এডিটর সম্পাদক আহাদ চৌধুরী বাবু, চ্যানেল এস প্রডিউসার আহাদ আহমদ , সাপ্তাহিক সংলাপ-এর বার্তা সম্পাদক সাজু আহমদ, এস এ টিভির প্রতিনিধি হেফাজুল করিম রাকিব, সানরাইজ টুডে-এর এনাম চৌধুরী, টিভি ওয়ানের প্রেজেন্টার আমিমুল ইসলাম তামিম, ৫২ বাংলার আনোয়ারউল ইসলাম ওভি,আইওন টিভির প্রেজেন্টার মিনহাজ খান, এলবি টিভির আলাউর রহমান শাহিন, দৈনিক আমার দেশ প্রতিনিধি মাববুব আলী খানসুর, সাংবাদিক সারোয়ার হোসেন ও সংস্কৃতি কর্মী স্মৃতি আজাদ।

READ MORE

ব্রিটিশ জুনিয়র বেইক অফ ফাইনালিস্ট আমালকে নিয়ে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নববর্ষ উদযাপন

ইংরেজী নতুন বছর ২০২০ সালকে ব্যতিক্রমী আয়োজনে স্বাগত জানালো বিলেতের বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ল-ন বাংলা প্রেসক্লাব। গত ৩ জানুয়ারী, শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে সাড়া জাগানো দ্যা ব্রিটিশ বেইক অফ-এর ফাইনালিস্ট বাঙালি কিশোরী আমালের নিজ হাতে বানানো কেক কেটে তা উদযাপন করা হয়। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ক্লাবের বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ল-ন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কিশোর সেলিব্রেটি আমলাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। একই সাথে আমালের সাথে আসা তার গর্বিত পিতা-মাতার হাতে ক্লাবের স্মারক মগ তুলে দেন ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ।
আমালের তৈরী কেক কেটে নতুন বছর উদযাপনকালে উপস্থিত প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, আমাল বাংলাদেশী কমিউনিটিকে মূলধারায় প্রতিনিধিত্ব করছে। চ্যানেল ফোর-এ জনপ্রিয় বেইক অফ অনুষ্ঠানে আমালের বিরল কৃতিত্বকে তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী ও সাবেক সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার।

অনুষ্ঠানে আমলের গর্বিত মা রেহনুমা তাবাসসুম ও বাবা আবু রানা তাদের সন্তানের সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। আমালের এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে তাদের সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করবে। তারা এ সময় আমালের জন্য কমিউনিটির সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে তারা আমালকে নিয়ে ল-ন বাংলা প্রেসক্লাবের ব্যতিক্রমী আয়োজনে আনন্দ প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আমাল। নিজের ক্যারিয়ার, পড়ালেখা এবং সৌশ্যল মিডিয়ায় কেক ব্র্যান্ডকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে নানা পরিকল্পনার কথাও জানান আমাল।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের প্রভাবশালী ব্রিটিশ মিডিয়া চ্যানেল ফোর আয়োজিত জুনিয়র বেইক অফ প্রতিযোগিতার অন্যতম ফাইনালিস্ট হন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী আমাল।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের বিজয় দিবস উদযাপন: স্বজন হারানোর কথা তুলে ধরলেন শহীদদের সন্তানেরা

যাদের আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও একটি গর্বিত জাতিসত্ত্বার বির্নিমাণ সম্ভব হয়েছে জাতির সেইসব সূর্যসন্তানদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করলো বৃটেনের বাংলা মিডিয়া। বরাবরের মতো গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে এবারও ব্যতিক্রমী আয়োজনে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উদযাপন করলো বিলেতের বাংলা মিডিয়ার প্রধান ও প্রতিনিধিত্বশীল প্লাটফরম লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব। ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্র পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো শহীদ স্বজনদের করুণ কাহিনীর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন দুই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের গর্বিত সন্তান।

‘শহীদ পিতার গল্প” শীর্ষক বিশেষ আয়োজনে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের দুই সদস্য যথাক্রমে সাংবাদিক বাবুল হোসেন ও সাংবাদিক আকবর হোসেন তাদের বাবা, ভাই, চাচাসহ প্রিয় স্বজনদের হারানোর হৃদয়বিদারক স্মৃতিকথা বর্ণনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন পুরো এলাকার খন্ড চিত্র তোলে ধরার চেষ্টা করেন। তাদের অশ্রুসিক্ত ও আবেগঘন স্মৃতিচারণ পুরো অনুষ্ঠানকে এক অন্যরকম ভাবগাম্ভীর্যে আবিষ্ট করে রাখে। একই সাথে ক্লাবের অপর সদস্য সামসুর রহমান সুমেলের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম বাবার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সিলেটের বালাগঞ্জ পাকহানাদার মুক্ত করতে নেতৃত্বদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল কামাল বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে গেরিলাযুদ্ধসহ রণাঙ্গণে শত্রুবাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে মুখোমুখী হওয়ার নানা লোমহর্ষক কাহিনীর বর্ণনা দেন। তাদের সবার বক্তব্যে দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় অর্ধশত বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রত্যাশিত অনেককিছুর বাস্তবায়ন না হওয়া বিশেষ করে বহুল আলোচিত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজাকারদের স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত তালিকা প্রস্তুত না করতে পারার ব্যর্থতায় ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে। দীর্ঘ অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশেষ আলোচক, মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল কামাল এবং স্মৃতিচারণকারী শহীদ পরিবারের সন্তানদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করা হয়। তাদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বর্তমান কার্যকরী কমিটির সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বাড়তি বাগাড়ম্বর ও বক্তাদের আধিক্য না থাকায় এই বিশেষ তিনজনের বক্তব্য উপস্থিত সবাই মনযোগ সহকারে শোনেন ও হৃদয়ঙ্গম করেন।
গত ১৭ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে বিজয় দিবসের এই বিশেষ আয়োজন ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্লাবের সাবেক, বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ সদস্যদের বিপুল উপস্থিতি ঘটে। লন্ডনের বাইরের শহর ওল্ডহাম, লিডস ও বার্মিহাম থেকেও ক্লাবের সদস্যরা এসে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নিজ এলাকা হানাদারমুক্ত করায় নেতৃত্ব দিতে পেরে সৌভাগ্যবান: মুক্তিযাদ্ধা আজিজুল কামাল
অনুষ্ঠানের বিশেষ আলোচক, বালাগঞ্জ পাক-হানদার মুক্ত করায় নেতৃত্বদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল কামাল তাঁর বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সবাইকে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দেশের একজন সন্তান হিসেবে সেই গুরু-দায়িত্ববোধ থেকে যুদ্ধে জড়াই।
যুদ্ধদিনের কঠিন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, যদি আর ফিরে না আসি তা ভেবে যখন কোনো অপারেশনে যেতাম তখন পুরোপুরি বিদায় নিয়েই যেতাম। এসময় তাঁর কণ্ঠ অনেকটা জড়িয়ে আসে।
বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গেরিলা আক্রমণের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, একদিন পাকবাহিনীর অ্যাম্বুসে পড়ে গিয়ে তারা তাদের হাতে ধরা খেয়ে যান। এসময় সাথী মুক্তিযোদ্ধা মছব্বিরকে পাকবাহিনী বেদড়ক পেটায় তবে আল্লাহর দয়ায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান তারা। তাদেরকে একটি ঘরে আটকে রেখে হানাদার বাহিনী চলে যাওয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সেখান থেকে দরজা ভেঙে কোনো রকমে আমরা বেরুতে সক্ষম হই এবং স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা আমাদের সেল্টার দেন।
বালাগঞ্জ হানাদার মুক্ত করার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত ছিলো ১৪ই আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে অপারেশন করে আমাদের এলাকাকে মুক্ত করবো। কিন্তু বিভিন্ন কারনে তখন তা ব্যর্থ হয়। তবে পরবর্তীতে ভালোভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে ইলাশপুরে পাক-বাহিনীকে অ্যাম্বুস করে হটিয়ে দিতে সক্ষম হই। তা করার পরই বালাগঞ্জ থানার ওসিকে ডেকে এনে বলি, এক্ষুনি আত্মসমর্পন করতে হবে নইলে থানা উড়িয়ে দেবো। অর্ডার শোনার সাথে সাথে ওসি সবাইকে নিয়ে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হন। তাদের আত্মসমর্পনের খবর শোনার এলাকার উৎফুল্ল মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের একনজর দেখতে সেখানে ছুটে আসেন। আমরা থানার সম্মুখে উড়তে থাকা পাকিস্তানী পতাকা নামিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করি।

নিজেকে একজন সৌভাগ্যবান মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে আজিজুল কামাল বলেন, অনেক সুপরিচিত ও বয়সে বড় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সেদিন বালাগঞ্জ হানাদার মুক্ত করার নেতৃত্ব দেওয়ার গুরু-দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত হয়েছিলো। স্বাধীনতার পর যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান বলেন, যে আশা নিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলাম তার অনেককিছু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারনে পূরণ হয়নি। তবুও যতুটুকু হয়েছে তাতে আমি সন্তুষ্ট আমার তেমন কোনো আফসোস নেই। এক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিক সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পুরনে সবার এগিয়ে আসা দরকার।

বাবার আদর বঞ্চিত হলেও একটি স্বাধীন দেশ ও মানচিত্র পাওয়ার আনন্দই এখন মনের বড় শান্তনা: আকবর হোসেন
প্রথমে শহীদ পরিবারের সন্তান আকবর হোসেন পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শাহাদত বরণকারী তাঁর পিতার করুণ কাহিনী বর্ণনা করেন। পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করা বর্ণনা শুধু তাঁর শহীদ পিতার স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, এসময় তিনি পুরো এলাকারই একটি সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রচিত অমর গীতিকাব্য ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলবো না …” দিয়ে শুরু করেন তিনি। তারপর একে একে তুলে ধরেন পতাদের এলাকা জগন্নাথপুরের রাণীগঞ্জের পুরো চিত্র।
তারিখভিত্তিক পাক-হানাদার বাহিনীর নৃসংশতার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বাবা আকলু মিয়ার সাথে তাদের ছোট চাচা ও এক খালুও শহীদ হন। একই দিন তাদের এলাকার বিনোদ রায়সহ আরো অনেকে হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মা ফিরোজা বেগমের কাছে লেখা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক চিঠি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার বয়স তখন চার বছর ছিলো তাই সেইদিনের স্মৃতি খুববেশী মনে নেই। মায়ের কাছ থেকে শোনা বাবা আকলু মিয়া শহীদ হওয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বাবা নাকি দেখতে আমার মতোই ছিলেন। আমার বাবা তখন বাজার কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রতিদিনের মতো গ্রামের বাড়ি থেকে তিনি রাণীগঞ্জ বাজারে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই তিনি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। একইদিন তার আরেক চাচা ও খালুও শহীদ হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে আকবর হোসেন জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের পরিবার দুই হাজার টাকা করে রাষ্ট্রীয় ভাতা পেতো।
ছোটবেলা বাবার আদর বঞ্চিত হলেও একটি স্বাধীন দেশ, মানচিত্র ও পতাকা পাওয়ার আনন্দই এখন মনের বড় শান্তনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। তবে একটাই দাবী, যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ কিংবা গাজী তাদের সঠিক লিস্ট হউক এবং তাদের রাষ্ট্রীয় স্কীকৃতি দেয়া হউক। রাণীগঞ্জের সেতুটি যেন শহীদ-গাজীর নামে নামকরন করা হয় সেই দাবীও জানান তিনি।

অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি পাননি: বাবুল হোসেন
অশ্রুসিক্ত নয়ন ও ভারাক্রান্ত কণ্ঠে পিতা, ভাইসহ পরিবারে সদস্যের শহীদ হওয়ার করুণ কাহিনী তুলে ধরেন বাবুল হোসেন। তিনি বলেন, আমার বাবা একজন ব্যবাসায়ী হলেও রাজনীতি সচেতন ছিলেন। বাবা মাকে প্রায়ই বলতেন, এমন এক জালিমের হাতে পড়লাম যে, সালাম করলে মারে না করলেও মারে। ভাইয়েরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় ভাই আলতাফ মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ট্রেনিং নিয়ে বেইল্যা পাড়া থেকে যদ্ধু শুরু করেন।
বাবার উৎসাহেই তাঁর বড় ভাই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের পরিবার ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়। ভারতে যাওয়ার সময় ভাইয়ের হাতে জায়নাজ, তসবিহ, ওয়াজিফা তুলে দিয়ে বাবা বলেছিলেন, সাবধানে থেকো এবং নামাজ পড়ো।
বাবা শহীদ হওয়ার দিনের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, বাইরে থেকে ঘরে এসে মাকে ভাত প্রস্তুত করার কথা বলে নামাজ পড়তে যাবেন এমন সময় স্থানীয় বাজার থেকে কয়েকজন পাকবাহিনীর দোসর রাজাকাররা এসে তাঁর বাবাকে বলে যে, তাড়াতাড়ি খেয়ে এসো মাঠে খেলা করবো। স্থানীয় কয়েকজন চিহ্নিত রাজাকারের নামোল্লেখ করে তিনি বলেন, বাবা নামাজে থাকতেই আমার ভাইকে মারার আওয়াজ আমাদের কানে ভেসে আসে এবং পরক্ষণেই হানাদার বাহিনী আমাদের বাড়িতে ছুটে আসে এবং আমার ভাই পাশের ডাকবাংলায় পরোটা খাচ্ছেন বলে বাবাকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তারা আমাদের ঘরের সবাইকে তুলে নিতে চেয়েছিলো। কিন্তু আমার মা ও নানাী তাদের নানাভাবে আকুতি-মিনতি করে প্রাণে বাঁচেন এবং আমাদের নিয়ে অন্যত্র চলে যান।
তিনি আরো বলেন, বাবা ও এক ভাই শহীদ হওয়ার পর বড় ভাইকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু কারো কথায় কর্ণপাত না করে আমাদের বড় ভাই আলতাফ আমাদের রেখেই ছুটে যান যুদ্ধে। তিনি আগরতলা যাওয়ার পর আর ফিরেনি বলেই কান্নায় কণ্ঠ জড়ায়ে যায় বাবুল হোসেনের।
দেশ স্বাধীন হবার অনেক পর তাদের পরিবারের ফিরে আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বড় ভাই বঙ্গবন্ধুকে নানা বলে ডাকতেন। আমার ভাই বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ করে বলেছিলেন, নানাভাই যুদ্ধাপরাধী কাউকে ছাড় দেবেন না। সাধারণ ক্ষমাপ্রাপ্তরাই পরবর্তীতে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে। বাবুল হোসেন বলেন, তারাই পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতাকে হত্যার জন্য দায়ী।
মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে শ্রেণীবিন্যাস করে ভিআইপিসহ নানা স্তর করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেখা যায় অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি পাননি। প্রকৃতি মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থতার সমালোচনা করার পাশাপাশি তিনি সুষ্ঠু রাজাকারদের তালিকা প্রণয়নেরও দাবী জানান।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক, ক্লাব সেক্রেটারি মুহাম্মদ জুবায়ের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী ও জীবিত সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সবার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। একই সাথে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এধরণের অনুষ্ঠান নতুন নয়, অতীতেও ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে বিজয় ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব।
স্বাগত বক্তব্যে ক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গর্বিত সন্তানদের মুখে প্রিয় স্বজন হারানোর শোকাবহ স্মৃতিচারন শোনার আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। তিনি সম্প্রতি প্রকাশিত বহুল আলোচিত রাজাকারদের তালিকায় অনেক স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকাকে চরম অপমানজনক মন্তব্য করে এই দুর্ঘটনার নিন্দা জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দুই শহীদ পরিবারের সন্তানের স্মৃতিচারণকে চমৎকার গল্প হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে দেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
ক্লাবের সহ-সভাপতি ব্যরিস্টার তারেক চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্œ নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন সেই স্বপ্ন ও তাদের যথাযথ সম্মান প্রতিষ্ঠিত হউক, প্রত্যাশিত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হউক।
উপস্থিত সবাইকে আপ্যায়ন ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে বিজয় দিবসের বিশেষ এই আয়োজন সমাপ্ত হয়।

READ MORE

ফেইসবুকে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সভাপতিকে নিয়ে মিথ্যাচারের নিন্দা

৩ জানুয়ারীঃ গত সেপ্টেম্বর মাসে একটি প্রেস কনফারেন্স আয়োজন এবং সে সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব এবং ক্লাব সভাপতি জনাব মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী (এমাদ চৌধুরী) সম্পর্কে সম্প্রতি (২৪ ও ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯) ফেইসবুকে মিথ্যাচার আর বানোয়াট প্রচারণা চালানোর দৃঢ় প্রতিবাদ জানিয়ে জনাব সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব।

৩ জানুয়ারী শুক্রবার প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সভায় সর্বসম্মতভাবে এই নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের পাশাপাশি সাঈদ চৌধুরীর ফেইসবুকে দেওয়া ব্রিটেনের মর্যাদাশীল এই সংগঠনের সুনাম ক্ষুণœকারী সকল বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে তাকে ভবিষ্যতে ক্লাবের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়েছে। এছাড়া এক্সেলসিয়র সিলেট নিয়ে সংবাদ প্রচারের জন্য সিলেট প্রেস ক্লাবের নয়া সেক্রেটারি দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ রেনু ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য অনলাইন পত্রিকা শীর্ষবিন্দু সম্পাদক সুমন আহমদকেও জঘন্য ভাষায় আক্রমণ করেছেন জনাব সাঈদ চৌধুরী। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব তাঁর এই ন্যাক্কারজনক আচরণেরও নিন্দা জানায়। উল্লেখ্য, এক্সেলসিয়র সিলেট নামের হোটেল এন্ড রিসোর্টের অন্যতম উদ্যোক্তা সাঈদ চৌধুরী।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক্সেলসিয়র সিলেটে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ধরার সেই সংবাদ সম্মেলনের সূত্র ধরে জনাব সাঈদ চৌধুরীর লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব এবং ক্লাব সভাপতি জনাব মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী সম্পর্কে সোস্যাল মিডিয়া তথা ফেইসবুকে নানা আপত্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করে তা ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস চালান। সাঈদ চৌধুরীর এই অনাকাঙিক্ষত আচরণ ক্লাব সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করে। সদস্যরা তাঁর এই আচরণকে ন্যাক্কারজনক আখ্যায়িত করে নিন্দা জ্ঞাপন করে এ ব্যাপারে নির্বাহী কমিটিকে ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান। নির্বাহী কমিটির সভায় সাঈদ চৌধুরীকে এসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্লাবের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দু:খ প্রকাশের আহবান জানিয়ে বলা হয়, তাঁর পদক্ষেপের ভিত্তিতে ক্লাব পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিবেচনা করবে।

ফেইসবুকের প্রচারণায় জনাব সাঈদ দাবী করেছেন, তিনি বিচারাধীন বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ না দিতে ক্লাব সভাপতিকে অনুরোধ করেছিলেন। এছাড়া তিনি অতীতে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেই সুযোগ তাকে দেয়া হয়নি! সাঈদ চৌধুরীর এই দাবী শুধু বিভ্রান্তিকর নয় পুরোপুরি অসত্য। কারণ সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দিতে ক্লাব কারো সাথেই বৈষম্যমূলক আচরণ করে না। তাকে সুযোগ না দেয়ায় প্রশ্নই উঠেনা। তবে, যেহেতু কিছু নির্ধারিত দিন ও সময় ছাড়া সাংবাদিকদের উপস্থিতি কম থাকে তাই আয়োজকদের এমনসব সুবিধাজনক দিন ও সময়ের ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয় যাতে সর্বাধিক সংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিত হতে পারেন এবং আয়োজনটা সফল হয়। জনাব সাঈদকেও একই পরামর্শ দেয়া হয়েছে মাত্র। এছাড়া প্রেস ক্লাবে যোগাযোগকারী অন্য সবার মতোই তাকেও নিজের পছন্দের দিনে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে, নিজ উদ্যোগে তা আয়োজন করার পরামর্শও দেয়া হয়। প্রসঙ্গত: তিনি গত ২০১৯ সালের ২৬ জুন একটি সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণও পাঠান, যা পরে তিনি নিজেই স্থগিত করেন।

এছাড়া একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে প্রেস ক্লাবে সিনিয়র নেতৃত্বসহ নির্বাহি কমিটিতে আরো ১৪ সদস্য রয়েছেন। সত্যিই যদি তাকে সুযোগ দেয়া না হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি তিনি নির্বাহী কমিটির অন্যদের নজরে আনতে পারতেন। তিনি কারো কাছেই তা জানাননি। অথচ একজন সাংবাদিক ও ক্লাবের সাবেক সদস্য হিশেবে এদের যেকারো সাথেই তিনি খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারতেন। জনাব সাঈদ লিখেছেন, এমদাদুল হক চৌধুরী এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ এবং সমঝোতা প্রক্রিয়ায় প্রেস ক্লাবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এটি হাস্যকর দাবী। কারণ, এমাদ চৌধুরী এ বিষয়ে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার বেশ কয়েক বছর আগে। এখানে ক্লাবকে হাতিয়ার করার দরকার নেই তার। আর সাপ্তাহিক সুরমা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা মিলিয়ে প্রায় ২৫ বছরের সম্পাদক জীবনে তার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে কমিউনিটিতে আলাদা অবস্থান করে নেয়া। সৎ ও নীতিবান সাংবাদিক ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হওয়ার কারণেই তার এই অর্জন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁর মর্যাদা কোনো চাতুর্যপূর্ণ প্রচারণায় অথবা কারো কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষুণœ হবেনা।

এমাদ চৌধুরী শুধু ক্লাব সভাপতি নন, তিনি ২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিভিন্ন মেয়াদে ট্রেজারার এবং সেক্রেটারি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে নিয়ে সাঈদ চৌধুরীর অহেতুক, আক্রমণাত“ক এবং হাস্যকর কথাবার্তায় মনে হচ্ছে, তিনি মূলত নীতি-নৈতিকতা আর দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে যে সঙ্কটের মুখোমুখি পড়েছেন, তা থেকে সবার দৃষ্টি সরাতে চাইছেন। সংবাদ সম্মেলনের প্রায় তিন মাস পরে এখন কেনো সাঈদ চৌধুরী এ নিয়ে সরব হলেন- এ প্রশ্ন এখন অনেকের। সভায় বলা হয়, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকাসহ যে কোনো সংবাদ মাধ্যমে এক্সেলসিয়র সিলেট বা অন্য যে কোনো বিষয়ে কী ধরনের সংবাদ-প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে তা স্ব স্ব মিডিয়া হাউসের নিজস্ব এখতিয়ার। এর সাথে ক্লাবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, থাকার কথাও নয়।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে ক্লাব শুধু কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের প্রয়োজনীয় বা জরুরী বিষয়ে কথা বলার বা জনগণের কাছে জানাবার সুযোগটা নিশ্চিত করে। তবে সংবাদ সম্মেলনের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটা ধারণা নেয়া হয়। একইভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্লাবের কোনো নেতা বা সদস্য কোনো সমঝোতা বা সামাজিক বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলে সেটিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব বিষয়। তাই এসব নিয়ে জনাব সাঈদের দীর্ঘ রচনা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করার প্রয়োজন আছে বলে ক্লাব মনে করে না। তবে ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, সত্যিকারের দায়িত্বশীল বিনিয়োগে কমিউনিটিকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে সাবধান করে দেয়ার ক্ষেত্রে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব শুধুমাত্র আহবানই জানাতে পারে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হাউসগুলোরই। সব শেষে বলা প্রয়োজন, শুধু এক্সেলসিয়র সিলেট নয়, জনাব সাঈদ চৌধুরী ব্রিটেন থেকে বিনিয়োগে অন্যান্য যেসব প্রকল্পে সক্রিয় ছিলেন সেসব সম্পর্কে বক্তব্য দিতে চাইলেও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে সেই সুযোগ দিতে প্রস্তুত। নির্বাহি কমিটির সভার এই পর্বে আলোচনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী তাঁর বক্তব্য শেষে ভাইস প্রেসিডেন্টকে বাকী আলোচনায় সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব দিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা চলে। সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় এতে ট্রেজারার আ স ম মাসুম, কমিউনিক্যাশন্স সেক্রেটারী আবদুল কাইয়ুম, ট্রেনিং সেক্রেটারী ইব্রাহিম খলিল, আইটি সেক্রেটারি সালেহ আহমদ, ইভেন্ট সেক্রেটারী রেজাউল করিম মৃধা এবং নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে আবদুল কাইয়ূম, রুপি আমিন, পলি রহমান ও শাহনাজ সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: প্রেস বিজ্ঞপ্তি

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আলোচনা : জার্নালিজম – এথিক্স এন্ড স্ট্যান্ডার্ড সততা এবং তথ্যের দায়িত্ব নিয়েই সাংবাদিকতা করতে হবে

লন্ডন, ১৩ নভেম্বর : সততা, নির্ভরযোগ্য তথ্য পরিবেশন এবং স্বচ্ছতা হচ্ছে সাংবাদিকতার নীতিমালার প্রধানতম বিষয়। এসবে দৃষ্টি রেখেই সাংবাদিকতা করতে হবে। সাংবাদিকদেরও অন্যান্য মানুষের মতো ভুল হবে, তবে যথার্থতার ক্ষেত্রে চেষ্টায় যেনো দুর্বলতা না থাকে। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে কুইনম্যারী ইউনির্ভাসিটি অব লন্ডনে অনুষ্ঠিত ক্লাবের বার্ষিক আলোচনায় প্যানেল আলোচকরা এসব কথা বলেন। কুইনম্যারীর আর্টওয়ান হলে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সহযোগিতায় জার্নালিজম: এথিক্স এন্ড স্ট্যান্ডার্ড শীর্ষক এই আলোচনায় তিনজন প্যানেল স্পিকারের সকলেই বলেন, বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নীতিনৈতিকতা এবং নির্ভরযোগ্যতা আরো বেশী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিজের বিবেকবোধকে জাগ্রত রাখা এখন জরুরী।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী। নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রেস ক্লাবেরই তিন সিনিয়র সদস্য বিবিসি-র সাবেক সাংবাদিক, দৈনিক এশিয়ান এইজ-এর কলামিস্ট উদয় শঙ্কর দাশ, বিবিসি বাংলার প্রডিউসার মোয়াজ্জেম হোসেন ও চ্যানেল এস-এর সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার ড. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার। উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, সাংবাদিকতা নিয়ে আলোচনার জন্য এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেছে নেওয়ায় প্রেস ক্লাবকে ধন্যবাদ দিতে হয়। সাংবাদিকতায় মান এবং নীতিবোধ একেকটি মৌলিক বিষয়, যা আমাদের পেশাগত জীবনে বেশ প্রভাব রাখে। সব সাংবাদিক সৎ হবেন বা সব সাংবাদিক যথার্থ তথ্য দেবেন, এমনটি নিশ্চিত করা যায়না। তবে সাংবাদিক তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে সততা এবং নির্ভরতার বেলায় কোনো দুর্বলতা রাখেননি সেটিই বিবেচ্য বিষয়।

বিশেষ করে সাংবাদিককে সূত্রের ক্ষেত্রে যতোটুকু সম্ভব স্বচ্ছ থাকতে হবে। তাদেরকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকলে সেটি আগাম পরিস্কার করতে হবে। সাংবাদিকতায় নিজের আবেগের প্রকাশ থাকা কাম্য নয় এমনটি উল্লেখ করে উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, প্রিন্সেস ডায়েনার মৃত্যুবিষয়ক বিবিসি রিপোর্টে তাঁর কিছু আবেগী কাব্যময় বাক্য সম্পাদক বাদ দিয়ে দেন। মোয়াজ্জেম হোসেন বিবিসি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তথ্যবিভ্রাট কীভাবে সারা বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দেয় তার কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু সততা আর নৈতিকতা নয়, সাংবাদিকতায় তথ্যের যথার্থ পরিবেশন প্রধান বিষয়। অত্যন্ত যতœ নিয়ে, দায়িত্ব নিয়েই সাংবাদিকতা করতে হবে। ড. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার সাংবাদিকতার পাঁচটি মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ট্রুথ এন্ড এক্যুরেসি, ইন্ডিপেনডেন্স, ফেয়ারনেস এন্ড ইমপারশিয়ালিটি এবং একাউন্টেবিলিটি ইত্যাদির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা মালিক, সরকার বা প্রভাবশালীদের কথা বলে নিজেদের বিবেকের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

সবারই মনে রাখা দরকার ঝুঁকি ও দায়িত্ববোধের কথা মনে রেখেই সাংবাদিকতায় আসতে হবে। আর নিজেদের কাছেই জবাবদিহি হতে হবে। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সাবেক দুই সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা ও মোহাম্মদ বেলাল আহমদ এবং সাবেক দুই সেক্রেটারী যথাক্রমে নজরুল ইসলাম বাসন ও আবদুস সাত্তারও উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদ বক্তব্য রাখেন ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। প্রশ্ন ও মন্তব্য পর্বে আরো অংশ নেন, দৈনিক এশিয়ান এইজের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল হাসান, টিভি প্রেজেন্টার বুলবুল হাসান, সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন, কলামিস্ট ইমরান চৌধুরী ও সাংবাদিক মারুফ আহমদ।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী

লন্ডন, ১৫ জুলাই : বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কাজের শ্লথ গতি দুর্নীতির চেয়েও ভয়াবহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন, সেখানে ফাইলের শ্লথ গতির কারণে তা অনেক সময় কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে সময় নিচ্ছে অনেক বেশি। গত বৃহস্পতিবার, ১১ই জুলাই পূর্ব লন্ডনের লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বাংলা সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এসে পৌছালে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান ক্লাব নেতৃবৃন্দ।
প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে। সিলেট বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু, ব্রিটেনে তৈরী হওয়া মেধাবী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রজন্মকে দেশের কাজে লাগানো, নিজ এলাকাসহ বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কথা তুলে ধরতে গিয়ে এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌছাতে বিরামহীন কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী।’ বাংলাদেশ আর আগের অবস্থানে নেই মন্তব্য করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত দেশ হিসেবে যে পরিচয় ছিলো বাংলাদেশের, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা থেকে বেরিয়ে এসেছি আমরা।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা, সারা দেশের প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন বাংলাদেশে আর কল্পনা নয়, বাস্তবতা।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সন্ত্রাসী তৎপরতার দিকে ইঙ্গিত করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি অন্ধকার দিক নিয়ে আমাদের শঙ্কা ছিলো সবচেয়ে বেশি, সরকার এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে, যদিও নিয়ন্ত্রণে আনার পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেরই দ্বিমত বা সমালোচনা আছে। আর্টিজানের মত মানুষ জবাই করা ঘটনার পর কঠোর না হয়ে উপায় ছিলোনা সরকারের।’ তিনি বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলার এই ক্ষেত্রে সফলতা আমরা দেখছি।’ শিশু ধর্ষণের মত ঘটনা রোধে কঠোর আইন আসছে, এমনটি জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘কোন বিষয় যখন আদালতে চলে যায়, তখন সরকারের আর কিছু করার থাকেনা। সরকার শুধু ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করে আদালতে সোপর্দ এবং প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে পারে।’

শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার কথা জানিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘মাতৃভাষা শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েই সরকার জাতিকে শিক্ষিত করতে চায়। এক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে যৌথ সহযোগিতার ভিত্তিতে আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়া হয়।’ এ বিষয়ে বহির্বিশ্বে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের যেকোন পরামর্শ গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা মন্ত্রী ড. দীপু মনি একজন আধুনিক ও করিৎকর্মা রাজনীতিক, বহির্বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে যার রয়েছে বিশেষ জ্ঞান, তিনি নিশ্চয়ই বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা সাজাবেন।’
সিলেট থেকে সরাসরি বিমান ফ্লাইট আর কত দূর? এমন অপর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান কাজ চলছে। বলেন, ‘কাজের শ্লথ গতির কারনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিরস্কারও করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিমান সিলেটে গিয়ে সরাসরি নামতে পারলে সিলেট থেকে সরাসরি উঠতে পারেনা কেন, এমনটি জানতে আমরা খোঁজ খবর নিয়েছি। আসলে সিলেট গিয়ে যখন নামে তখন জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পথে থাকায় বিমানটি হাল্কা থাকে, এজন্য নামা সহজ হয়। কিন্তু উঠার সময় জ্বালানি ভর্তি থাকায় বিমানের ওজন থাকে বেশি। এই ওজন নিয়ে উড়তে গেলে যে রানওয়ের প্রয়োজন সেটি এখনও তৈরী হয়নি সিলেটে। তাছাড়া সিলেট থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থাও প্রয়োজন। একাজগুলো সম্পন্ন হলেই, সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে সরাসরি উড়বে বিমান।’ তাঁর নিজ এলাকাসহ সিলেটের বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়েও প্রশ্নের সম্মুখীন হন পরিকল্পনা মন্ত্রী। জানান, সিলেটে সড়ক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় সমস্যা ঠিকাদার ও কাজের লোকের অভাব। অন্য জেলা থেকে ঠিকাদার ও কাজের লোক এনে কাজ করাতে হয়। তবে কাজ চলছে, সড়কগুলোর এই অবস্থা থাকবেনা বলে সাংবাদিকদের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

সিলেট বিমান বন্দর সড়কে পর্যাপ্ত লাইট না থাকায় রাতের বেলা তা অন্ধকার থাকে, এমন অভিযোগও শুনতে হয় পরিকল্পনা মন্ত্রীকে। উত্তরে তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হকের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমাদের মেয়রতো খুবই করিৎকর্মা মানুষ। নিশ্চয়ই এটি তাঁর নজরে পড়েনি। বিষয়টি মেয়রের নজরে নিয়ে আসবো আমি, সবধরনের সহযোগিতাও করবো তাঁকে।’ অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে এম এ মান্নান আরো বলেন, ‘ভারতের মত দেশে প্রতি স্কয়ার মাইলে যেখানে ৪০ জন মানুষের বসবাস, সেখানে আমাদের দেশে বসবাস করে ১২শ জন। আমাদের জমির পরিমাণ খুবই সিমীত। এই সীমিত জমি অধিগ্রহণ করে নতুন সড়ক করা খুবই কঠিন। যে সড়কগুলো আছে তাঁর রক্ষনাবেক্ষণেই এই মুহূর্তে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।’ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে মালিকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, মন্ত্রীর কাছে এমন অভিযোগ তুললে তা তিনি দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করেন। বলেন, ‘সরকার এক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের তিনগুণ মূল্য পরিশোধ করছে।’ এমন ঘটনা ঘটে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এমন ঘটনার পেছনে মধ্যস্বত্বভোগি কারো হয়তো ভূমিকা থাকতে পারে।’ মতবিনিময় সভার সমাপনী বক্তব্যে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আসায় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান ক্লাব সভাপতি মোহাম্ম এমদাদুল হক চৌধুরী। তিনি এসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর পাশাপাশি ব্রিটেন-বাংলাদেশ কুটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের রজত জয়ন্তীর আনুষ্ঠানিক উদযাপনে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসনের লেখা ‘লন্ডনে মাওলানা ভাসানী’ বইয়ের একটি কপি ও ‘দর্পণ’ ম্যাগাজিনের পক্ষে একটি ক্রেস্ট মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন বইটির লেখক ও দর্পণ সম্পাদক।

READ MORE
This website uses cookies to provide user authentication. Please indicate whether you consent to our site placing cookies on your device and agree with our Privacy Policy. To find out more, please read our Privacy and Cookie Policy