লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের মতবিনিময় সভায় রোজিনা ইসলাম : আমার জীবনে সকলের অবদান স্মরনীয় হয়ে থাকবে

লন্ডন, ২০ মে ২০২২: ‘সেরা অদম্য সাংবাদিক’ হিসেবে আন্তর্জতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রোজিনা ইসলাম বলেছেন, বৃটেনের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকসহ যারাই আমার জন্য প্রতিবাদ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যখন আমি আক্রান্ত হই, তখন দেশের সব স্তরের মানুষের পাশাপাশি বৃটেনের বাংলাদেশি সাংবাদিকেরা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।
একইভাবে গত একবছর চেনা, অচেনা যারা আমাকে সাহস যুগিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, আমার জন্যে রাস্তায় নেমে বা সামাজিক মাধ্যমে একটি শব্দও উচ্চারণ করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই । দুঃসহ দিনগুলোতে আমার ও আমার পরিবারের প্রতি যে সহমর্মিতা আপনারা দেখিয়েছেন আমি অভিভূত, আপ্লুত, কৃতজ্ঞ। এই ঋণ শোধ হবার নয়। আপনাদের বড়ত্বকে সম্মান জানাই, কুর্নিশ করি। আপনারা সকলে আমার ভালোবাসা নিবেন।”

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে “অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম।
গত ১৯ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ।
গত বছর পেশাগত দায়িত্বপালনকালে সচিবালয়ের ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে শারিরীক ও মানসিকভাবে হেনস্থা এবং গ্রেফতারের পর দেশে বিদেশে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন। লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাব মানববন্ধন আয়োজন করে রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবী জানায়।
এ প্রসংগে রোজিনা ইসলাম বলেন, দেশ- বিদেশের সাংবাদিকদের এমন সহযোগিতার জন্য আমি আজ আপনাদের সামনে। আমার জীবনে সকলের অবদান স্মরনীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি-বিরোধী সাংবাদিকতায় আমি কখনো ভয় পাই না। কারণ মৃত্যু তো একদিন আসবেই। সুতরাং সৎ সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনকল্যাণে কাজ করে মারা গেলেও তাতে দুঃখের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ২০ বছর বয়স থেকেই সাংবাদিকতা করছি। আমার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে কখনো অন্যায়ের সাথে আপোস করিনি। আমি এভাবেই সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবো।

বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার শুরুতে প্রখ্যাত সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যূতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং অনুষ্ঠানটি সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে নিবেদিত করা হয়।
প্রাণবন্ত আলোচনায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গুড জার্নালিজম অর্থাৎ ভালো সাংবাদিকতার জন্যই সেদিন সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষও আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আসলে ভালো সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।


উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ মে রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিবের পিএ’র কার্যালয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে শারিরীক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয় । এরপর বৃটিশদের তৈরি সেই একশ বছরের পুরো ‘অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যক্ট’ আইনের আওতায় গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রিজন ভ্যানে একাকী তাঁকে কমপক্ষে ছয়ঘণ্টা থাকতে হয়। তাঁর জীবনে এটি ছিলো খুব কঠিন একটি সময়। এরপর তাঁকে জেলে পাঠানো হয় । তিনি কারাগারের জীবনকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ পান। নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেন । ৫ দিন জেলে বন্দী রাখার পর তাঁকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত তিনি জামিনেই আছেন । কিছুদিন পরপর আদালতে হাজির হতে হয় । গ্রেফতারের এক বছর পূর্ণ হলেও তিনি মামলা থেকে পুরোপরি খালাস পাচ্ছেন না । তাঁর এক্রেডিটেশন কার্ড ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে শর্তসাপেক্ষে। ছয়মাস পর পাসপোর্টটি ফেরত দিতে হয়। অন্যদিকে ঘটনার দিন যারা রোজিনা ইসলামকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করেছেন তাদের কোনো বিচার হয়নি । মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা ওইদিন সচিবালয়ে যারা রোজিনাকে হেনস্থা করেছে তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান ।
প্রেস ক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় যত প্রতিবন্ধকতা আসুক আমাদেরকে সেই চ্যালেঞ্জ নিতেই হবে। কারো হুমকি-ধামকীকে ভয় পেলে সৎ সাংবাদিকতা হেরে যাবে। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ বলেন, রোজিনা ইসলাম সাহসী সাংবাদিকতা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।


মতবিনিময় সভায় প্রশ্নোত্তরপর্বে বক্তব্য রাখেন বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রযোজক সিনিয়র সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসাইন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, স্পেকট্রাম রেডিও বাংলার উপস্থাপক মিছবাহ জামাল, দৈনিক প্রথম আলোর লন্ডন প্রতিনিধি তাবারকুল ইসলাম পারভেজ, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু, সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুব আলী খানশূর, সাপ্তাহিক দেশ-এর বার্তা সম্পাদক ফয়সল মাহমুদ ও প্রেসক্লাবের আজীন সদস্য মানিক মিয়া।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক সুরমার বার্তা সম্পাদক কবি আব্দুল কাইয়ূম, এনটিভি ইউরোপের চীফ রিপোর্টার আকরামুল হোসাইন, ফটো সাংবাদিক জিআর সোহাইল, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি এমরান আহমদ, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল হান্নান, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, নির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসেন, নির্বাহী সদস্য সারওয়ার হোসাইন, সাংবাদিক হাসনাত চৌধুরী ও সাংবাদিক আব্দুল হান্নান

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের স্মরণসভায় হাইকমিশনার আবদুল গাফফার চৌধুরীর সৃষ্টিকর্ম ধরে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে

যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বলেছেন, প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর সৃষ্টিকর্ম ধরে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১৯ মে রোববার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টারে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত গাফ্ফার চৌধুরীর স্মরণসভায় স্মৃতিচারণকালে তিনি এ কথা বলেন।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাব সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী।
স্মৃতিচারণকালে হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর একটি অন্যরকম সম্পর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তিনি সবসময় আপোসহীন ছিলেন। রাষ্ট্রীয় খরচে আবদুল গাফফার চৌধুরী যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় খরচে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। মৃত্যুর পর বাংলাদেশে মরদেহ প্রেরণে প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন। তাঁর স্মৃতিতে ‘ আবদুল গাফফার চৌধুরী ফাউন্ডেশন’ ও তাঁর লন্ডনের বাড়িটিকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে তিনি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহযোগিতা কামনা করেন ।


প্রায় অর্ধশতাধিক অতিথির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত স্মরণসভা শুরু হয় এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। নীরবতা পালনকালে স্বস্ব ধর্মবিশ্বাস মতে গাফফার চৌধুরীর আত্মার শান্তি কামনা করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসেন এবং তাঁর একুশের গান রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বিবিসি বাংলার প্রযোজক সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন।
স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক নতুন দিন সম্পাদক মহিব চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক-কলামিস্ট গাজিউল হাসান খান, বিবিসি বাংলার সাবেক প্রযোজক উদয় শংকর দাশ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক জনমত সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনমতের সাবেক সম্পাদক নবাব উদ্দিন, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, শেখ মুজিব রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক লোকমান হোসেন, সাবেক সেক্রেটারি আবদুল আজিজ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও মাসিক দর্পণ সম্পাদক রহমত আলী, স্পেক্ট্রাম রেডিও বাংলার পরিচালক মিসবাহ জামাল, কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের, সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক উর্মি মাজহার, চ্যানেল এস-এর চীফ রিপোর্টার ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী হিমাংশু গোস্বামী ও প্রেস ক্লাবের ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী । সংগীতশিল্পী হিমাংশু গোস্বামীর নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে একুশের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে স্মরণসভার সমাপ্তি ঘোষণা করা
হয়।
স্মরণসভায় স্মৃতিচারণকালে মহিব চৌধুরী বলেন, ১৯৮৭ সালে অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক নতুন দিনের সাথে সম্পৃক্ত হোন আবদুল গাফফার চৌধুরী। তিন বছর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। মহিব চৌধুরী জানান, গাফফার চৌধুরীকে নিয়ে তাঁর একটি বই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবিসি বাংলার সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসাইন গাফফার চৌধুরীর একুশের গান রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে বলেন- ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আবদুল গাফফার চৌধুরী ঢাকার রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ প্রতিপক্ষের আক্রমনে রাস্তায় পড়ে যান গাফফর চৌধুরী। পরবর্তীতে ওই দিন রাতেই শফিক রেহমানের
বাসায় বসে একুশে ফেব্রুয়ারির গানটি প্রথমে কবিতা আকারে রচনা করেন । পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে প্রখ্যাত সুরকার আলতাফ মাহমুদ কবিতাটিতে সুর দেন। তখন থেকেই কবিতাটি একুশে ফেব্রুয়ারির গান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
স্মরণসভায় অন্যান্য বক্তারা তাঁদের স্মৃতিচারণায় বলেন, গাফফার চৌধুরী শুধু বাংলা ভাষাভাষীর জন্য নয়, সমগ্র উপমহাদেশের বরেণ্য সাংবাদিক হিসেবে আজীবন বেঁচে থাকবেন। সাহিত্য ও সাংবাদিকতার প্রতিটি শাখায়ই ছিলো তাঁর গর্বিত পদচারণা । তবে তিনি তাঁর যে
সৃষ্টিকর্মের জন্য যুগযুগ বেঁচে থাকবেন, তা হলো তাঁর কালজয়ী একুশের গান। তাঁর অমর একুশের গান ততদিনই বেঁচে থাকবে, যতদিন বিশ্বে বাঙালি ও বাংলা ভাষা টিকে থাকবে।

উল্লেখ্য, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া গ্রামের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণকারি গাফফার চৌধুরী গত ১৯ মে বৃহস্পতিবার লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যূবরণ করেন। তাঁর জীবনের ৪৮ বছরই কেটেছে বিলেতে । ২৮ মে শনিবার রাজধানী ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রী সেলিনা আফরোজের কবরের পাশে তিনি সমাহিত হন।

READ MORE

প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে হাইকমিশনারের মতবিনিময় : এনআইডি কার্ডের জন্য নাম নিবন্ধন করতে প্রবাসীদের প্রতি আহবান

লন্ডন, ১৮ মে ২০২২: লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাইদা মোনা তাসনিম এনআইডি কার্ডের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নাম নিবন্ধন করতে প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা যাতে এখানে বসেই তাদের এনআইডি কার্ড পেতে পারে সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সাথে তাঁর দফায় দফায় কথা চলছে । কমিশন যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদেরকে তাঁদের নাম রেজিস্ট্রি করতে আহবান জানিয়েছে । ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬শ প্রবাসী তাদের নাম রেজিস্ট্রি করেছেন । যারা নাম রেজিস্ট্রি করবেন তাঁরাই সকলের আগে কার্ড পাবেন । নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যে আসবেন এবং লন্ডন, বার্মিংহ্যাম ও মানচেষ্টারে অস্থায়ী অফিস স্থাপন করে কার্ডগুলো প্রদান করবেন । তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে “অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফর এনআরবি” নামে একটি পোর্টাল আছে। প্রবাসীদের প্রতি আমাদের আহবান, আপনারা যত বেশি বেশি পারবেন পোর্টালে গিয়ে নাম নিবন্ধন করবেন। এতে কিছু ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। ডকুমেন্ট একবারে আপলোড করা সম্ভব না হলে সেগুলো সংগ্রহ করে আপলোড করবেন । সবগুলো ডকুমেন্ট আপলোড হয়ে গেলে তারা আপনাকে ভোটার হিসেবে রেজিস্ট্রি করে নেবে । আর রেজিস্ট্রি হয়ে গেলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যখন যুক্তরাজ্যে আসবেন তখন আপনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এনআইডি কার্ড পেয়ে যাবেন। এ ব্যাপারে হাইকমিশনরে কনসুলার সেকশনে যোগাযোগ করলেও বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দেয়া হবে ।
সাইদা মোনা তাসনিম গত ১৭ মে মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনফারেন্স রুমে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে উপরোক্ত আহবান জানান । হাইকমিশনার প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সম্মানে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন । তিনি এসময় প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
হাইকমিশনার বলেন, ব্রিকলেনের ওয়েলফেয়ার সেন্টারটিতে একসময় কনস্যূলার সেবা দেয়া হতো । কিন্তু আজানা কারণে প্রায় ১০ বছর এই সার্ভিস বন্ধ ছিলো । তবে গত বছরের শেষ দিক থেকে আমরা আবারও সার্ভিস শুরু করেছি। গত নভেম্বর ও জানুয়ারিতে দুইটি কনসুলার ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে । আগামী জুলাই মাসে আরো একটি সার্জারি অনুষ্ঠিত হবে। এই সার্ভিস আমরা অব্যাহত রাখবো । তিনি বলেন, কনসুলার সার্ভিস শুরু করার পর ব্যাপক সাড়া মেলেছে। আমরা চাই কমিউনিটির মানুষের দোরগোড়ায় আমাদের সেবা পৌঁছে দিতে।
হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেকশনকে আরো সম্প্রসারণ করে কীভাবে প্রবাসীদের জন্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানো যায়-এমন প্রশ্নের জবাবে সাইদা মোনা তাসনিম বলেন, তিনি হাইকমিশনার নিযুক্ত হয়ে লন্ডন আসার দুইদিনের মাথায় হাইকমিশন ভবনের প্রতিটি বিভাগ সরেজমিন ঘুরে দেখেন। গ্রাউন্ডফ্লোরের পাসপোর্ট সেকশনে গিয়ে দেখেন সেখানকার অবস্থা খুবই নাজুক। কনসুলার সেবা গ্রহণে প্রবাসী বাংলাদেশীদের যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনী সেবাদাতা কর্মকর্তাদেরও অসুবিধা হচ্ছে। কারণ পাসপোর্ট সেকশনটি একেবারেই সংকীর্ণ এবং অপরিচ্ছন্ন। তাই তাৎক্ষনিকভাবে মন্ত্রনালয়ের সাথে কথা বলে বরাদ্দ এনে পাসপোর্ট সেকশনের আধুনিকায়নে কাজ করেন। এখন আগের চেয়ে অনেক স্বাচ্ছন্দে মানুষ সার্ভিস নিতে পারছে। তবে জায়গাটি সংকীর্ণ। এটি আরো সম্প্রসারিত হওয়া দরকার । তিনি বলেন, আমরা হাইকমিশন ভবনের লাগোয়া একটি নতুন প্রোপার্টি প্রায় ৩ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে ক্রয় করে নিতে সক্ষম হয়েছি। সেখান থেকে এখন পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়া হয় । তাছাড়া যারা পাসপোর্ট কিংবা নো-ভিসার প্রয়োজনে আসেন তাদের জন্য নতুন প্রোপার্টিতে আমরা ওয়েন্টি রুম রেখেছি । কাউকে এখন আর বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে মেঘ বৃষ্টি খেতে হচ্ছেনা। আমরা আমাদের সাধ্যমতো প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের চেষ্টা করছি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মুহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, জেনারেল সেক্রেটারি ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, ট্রেজারার সালেহ আহমদ, এসিসটেন্ট ট্রেজারার মোঃ আব্দুল কাইয়ূম, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান, ইভেন্ট এন্ড ‌ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু, নির্বাহী সদস্য সারওয়ার হোসাইন, নির্বাহী সদস্য শাহনাজ সুলতানা ও আলোকচিত্রী খালেদ হোসাইন।
হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেস মিনস্টার আশিকুন্নবী চৌধুরী, মিনিস্টার কনসুলার মোঃ মঈন খান, কাউন্সিলর মৌমিতা জিনাত ও প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

READ MORE

বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার স্বাধীন মাতৃভূমিতে পা রাখার আগে, ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে  ঐতিহাসিক সফর

৩১মার্চ, লন্ডনঃ বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার স্বাধীন মাতৃভূমিতে পা রাখার আগে, ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে  ঐতিহাসিক সফর এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে তার বৈঠক করার মাধ্যমে একটি নতুন বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন এবং তা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভকে ত্বরান্বিত করেছিল। আর গত পঞ্চাশ বছরে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে বড় ভূমিকা পালন করছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম।

বাংলাদেশ ব্রিটেন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর শীর্ষক এ আলোচনায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন,বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ’ থেকে ‘বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ’ হিসেবে বাংলাদেশের রূপান্তর ঘটেছে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে যুক্তরাজ্যের অংশীদারিত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।  যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি অনন্য এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা ভূমিকা রেখেছেন উল্লেখ করে আনোয়ার চৌধুরী  ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, শিক্ষা, উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, সংস্কৃতি, ও রন্ধনশিল্পে বাংলাদেশিদের সৃজনশীল অবদানের প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ ও বৃটেনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বৎসরের সুবর্ণ মৈত্রী আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ থেকে আসা দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক তোশারফ আলী।
৩০ মার্চ বুধবার পূর্ব লন্ডনের লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী।   এসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি সাঈম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী।

সেমিনারের শুরুতে ক্লাব প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা সাথে স্মরণ করেন এবং তিনি মনে করেন বাংলাদেশে ও বৃটেনের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তার অবদান বাংলাদেশী কমিউনিটির। এমদাদুল হক বিলেতে বাংলা ভাষাকে রক্ষায় সরকারি উদ্যোগে গ্রহণের দাবি জানান।


প্রধান অতিথি যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বাংলাদেশ ও বৃটেনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বৎসরে কমিউনিটির অবদানের কথা উল্লেখ করেন। দেশের উন্নয়নে প্রবাসীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের আরও বাড়াবে উল্লেখ করে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান মুনা তাসনিম। এছাড়াও খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে হোম অফিস ডায়ালগ নামে একটি  নতুন কর্মসূচী হাতে নিচ্ছেন বলে জানান।

সেমিনারে অংশ নেয়া বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিক তোশারফ আলী একাত্তরের সময়ে বিবিসি নিউজ সহ যুক্তরাজ্যের তথা বৃটেনের প্রশংসা করেন।  তিনি মনে করেন বাংলাদেশ ও বৃটেনের এই সম্পর্ক ৫০ বছর যা উন্নতি হয়েছে সামনে দিনে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।


বাংলাদেশর গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া, শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে পড়তে আসেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সঠিক মূল্যায়ন, এছাড়াও বার্মিংহামে ২৮ শে মার্চ ১৯৭১ সালে দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন সেটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের  আহ্বান জানিয়ে অথিতিদের প্রশ্ন করেন চ্যানেল এস  সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার,  সাংবাদিক উদয় শংকর দাস, সৈয়দ এনাম,  সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন  ও সাংবাদিক সাইদুর রহমান সোহেল।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল মুক্তিযুদ্ধের উজ্জীবিত জীবনী গান।  এতে অংশগ্রহণ করেন একাত্তরের রণাঙ্গণের কণ্ঠযোদ্ধা হিমাংশু গোস্বামী, ডাক্তার রুখসানা সাফা ও গৌরী চৌধুরী।

তৃতীয় পর্বে ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। এটি  পরিচালনা ও সম্পাদনা করেন কবি দিলু নাসের।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের একুশের আলোচনায় বক্তাদের অভিমত: সন্তানদের বাংলা শেখাতে মা-বাবাদেরকেই মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত একুশে ফেব্রুয়ারির আলোচনায় বক্তারা বলেছেনপ্রবাসে মাতৃভাষা চর্চা আরও সুদৃঢ় করতে এবং মাতৃভূমির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন তৈরি করতে ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম  বাঙালি পরিবারে বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি চর্চায় নিবিড় মনোযোগ ছেলেমেয়েদের মেধা বিকাশের জন্যও বিশেষ সহায়ক। 

ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখাতে ঘরে ঘরে বাংলাচর্চার আহবান জানিয়ে বক্তারা বলেনবাংলা শেখার কাজটি মাবাবাদেরকেই করতে হবে। আমরা নিজেদের ঘরে ছেলেমেয়েদের সাথে যতবেশি বাংলায় কথা বলবোততই তারা বাংলায় কথা বলতে অভ্যস্থ হয়ে ওঠবে  

২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে  ‘অমর একুশ : অহংকারের ৭০ বছর’-শহীদ দিবস  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের  আয়োজনে আলোচনার পাশাপাশি ছিলো আবৃত্তি  সংগীতানুষ্ঠান  বৈরি আবহাওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ক্লাব সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারিআমি কি ভুলিতে পারি” গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়  এতে ক্লাব সদস্য রুপি আমিনকণ্ঠশিল্পী ববি রায়  রিনা দাশসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি  সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী  তিনি তাঁর সূচনা বক্তব্যে বিলেতে বাংলা ভাষার বিকাশে কমিউনিটি সংবাদপত্রের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। “ভবনের দেয়ালে আলোর ঝলকানিতে আমরা উচ্ছসিত হই অথচ সেই ভবনের ভেতরেই আলো নিভিয়ে দেয়া হয়েছে” উল্লেখ করে তিনি বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলা ভাষা চর্চার দুরাবস্থার দিকেই  ইঙ্গিত করেন। 

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক  সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার সম্পাদক তাইসির মাহমুদএর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে “বিলেতে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ” শীর্ষক মূল আলোচনা তুলে ধরেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ভাষাসমন্বয়ক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ  গবেষক ডঃ মোঃ আব্দুল হান্নান। 

তাছাড়া “বিলেতে বাংলাচর্চায় মিডিয়ার ভুমিকা” শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রযোজক বিশিষ্ট সাংবাদিক  লেখক মিজানুর রহমান খানচ্যানেল এস  অনুষ্ঠান প্রধান  ‘সুন্দর করে বাংলা লিখি‘ প্রোগ্রামের প্রযোজক ফারহান মাসুদ খান এবং টিভি ওয়ানএর ‘বাংলায় কথা বলি‘ অনুষ্ঠানের প্রযোজক  উপস্থাপক জিয়াউর রহমান সাকলাইন। 

এছাড়াও অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে বায়ান্নোর ভাষা শহীদদের পরিচিতি তুলে ধরেন ক্লাবের নির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসেন।  

প্রধান আলোচক আব্দুল হান্নান “বিলেতে বাংলা ভাষার ভবিষ্যত” শীর্ষক তাঁর সুচিন্তিত দীর্ঘ আলোচনায় বিলেতে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা  প্রসারে আমাদের অগ্রজদের অপরিসীম অবদান এবং সেটি ধরে রাখা  উন্নয়নে আমাদের করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন

আশির দশকে এখানে যখন বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন আমাদের পুর্বপূরুষরা সরকারি ফান্ডিংয়ের কথা চিন্তা করেননি। তাঁরা তখন সন্তানদের বাংলা শেখানোর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন  বুঝতে পেরেছিলেনযদি তাদের বাংলা শেখানো না যায় তাহলে তারা শেকড়বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে  তাই তাঁরা নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে বাংলা স্কুলগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু আজ সেই স্কুলগুলো সরকারী ফান্ডিংয়ের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা নিজেদের উদ্যোগে সেগুলো চালু রাখতে পারছি না। এটা আমাদের বড় ব্যর্থতা। এখনও সময় আছেআমাদের সন্তানেরা যাতে বাংলা ভাষা  সংস্কৃতি হারিয়ে শিকড়বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে সে জন্য বাংলা শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেনছেলে মেয়েদের বাংলা শিক্ষায় মাবাবাদেরকেই মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে। 

বিবিসি বাংলা প্রযোজক মিজানুর রহমান খান বলেনভাষা যে শুধু বর্ণমালার সমষ্টি তা নয়এটি একটি সম্পর্কের ব্রিজ।  দেশপরিবার  স্বজনদের সাথে সেই ব্রিজ বা সেতুর সম্পর্ক অটুট রাখতে স্বীয় ভাষা শেখা  চর্চা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। 

চ্যানেল এস অনুষ্ঠান প্রধান ফারহান মাসুদ খান ভাষা  সংস্কৃতির উন্নয়নে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

টিভি ওয়ানএর প্রযোজক  উপস্থাপক জিয়াউর রহমান সাকলাইন মাতৃভাষা চর্চা না হওয়ায় কীভাবে পরিবারের প্রবীণদের সাথে নতুন প্রজন্মের সম্পর্কে ছেদ সৃষ্টি হচ্ছে তা তুলে ধরেন।

মুল আলোচক .  মোঃ আব্দুল হান্নানের বক্তব্যের পর মুক্তআলোচনায় অংশনেন ক্লাবের তিন সাবেক সভাপতি যথাক্রমে সাপ্তাহিক জনমত সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশাজনমতএর সাবেক সম্পাদক নবাব উদ্দিন  সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমেদটিভি উপস্থাপিকা উর্মি মাজহারচ্যানেল এসএর চীফ রিপোর্টার  প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়েরসাবেক কোষাধ্যক্ষ    মাসুম,  কবিছড়াকার দিলু নাসের  সংস্কৃতিকর্মী নজরুল ইসলাম আকিব। 

দ্বিতীয় পর্বে সহসাধারণ সম্পাদক সাঈম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার সালাউদ্দিন শাহীন এবং কবি  ছড়াকার দিলু নাসের। গান পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পি ববি রায়  শিশুশিল্পী তানিশা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি  সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক তারেক চৌধুরী এবং নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে সভামঞ্চে আহবান করে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ। 

এছাড়াও অনুষ্ঠানটি সফল করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ক্লাবের সহকোষাধ্যক্ষ এম  কাইয়ুমমিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি আবদুল হান্নানইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধাপ্রথম নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবুনির্বাহী সদস্য আনোয়ার শাহজাহান  সরওয়ার হোসেনকে ক্লাবের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়। 

অনুষ্ঠানের দুই স্পনসর পূর্ব লন্ডনের ভ্যালেন্স রোডস্থ তাজ একাউন্টেন্টএর স্বত্বাধিকারী একাউন্টেন্ট আবুল হায়াত নুরুজ্জামান  এনটিএন বাংলা ইউকের সিনিয়র রিপোর্টার মোস্তাক আলি বাবুলএর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।  

লন্ডন২১ ফেব্রুয়ারি :

READ MORE

লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

লণ্ডন, ১২ ফেব্রুয়ারী: লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ১১ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ব লণ্ডনের প্রিন্সলেট স্ট্রীটে অবস্থিত ক্লাব কার্যালয়ে পুর্ননির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীকে নিয়ে নতুন কমিটির পক্ষে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ এবং কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ। এই কমিটি আগামী দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।

অনুষ্ঠানে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে প্রথমবারের মতো নির্বাচিতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। তাছাড়া বিদায়ী কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদায়ী সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং বিদায়ী নির্বাহী সদস্য কবি আব্দুল কাইয়ুম ও পলি রহমান।

দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের বিগত কয়েক বছরের নানা কার্যক্রম তুলে ধরে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এছাড়া বিদায়ী ট্রেজারার আবু সালেহ মোঃ মাসুম আয় ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে ক্লাবের তহবিল কিভাবে আরও সমৃদ্ধ করা যায় সে পরামর্শ দেন। তারা দু’জনেই যে কোন প্রয়োজনে ক্লাবের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

পুনর্নির্বাচিত সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ এবং কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ নতুন কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে প্রেসক্লাবের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন । বিশেষ করে লাইফ মেম্বার সংখ্যা বৃদ্ধিসহ ক্লাবের তহবিলকে কিভাবে আরো সমৃদ্ধ করা যায় সে ব্যাপারে সচেষ্ট হবেন বলে জানান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি নবাব উদ্দিন।

প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটি
প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট রহমত আলী, সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ
সহ সাধারণ সম্পাদক- সাঈম চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ, সহ-কোষাধ্যক্ষ আব্দুল কাইয়ুম, অর্গানাইজিং এণ্ড ট্রেইনিং সেক্রেটারি এমরান আহমদ, মিডিয়া এণ্ড আইটি সেক্রেটারী মোঃ আব্দুল হান্নান, ইভেন্ট এণ্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা।
নির্বাহী সদস্যরা হলেন- যথাক্রমে আহাদ চৌধুরী বাবু, নাজমুল হোসাইন, আনোয়ার শাহজাহান, সরোয়ার হোসেন ও
শাহনাজ সুলতানা।

READ MORE

কুইম্যারী ভার্সিটি হলে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ফ্রিডম ফিফটি অনুষ্ঠান

৭১-এ বৃটিশ মিডিয়ার ভূমিকা, বাংলাদেশের প্রেস ফ্রিডম, ৫০ বছরের অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানে অনেক উন্নতি হয়েছে। নানা ক্ষেত্রে দেশটি এগিয়েছে। কিন্তু দুর্ণীতি, গণতন্ত্র, স্বাধীন, গণমাধ্যম, মানবাধিকার ইত্যাদি নানা বিষয়ে রয়ে গেছে চ্যালেন্জ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে কুইম্যারী ইউনিভার্সিটি হলে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে নির্ধারিত বক্তারা এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতার ৫০ বছরে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ছিলো এই আয়োজন। ৭১-এ বৃটিশ মিডিয়ার ভূমিকা, বাংলাদেশের প্রেস ফ্রিডম এবং ৫০ বছরের অর্জন এবং চ্যালেনজ নিয়ে ছিলো তিনটি উপস্থাপনা।

কুইম্যারী আর্টস স্টুডিও হলের এই অনুষ্ঠানে ৫০ বছরের গণমাধ্যম শীর্ষক আলোচনায় স্বাধীনতার একটি চিত্র তুলে ধরেন বিবিসিখ্যাত প্রবীন সাংবাদিক উদয় সংকর দাস।
৯ নভেম্বর মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ ওয়ার অব ইন্ডিপেনডেন্স: রোল অব মিডিয়া ইন দ্য ইউকে‘ শীর্ষক উপস্থাপনা ছিলো ই-সাউথ এশিয়া সম্পাদক বুলবুল হাসানের।
ফিফটি ইয়ার: এচিভম্যান্ট এন্ড চ্যালেঞ্জ‘ শীর্ষক উপস্থাপনা চ্যানেল এস-এর হেড অব প্রোগ্রাম ফারহান মাসুদ খানের।

প্রেস ফ্রিডম শীর্ষক আলোচনায় প্রবীণ সাংবাদিক উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, স্বাধীন দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সব সময়ই সংগ্রাম করতে হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দেশের গণমাধ্যম আরও বেশী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আর শ্বৈরশাসনের সময়ে ছিলো চরমভাবে নিয়ন্ত্রিত। তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ মোকাবেলার মোক্ষম জবাব হচ্ছে আরও বেশি সক্রিয় সাংবাদিকতা। যত বাধাই আসুক সাংবাদিকতার কাজটা ঠিকঠাক চালিয়ে যেতে হবে সাংবাদিকদের।


বুলবুল হাসান ভিডিও ও পেপার ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে জানান, বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে বিশ্ববাসীর সমর্থন আদায়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।
ফারহান মাসুদ খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জিডিপি, মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, শিক্ষার হারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চমৎকার অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে দুর্নীতি মোকাবেলা, মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকরণে চ্যালেঞ্জ এখনও দেশের কাঙ্খিত অগ্রগতির পথে বাধা।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়েরের পরিচালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সমাপনী বক্তব্য ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার আ স ম মাসুম, সার্বিক তত্ববধানে ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আর্টস অফিসার কাজী রুকসানা বেগম।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রেসক্লাবের এই আয়োজনের সহযোগি ছিলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এ সিজন অব বাংলা ড্রামা প্রজেক্ট।


অনুষ্ঠানের শেষদিকে ছিলো ব্যতিক্রমী লং টেবিল ডিসকাশন। এতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা মন্তব্যে অংশ নেন ১০ জন আলোচক। ক্লাব প্রেসিডেন্ট ছিলেন হোস্ট। এতে তিন নির্ধারতি বক্তা ছাড়াও যোগ দেন এশিয়ান এইজ-এর সাবেক সম্পাদক বদরুল আহসান, সাপ্তাহিক সুরমার
সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান মোহাম্মদ সম্পাদক বেলাল আহমদ, যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজ মিশু, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের আইটি সেকেটারী সালেহ আহমদ
এবং নির্বাহী সদস্য নাজমুল ইসলাম।

ইসি মেম্বারদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এতে আলোচনার বিরতিতে দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করেন প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য রুপি আমীন, সদস্য মোস্তফা কামাল মিলন ও পাপ্পু।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত মিডিয়া ফুটবল কাপ জিতলো ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে ও গ্রামীণ লিংক, মিন্ট ক্যাটারাস,সোনার গাঁও রেস্টুরেন্ট, বার্কিং ফিস বাজার এবং লিজেন্ড এক্সপ্রেসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘মিডিয়া কাপ ফুটবল ২০২১’ এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড। রানার্স-আপ হয়েছে, আবাহনী।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বৃটিশ বাংলাদেশি কর্মব্যস্ত সাংবাদিকদের নির্মল বিনোদনের প্রয়াসে আজ রবিবার দুপুর ১২টায় পূর্ব লন্ডনের মাইল এন্ড স্টেডিয়ামের আর্টিফিসিয়াল টার্ফে এই সিক্স এ সাইড টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়াসহ মোট ১০টি গণমাধ্যম দুইটি গ্রুপে ভাগ হয়ে পরস্পরের মোকাবেলা করে। ‘এ’ গ্রুপে গতবারের রানার্স-আপ ‘চ্যানেল এস’ এর সাথে ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’, ‘বিলেত’, ‘আবাহনী’ ও ‘বাংলা পোস্ট’ অংশ নেয়। ‘বি’ গ্রুপে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ এর সাথে ‘সাপ্তাহিক দেশ’, ‘এলবি২৪’, ‘মিডল্যান্ড বাংলা মিডিয়া’ ও ‘আইওএন টিভি’ অংশ নেয়।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ‘চ্যানেল এস’ ২-০ গোলে ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ কে হারিয়ে দেয়। দলের পক্ষে গোল করেন, ইব্রাহিম খলিল ও সাগর। দ্বিতীয় খেলায় ‘বিলেত’ ০-০ গোলে ‘বাংলা পোস্ট’ এর সাথে ড্র করে। তৃতীয় খেলায় ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ৩-০ গোলে ‘আইওএন টিভি’কে হারিয়ে দেয়। প্রথম গোলটি ছিলো আত্মঘাতি গোল, দলের পক্ষে অপর দুটি গোল করেন আহাদ চৌধুরী বাবু ও রুহেল। চতুর্থ খেলায় ‘সাপ্তাহিক দেশ’ ০-২ গোলে ‘এলবি২৪’ এর কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে দুটি গোলই করেন, সোহেল। পঞ্চম খেলায় ‘আবাহনী’ ০-২ গোলে ‘চ্যানেল এস’ এর কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, সাগর। ষষ্ঠ খেলায় ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ ০-২ গোলে ‘বিলেত’ এর কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল করেন, আলম। সপ্তম খেলায় ‘মিডল্যান্ডস বাংলা মিডিয়া’ মাঠে না আসায় ১-০ গোলে ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ওয়াক ওভার লাভ করে। অষ্টম খেলায় ‘সাপ্তাহিক দেশ’ ২-০ গোলে ‘আইওএন টিভি’কে হারিয়ে দেয়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, ফয়সাল ও রুমান। নবম খেলায় ‘বাংলা পোস্ট’ ০-২ গোলে ‘আবাহনী‘র কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, বুলবুল হাসান ও রুহুল। দশম খেলায় ‘বিলেত’ ০-২ গোলে ‘চ্যানেল এস’ এর কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, বাহার। একাদশতম খেলায় ‘মিডল্যান্ডস বাংলা মিডিয়া’ মাঠে না আসায় ‘এলবি২৪’ ১-০ গোলে ওয়াক ওভার লাভ করে। দ্বাদশ খেলায় ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ৪-০ গোলে ‘সাপ্তাহিক দেশ’কে হারিয়ে দেয়। দলের পক্ষে দুটি গোল করেন, আহাদ চৌধুরী বাবু, অপর দুটি গোল করেন, সোবহান ও রুহেল। ত্রয়োদশ খেলায় ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ ০-২ গোলে ‘আবাহনী’র কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন রুহুল। চতুর্দশ খেলায় ‘বাংলা পোস্ট’ ০-২ গোলে ‘চ্যানেল এস’ এর কাছে হেরে যায়। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, বাহার। পঞ্চদশ খেলায় ‘মিডল্যান্ডস বাংলা মিডিয়া’ মাঠে না আসলে ০-১ গোলে ‘আইওএন টিভি’ ওয়াক ওভার লাভ করে। ষোড়শ খেলায় ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ১-২ গোলে ‘এলবি২৪’ এর কাছে হেরে যায়। এলবি২৪ এর পক্ষে গোল দুটি করেন সোহেল; ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড এর পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন, আহাদ চৌধুরী বাবু। সপ্তদশ খেলায় ‘বিলেত’ মাঠে না নামলে ০-১ গোলে ‘আবাহনী’ ওয়াক ওভার লাভ করে। অষ্টাদশ খেলায় ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ ১-০ গোলে ‘বাংলা পোস্ট’কে হারিয়ে দেয়। দলের পক্ষে গোল করেন, হেলাল সাইফ। ঊনবিংশ খেলায় ‘মিডল্যান্ডস বাংলা মিডিয়া’ মাঠে না আসলে ০-১ গোলে ‘সাপ্তাহিক দেশ’ ওয়াক ওভার লাভ করে। কুড়িতম খেলায় ‘এলবি২৪’ ১-০ গোলে ‘আইওএন টিভি’কে হারিয়ে দেয়। দলের পক্ষে গোল করেন, জুবায়ের আহমেদ।

গ্রুপ ‘এ’ থেকে ‘চ্যানেল এস’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ও ‘আবাহনী’ রানার্স-আপ হয়ে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। গ্রুপ ‘বি’ থেকে ‘এলবি২৪’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ও ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ রানার্স-আপ হয়ে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। প্রথম সেমিফাইনালে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ‘চ্যানেল এস’, ‘বি’ গ্রুপ রানার্স-আপ ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ কে মোকাবিলা করে। নির্ধারিত সময়ে খেলা ড্র হলে পরে ট্রাইব্রেকারে ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ২-১ গোলে ‘চ্যানেল এস’ কে পরাজিত করে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। পেনাল্টি শুট আউটে ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ এর পক্ষে কয়েছ আহমেদ রুহেল ও জাকির হোসেন কয়েছ গোল করেন, আহাদ চৌধুরী বাবু গোল মিস করেন। ‘চ্যানেল এস’ এর পক্ষে বাহার গোল করেন, সাগর ও তাজ গোল মিস করেন। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ‘এলবি২৪’, ‘এ’ গ্রুপ রানার্স-আপ ‘আবাহনী’ কে মোকাবিলা করে। ‘আবাহনী’ ২-০ গোলে ‘এলবি২৪’ কে পরাজিত করে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। দলের পক্ষে গোল দুটি করেন, রুহেল ও বিপুল। ফাইনালে ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ ১-০ গোলে ‘আবাহনী’ কে হারিয়ে ‘মিডিয়া কাপ ফুটবল ২০২১’ এর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ফাইনালে দলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন আকরাম হোসাইন।

ফাইনালের ম্যাচ সেরা হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট‘ জিতেছেন ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ এর জাকির হোসেন কয়েছ। সর্বোচ্চ ৫টি গোল করে টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন, ‘চ্যানেল এস’ এর বাহার। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ আকর্ষণীয় ট্রফিসহ প্রাইজমানি পেয়েছে ৫০০ পাউন্ড। টুর্নামেন্টের রানার্সআপ দল ‘আবাহনী’ আকর্ষণীয় ট্রফিসহ প্রাইজমানি পেয়েছে ২৫০ পাউন্ড। ফাইনালে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলের স্পীকার আহবাব হোসেন। স্বাগত বক্তব্যে রাখেন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ জুবায়ের।

‘মিডিয়া কাপ ফুটবল ২০২১’ এর দায়িত্বে ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ইভেন্ট এ্যান্ড ফেসেলিটিজ সেক্রেটারি মো: রেজাউল করিম মৃধা; কোঅর্ডিনেশন করেছেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের ট্রেজারার আ স ম মাসুম, ট্রেনিং সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল ও আই টি সেক্রেটারি সালেহ আহমেদ এবং সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ জুবায়ের। টুর্নামেন্ট পরিচালনার সহযোগিতা করেন ফিফটি এ্যাক্টিভ ক্লাব। টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের মেম্বাররাই অংশ গ্রহণ করেন। এই নিয়ে পর পর দুইবার চ্যাম্পিয়ন হলো, ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড।

-‘মিডিয়া কাপ ফুটবল ২০২১’ এর টুকিটাকি –

গোল:- টুর্নামেন্টের ২৩ ম্যাচে সর্বমোট ৩২টি গোল হয়েছে। এর মধ্যে ‘আইওএন টিভি’ ওয়াক ওভার ছাড়া প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ গোলশূণ্যভাবে টুর্নামেন্টে শেষ করেছে বিপরীতে তারা টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৬টি গোল হজম করেছে। গোল দিতে না পারার পেছনে দলের মাঝ মাঠের খেলোয়াড় মাহবুব আলী খানশূর ও খিজির হায়াত কাওছার তাদের তারকা স্ট্রাইকার আনোয়ার শাহজাহানের ইনজুরিকে দায়ী করেছেন। ‘সাপ্তাহিক দেশ’ ওয়াক ওভার ছাড়া প্রতিপক্ষের জালে মাত্র দুইবার বল পাঠাতে পেরেছে বিপরীতে তারা টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৬টি গোল হজম করেছে। ওয়াক ওভার না পেলে আরও বেশি গোল তাদের হজম করতে হতো বলে অনেকেই মনে করছে। ‘বাংলা পোস্ট’ গোলশূণ্যভাবে টুর্নামেন্টে শেষ করেছে বিপরীতে তারা ৫টি গোল হজম করেছে। ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ প্রতিপক্ষের জালে ১টি গোল দিয়েছে, বিপরীতে তারা টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৬টি গোল হজম করেছে। আরেকটা গোল তারা দিতে পারতো যদি তবারক পারভেজ তার বুলেট গতির শটটা গোলবারের ভেতরে মারতে পারতো। যাইহোক, গতবারের রানার্স-আপ ‘চ্যানেল এস’ এবারের টুর্নামেন্টে মাত্র ২টি গোল হজম করেছে বিপরীতে তারা প্রতিপক্ষের জালে ৯ বার বল পাঠিয়েছে। আবাহনী ৩টি গোল হজম করেছে বিপরীতে তারা প্রতিপক্ষকে ৭ টি গোল দিয়েছে। এবারের চ্যাম্পিয়ন ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ মাত্র ২টি গোল হজম করেছে বিপরীতে তারা প্রতিপক্ষের জালে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ১০ বার বল পাঠিয়েছে। টুর্নামেন্টে ‘চ্যানেল এস’ এর ইব্রাহিম খলিল প্রথম গোল করেছেন। পেনাল্টি শটে জাকির হোসেন কয়েছ টুর্নামেন্টের শেষ গোলটি করেছেন।
আত্মঘাতি গোল:- ‘আইওএন টিভি’ টুর্নামেন্টের একমাত্র আত্মঘাতি গোলটি হজম করেছে। ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ এর আহাদ চৌধুরী বাবুর শট ‘আইওএন টিভি’র গোলকিপার মাহাবুবুর রহমানের পায়ে লেগে জালে ঢুকেছে।

গোলকিপারদের টুর্নামেন্ট:- আর্টিফিসিয়াল টার্ফে সিক্স এ সাইড টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলে গোল সংখ্যা সাধারনত বেশি হয়। কিন্তু এ টুর্নামেন্ট এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল হয়েছে ৪টি। এছাড়া কোন ম্যাচ ০-০ গোলে অমিমাংসিতভাবে শেষ হয়েছে। সেমিফাইনালের ম্যাচ ট্রাইব্রেকারে গড়িয়েছে। একজন গোলকিপার ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট হয়েছেন এ থেকে বুঝাই যাচ্ছে, এটা গোলকিপারদের টুর্নামেন্ট হয়েছে। ‘চ্যানেল এস’ এর কামরুল, ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ এর জাকির হোসেন কয়েছ, ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ এর এমদাদুল হক চৌধুরী, ‘আবাহনী’র খালেদ, ‘এলবি২৪’ এর এনাম চৌধুরী ও ‘আইওএন টিভি’ এর মাহাবুবুর রহমান প্রত্যেকেই দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। রহমত আলীর মত অভিজ্ঞ গোলকিপারও ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ এর লাইনআপে ছিলেন।

এক ম্যাচে দুই দলকে হারানোর উল্লাস:- সাপ্তাহিক সুরমা আর সাপ্তাহিক পত্রিকা এবারে একসাথে ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ নামে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন। যে দলই এই দলকে হারিয়েছে তারা এক ম্যাচে দুই দলকে হারানোর স্বাদ পেয়েছেন। সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড কে একসাথে হারানোয় তারা ডাবল উল্লাস করেছেন বলে ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন।
জার্সি বিভ্রাট:- ‘বিলেত’ ও ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ এর জার্সির রং (লাল) এক হয়ে যাওয়ায় কিছুটা জার্সি বিভ্রাট হয়েছে। দর্শকরা কেউ কেউ একটাকে গরুর রক্তের লাল ও অন্যটাকে মহিষের রক্তের লাল বলে রসিকতা করেছেন। পরে ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ এর খেলোয়াড়েরা তাদের জার্সির উপর ভেস্ট পরে খেলতে নেমেছেন।
ট্রফির স্বপ্ন:- নিজেদের প্রথম ম্যাচে ‘বিলেত’ এর আ স ম মাসুম, এমরান আহমেদ, তানীম ও অন্য খেলোয়াড়েরা সাপ্তাহিক বাংলা পোস্টের সাথে গোলশূণ্য ড্র করে অতি আত্মবিশ্বাসে চ্যাম্পিয়ন ট্রফির সাথে ছবি তুলেছেন। দর্শকদের হুড়োহুড়িতে পরে যদি আর ছবি তুলার সুযোগ না পান। প্রেস রিলিজে ছবি দেওয়ার জন্য তারা আগেই তাদের ছবি তুলে রেখেছেন। যদিও পরে তাদের একজন খেলোয়াড় ইনজুরড় হলে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো থেকে তারা সরে দাড়িয়েছেন। তাদের ট্রফির স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে।
তারকা জুটি:- ‘চ্যানেল এস’ এর ইব্রাহিম খলিল ও মোহাম্মদ জুবায়ের এর জুটি সবার নজর কেড়েছেন। দুজনেই দুর্দান্ত খেলেছেন। তারা ব্রাজিলের রোমারিও-বেবেতো জুটির কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাদের পায়ে বল গেলেই দর্শকেরা নড়েচড়ে বসেছেন। একইভাবে ‘আবাহনী’র বুলবুল হাসান ও সারোয়ার হোসাইনের খেলা বাংলাদেশের শেখ আসলাম ও মুনেম মুন্নাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন। ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ আহাদ চৌধুরী বাবু ও জাকির হোসেন কয়েছ মোহামেডানের সাব্বির-কাননদের মনে করিয়ে দিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি এসিস্ট:– ‘এলবি২৪’ এর শাহ ইউসুফ সবচেয়ে বেশি এসিস্ট করেছেন। তারপরে যিনি বেশি এসিস্ট করেছেন তিনি হলেন ‘আবাহনী’র জিআর সোহেল। নিজ দলের প্রত্যেকটা গোলেই তারা কম বেশি অবদান রেখেছেন। হান্নান ভাই মাঠের বাইরে থেকে তাদের দু’জনকে বেশি বেশি পাস দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন।
রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন:- খেলা শেষে ‘বাংলা পোস্ট’ ও ‘আইওএন’ টিভির খেলোয়াড়েরা রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাত্বিতের অভিযোগ এনেছেন। তারা বলেছেন, রেফারি আমাদের ন্যায্য পেনাল্টি দেয়নি। রেফারি যদি মাঠে তাদের প্রতি একটু সদয় হতেন, যদি একটা, দুইটা পেনাল্টি দিতেন তাহলে তারাও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে সক্ষম হতেন। এভাবে গোলশূণ্যভাবে তাদের টুর্নামেন্টে শেষ করতে হতোনা বলে তারা মনে করছেন। ফিফায় অভিযোগ দেওয়ার কথাও তাদের কেউ কেউ বলেছেন।

ম্যানেজার ফ্যাক্টর:- যিনি খেলোয়াড় তিনিই আবার দলের ম্যনেজার, প্রায় প্রতিটা দলেই এমনটা দেখা গেছে। কেবল ব্যাতিক্রম ছিলো ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’, ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ ও ‘এলবি২৪’। ‘এলবি২৪’ সাবিহা খাতুনকে ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছেন। ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ মোস্তাক বাবুলকে ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছেন। মোস্তাক বাবুল এই দায়িত্ব খুব ভালোভাবেই সামলেছেন। টুর্নামেন্টে ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’এর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে মোস্তাক বাবুল একটা ভূমিকা রেখেছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

চ্যাম্পিয়ন ‘এলবি২৪’ :- ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ‘এলবি২৪’ নিজেদের চ্যাম্পিয়ন বলে দাবী করছেন। এই ক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হলো, গ্রুপ পর্বে আমরা ‘ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড’ কে ১-২ গোলে হারিয়েছি। ওরা আমাদের কাছে হেরেছে। আমরা ওদের কাছে হারিনি। কাজেই আমরাই প্রকৃত চ্যাম্পিয়ন।

হেডিং এর খোঁজে তাইসির মাহমুদ:- ম্যাচ শেষে তাইসির মাহমুদ তার ‘সাপ্তাহিক দেশ’ এ কী শিরোনামে এই মিডিয়া কাপের সংবাদ ছাপবেন, নিজ দলের বাজে পারফর্মেন্স আড়াল করে কী লিখবেন তা নিয়ে এমাদাদুল হক চৌধুরী ও বেলাল আহমেদের সাথে পরামর্শ করছিলেন। এমাদাদুল হক চৌধুরী বলছিলেন, শিরোনাম দিবা ‘শেষ ম্যাচে জিতে মিডিয়া ফুটবল কাপ’ থেকে বিদায় নিলো ‘সাপ্তাহিক দেশ’। বেলাল আহমেদও হেসে সায় দিলেন। তাইসির মাহমুদও শিরোনামটা বেশ পছন্দ করলেন।

বাজি:- গতবারের রানার্স’-আপ চ্যানেল এস’ এবারও চ্যাম্পিয়ন হবে, মাঠের মুড়ি বিক্রেতাকে স্বাক্ষী রেখে এই নিয়ে দুইজন দর্শক বাজি ধরেছেন। বাজি হেরে ‘চ্যানেল এস’ কে গাল মন্দ করতে করতে হেরে যাওয়া সেই দর্শক বাড়ি ফিরেছেন।

কুসংস্কারমুক্ত টুর্নামেন্ট:- ফুটবল খেলোয়াড়েরা নানা রকমের কুসংস্কার মেনে চলেন। কেউ তার জার্সির হাত কেটে বাদ দেন, কেউ মোজা উল্টা করে পরেন, কেউ প্রতি খেলার আগে গোল লাইন পর্যন্ত তার এলাকায় বাঁ পা দিয়ে দাগ টেনে চিহ্নিত করে রাখেন, কেউ ‘মুড আনার জন্য’ প্রতিবার একই গান শোনেন বা পর্ণ ভিডিও দেখেন, কেউ লাল বা নীল রঙের আন্ডারওয়্যার পড়েন, কেউ মাঠে ঢোকার সময় প্রথম ডান পা ফেলেন, আর কেউ তার দল যখনই গোল করে, তখন তিনি গোল মুখে ফিরে এসে ছোট একটা লাফ দেন এবং বাঁ হাত দিয়ে গোল পোস্ট স্পর্শ করেন। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব আয়োজিত মিডিয়া কাপের ফুটবল খেলোয়াড়েরা এসব কুসংস্কারমুক্ত ছিলেন। কাউকে এ ধরনের কিছু করতে দেখা যায়নি।

প্রয়াত মিজান চৌধুরীও মাঠে ছিলেন:- প্রয়াত মিজান চৌধুরী মাঠে না থেকেও ছিলেন। ‘বাংলা পোস্ট’ এর তারেক চৌধুরী বল পায়ে এলোমেলো ছুটেছেন। তারেক চৌধুরীকে এলোমেলো ছুটতে দেখে একজন মহিলা দর্শক তারেক চৌধুরী গোল পোস্ট চিনেন না বলে বিদ্রুপ করেছেন। মহিলার কথা শোনে ফিফটি এ্যাক্টিভ ক্লাবের একজন সদস্য ‘মিজান চৌধুরীর গোল পোস্ট’ প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, আপনি আজকে তারেক চৌধুরীকে যেমন বিদ্রুপ করছেন তেমনি আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী একদিন সংসদে মিজান চৌধুরীকে বিদ্রুপ করে বলেছিলেন, মিজান চৌধুরী সাহেব যখন বক্তৃতা করতে দাঁড়ান তখন আমার মনে পড়ে পাগলা ফুটবলার রাজা মিয়ার কথা। রাজা মিয়ার পায়ে বল গেলে দু’দিকের গোল কিপারকেই সামাল থাকতে হতো। কারণ, রাজা মিয়া যে কখন কোন দিকে গোল দিবে তার কোনো ঠিক ছিল না। এরপর আত্মপক্ষ সমর্থনে মিজান সাহেব দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমার স্ত্রীর নাম সাজেদা চৌধুরী। তাই এ নামের প্রতি আমার বিশেষ দুর্বলতা আছে। মিসেস সাজেদা চৌধুরী আমার সাবেক রাজনৈতিক সহচরী। সেই যৌবনকাল থেকে দু’জনে আওয়ামী লীগ করেছি একসঙ্গে বহুকাল। আমাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতার কোনো অভাব ছিল না। আজ দুঃখ পেলাম মিসেস চৌধুরীর এই অভিযোগ শুনে যে, আমি নাকি সঠিক গোলপোস্ট চিনিনা। অথচ মিসেস চৌধুরী নিজে খুব ভালো করেই জানেন যে, আমি সঠিক গোলপোস্ট খুব ভালো করেই চিনি এবং দক্ষ শটে আমি সঠিক জায়গাতেই গোল করতে জানি। এখন আপনার কথা শুনে তারেক চৌধুরীও যদি মিজান চৌধুরীর মত এমন কিছু বলেন তখন আপনি কি উত্তর দিবেন! ভদ্র মহিলা নিচু স্বরে বললেন, সাংবাদিকরাও খেলতে জানেন, দক্ষ শটে গোলও করতে জানেন। বলে মুচকি হেসে স্থান ত্যাগ করলেন।

ইনজুরির হানা:- ‘সুরমা এন্ড পত্রিকা ইউনাইটেড’ এর শামসুল আলম লিটন ও ‘বিলেত’ এর সালাউদ্দিন শাহিন আহত হয়ে মাঠ ছেড়েছেন। শামসুল আলম লিটন শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন। সালাউদ্দিন শাহিনের মাথার আলগা চুল খুলে পড়ে যাওয়ায় খোলোয়াড় ও দর্শকরা প্রথমে খুবই ভয় পেয়েছেন। দর্শকরা ভেবেছেন সালাউদ্দিন শাহিনের মাথা খুলে পরে গেছে। যাইহোক, পড়ে গিয়ে তিনি মাঠেই জ্ঞান হারিয়েছেন। এম্বুলেন্স আসার আগেই তিনি অবশ্য আ.স.ম মাসুমের চেষ্টায় জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন। বাসায় গিয়ে তারা ভালো আছেন জেনে খোলোয়াড় ও দর্শকরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছেন।

স্টার অব দ্যা ডে:- ‘বিলেত’ এর সালাউদ্দিন শাহিন মাঠে পরে জ্ঞান হারালে খেলা বন্ধ করে আ.স.ম মাসুম যেভাবে তার মুখে নিজের মুখ লাগিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখতে সাহায্য করেছেন, মাসুমের চেষ্টায় যেভাবে তিনি জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন তা দেখে দর্শকরা আ.স.ম মাসুমকেই ‘স্টার অব দ্যা ডে’ বলেছেন।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব ইজ দ্যা বেস্ট:- খেলা শেষে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মোহাম্মদ জুবায়ের ক্লাবের এক্সিকিউটিভ মেম্বার কাইয়ুম আব্দুল্লাহ, এমরান আহমেদ, রেজাউল করিম মৃধা ও অন্যান্যদের নিয়ে মাঠের পাশে পরে থাকা পানির বোতল, কলার খোসা, বিরিয়ানির পরিত্যক্ত কনটেইনার পরিস্কার করেছেন, ব্যাগে ভরে বিনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজটা সহজ করেছেন, তা দেখে মাঠের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা খুবই খুশি হয়েছেন। বলেছেন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব ইজ দ্যা বেস্ট।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বর্তমান সদস্যদের জন্য ২৫% ডিসকাউন্টে মেম্বারশীপ

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব কভিড কালিন বাস্তবতায় মেম্বারশীপ ফিতে ২৫% ডিসকাউন্ট দিয়েছে। তবে এটা শুধুমাত্র নবায়নের জন্য।

# ব্যাংক ট্রান্সফার বা চেক-এর মাধ্যমে ফি দিতে হবে

# ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন

চলমান ৮০ পাউন্ড নির্ধারিত রেখে শুধুমাত্র কভিড বাস্তবতার আলোকে বর্তমান মেম্বারদের জন্য এই বিশেষ বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে বর্তমান মেম্বারদের জন্য ফি ৬০ পাউন্ড। সম্প্রতি ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া নতুন আবেদনকারীর ফি ১০০ পাউন্ড থাকছে। আবেদন সফলকাম না হলে ২০% এডমিন ফি কেটে রাখা হবে।
আগ্রহী আবেদনকারীকে মেম্বারশীপ পলিসির পরিবর্তন ও সংযোজনের আলোকে ছবিসহ ফরম পূরণ করতে হবে। সরাসরি ক্লাব অফিসে অথবা পোষ্টে জমা দিতে হবে। এড্রেস এবং ব্যাংকিং তথ্য ফরমেই রয়েছে।
পুরো পলিসি পেপার এবং ফরম ভালো করে পড়ে সংশ্লিষ্ট ডক্যুমেন্টসহ আবেদন জমা দেয়ার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মূলত নতুন সংযোজন পুরোনো পলিসিকে সুনির্দিষ্ট করেছে, বড়ধরনের মৌলীক পরিবর্তন আসেনি। যেমন-পুরোনো পলিসি অনুযায়ী আবেদনকারীকে নিউজ মিডিয়ায় দু বছরের ধারাবাহিকতার উল্লেখ করতে হবে।
এবার ফি নেয়া হবে শুধুমাত্র ব্যাংক ট্রান্সফার এবং চেক-এর মাধ্যমে। নিজের ব্যাংক একাউন্টের বাইরে একান্ত নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের একাউন্টের চেক গৃহীত হবে। নিজের একাউন্ট থেকে ব্যাংক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আবেদনের সাথেই রিসিট কপি দিতে হবে। নতুন আবেদনকারীর মিডিয়া কর্তৃপক্ষের একটি রেফারেন্স লাগবে। উল্লেখ থাকতে হবে তিনি এতে দু বছর যাবত যুক্ত। না হলে অপর কতৃপক্ষেরও রেফারেন্স আনতে হবে। রিনিউ আবেদনে যদিও রেফারেন্স লাগবে না, কিন্তু সর্বশেষ কর্মস্থলে দু বছরের কম থাকলে একটি রেফারেন্স দিতে হবে।

সুনির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়াসহ
মেম্বারশীপ পলিসি:
সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকতার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশ্য মেম্বার পদে আবেদনের বেলায় ইউকেতে নূন্যতম দুই বছর বসবাস এবং সর্বশেষ দু’বছর ধারাবাহিকভাবে মিডিয়ায় সক্রিয় থাকার যে সাংবিধানিক পুরোনো পলিসি রয়েছে সেটি এখোনো বহাল রয়েছে। যোগ হয়েছে কিছু প্রমাণাদি জমা দেয়ার বিষয়। যেমন: টিভি ও অনলাইন এবং পত্রপত্রিকার রিপোর্টারকে সর্বশেষ বছরে অন্তত ৫টি রিপোর্ট প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। ফ্রিল্যান্স হলে যথার্থ প্রমাণ থাকতে হবে এবং আবেদনের সাথে দিতে হবে অন্তত ৫টি প্রতিবেদন/ লেখা। আর যারা প্রত্যক্ষ সাংবাদিকতায় নন তারা নিউজ এবং কারেন্ট এফেয়ার্সে কীভাবে যুক্ত তার তিনটি বা চারটি সঠিক উদাহরণ দেবেন। উল্লেখ্য, নতুন নিয়মে মেম্বারশীপ আবেদনের শেষ দিন ৩১ অক্টোবর।

অনলাইন থেকে আবেদনের বেলায়
অতিরিক্ত শর্তাবলী:
সবার জন্য কিছু পলিসি ছাড়াও অনলাইন মিডিয়ার আবেদনকারীকে অতিরিক্ত কিছু ডক্যুমেন্ট দিতে হবে। সংবাদকর্মী হিসেবে সক্রিয় থাকতে হবে বৃটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ব্যাংক একাউন্ট/লিমিটেড কোম্পানী থাকতে হবে। ফেইসবুক পেইজে নূন্যতম ১০ হাজার ফলোয়ার আর ইউটিউভ চ্যানেলের ক্ষেত্রে নূন্যতম ১ হাজার সাবসক্রাইবার হতে হবে।

ফাউন্ডিং ও মুক্তিযোদ্ধা মেম্বাররা
বিশেষ মর্যাদা পাবেন:
ইউকেজুড়ে ৩১৮ জন মেম্বারের ২৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবের ফাউন্ডিং মেম্বাররা আজীবন কোনো সক্রিয়তার ডক্যুমেন্ট জমা দেয়া ছাড়াই বিশেষ মর্যাদায় মেম্বার থাকবেন– ইসির প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্ত এসজিএমে পাশ হয়েছে। আর সদস্যের সম্পূরক প্রস্তাবে পাশ হয়েছে— ক্লাবের মুক্তিযোদ্ধা মেম্বাররাও আজীবন সমান মর্যাদা পাবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ক্লাবের সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের জন্য সদস্যপদ নবায়নের এই বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে। তাঁরা শুধুমাত্র ফি জমা দিয়ে সদস্য হবেন।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নিজস্ব প্রোপার্টির উদ্বোধন- খরচ ২০০ হাজার পাউন্ড, ২৮ বছরের সংগঠনে এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন

বাংলাদেশের বাইরে প্রথম ও পুরোনো বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব তাদের ক্রয়কৃত প্রপার্টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে মঙ্গলবার ৬ জুলাই। এর মাধ্যমে ক্লাবের ২৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কাঙিক্ষত কাজটি বাস্তবে পরিণত হলো। প্রায় দুশ’হাজার পাউন্ড ক্যাশ দিয়ে কেনা হলো এই প্রোপার্টি। ক্লাব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী এর আনুষ্ঠানিক ফিতা কাটেন, সাথে ছিলেন ক্লাব সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়ের ও ট্রেজারার আ স ম মাসুমসহ ইসি কমিটি এবং সাবেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
করোনা পরিস্থিতির বিধি নিষেধের কারনে বর্তমান ইসি কমিটির সাথে শুধুমাত্র ক্লাবে দায়িত্বপালনকারী সকল প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী, ট্রেজারার, ভাইস প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থেকে প্রোপার্টির উদ্বোধন করেন।

গ্রাউ-ফ্লোরে ফ্রন্ট গার্ডেন ও পার্কিং সুবিধা সমৃদ্ধ এই প্রোপার্টির মাধ্যমে বছরে ভাড়া ও মূল্যবৃদ্ধি সূত্রে অন্তত ১৫ হাজার পাউ- আয় করবে ক্লাব। পূর্ব ল-নের বার্কিং-এ প্রোপার্টি ক্রয় এবং ক্রয় পরবর্তী মেরামতসহ প্রায় ২০০ হাজার পাউ- খরচ হয়েছে। এই পুরো অর্থই গত ২০০৩ সাল থেকে ২০২১সাল পর্যন্ত ১৮ বছরে অন্তত চারটি ছোট বড় ফা-রেইজিং কার্যক্রমের মাধ্যমে উত্তোলিত হয়। কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবন্দ ও ব্যবসায়ীরা লাইফ মেম্বার হিসাবে অন্তর্ভূক্ত হয়ে এই সহযোগিতা করেন। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে সারা যুক্তরাজ্যে কর্মরত সাংবাদিক, মিডিয়া কর্মী মিলিয়ে ৩১৭ জন মেম্বার রয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মহিব চৌধুরী, সাবেক সভাপতিবৃন্দ যথাক্রমে মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সৈয়দ নাহাস পাশা, সাবেক সেক্রেটারী নজরুল ইসলাম বাসন, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রহমান ও আমিরুল চৌধুরী, সাবেক কোষাধ্যক্ষ মুসলেহ উদ্দিন, বর্তমান সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী, সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়ের, কোষাধ্যক্ষ আ স ম মাসুম, ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী মতিউর রহমান চৌধুরী, কমিউনিক্যাশন সেক্রেটারী মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ূম, আইটি সেক্রেটারী সালেহ আহমেদ, ইভেন্ট সেক্রেটারী রেজাউল করিম মৃধা, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ূম, পলি রহমান, রুপি আমিন ও শাহনাজ সুলতানা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মহিব চৌধুরী বলেন, জীবনে ব্যাক্তিগতভাবে নানা প্রোপার্টি ক্রয় করেছি। কিন্তু সম্মিলিতভাবে এই কাজটির আমার নেতৃত্বে শুরু করেছিলাম, সেটা আজ বাস্তবায়ন হলো যেটা আমার জীবনের অন্যতম বড় তৃপ্তি। এছাড়া একটি সংগঠনে বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারী ও ট্রেজারার ঐক্যবন্ধ থাকলে যে অনেক কিছু অর্জন করা যায়-তার প্রমান হচ্ছে এই সফলতা।

সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ বলেন, আজ একটি কমিটম্যান্ট পূর্ণ হলো। এই নিজস্ব প্রোপাটি শুধুমাত্র প্রেস ক্লাবের জন্য নয় কমিউনিটির অন্যান্য সংগঠনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, প্রথম যখন ফা-রেইজিং শুরু হয় তখন মাইলের পর মাইল ড্রাইভ করে বৃটেনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়েছি। এতো বছর ধরে রক্ষিত সেই অর্থগুলো সঠিকভাবে কাজে লেগেছে এটা বিশাল অর্জন। আগামীতে এই স্বপ্ন আরো বড় হবে আরো বিশাল হবে এবং এরও একদিন বাস্তবায়ন হবে।

ক্লাবের বর্তমান সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, এই অর্জন প্রেসক্লাবে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যারা দায়িত্বে আছেন ও ছিলেন তাদের। আমরা বর্তমান কমিটি এর চুড়ান্ত বাস্তবায়ন করেছি, কিন্তু এর পেছনে ভুমিকা আছে সকল নেতৃবৃন্দের। আমরা কৃতজ্ঞ তাদের সকলের প্রতি।
বর্তমান সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, আমরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ আমাদের ডোনার ও লাইফ মেম্বারদের প্রতি। সর্বশেষ ৩০ হাজার পাউ- সংগ্রহে ব্যক্তিগত ভাবে ৫ হাজার পাউ- দানকারী কর্পোরেট মেম্বাররা ছিলেন বিশেষ সহায়ক। দাতারা এবং সবাই বাংলা মিডিয়াকে সম্মানের চোখে দেখেন বলেই প্রেসক্লাব কমিউনিটির মধ্যে অন্যতম মর্যাদাশীল সংগঠনে পরিণত করেছে।
বর্তমান কোষাধ্যক্ষ আ স ম মাসুম বলেন, ডোনার ও সাধারণ মেম্বারদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এই প্রপার্টি কেনার মধ্য দিয়ে ল-ন বাংলা প্রেসক্লাবের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হলো। এখান থেকে বছরে যে ভাড়া আসবে সেটা দিয়ে ব্রিকলেনের অফিসের খরচ চলবে, সেই সাথে ক্লাবের সদস্য ফি, প্রেস-কনফারেন্স ফিসহ অন্যান্য যেসব আয় আছে সেগুলো দিয়ে এখন ক্লাবের এক্টিভিটিস ভালোভাবে চলবে।

READ MORE
This website uses cookies to provide user authentication. Please indicate whether you consent to our site placing cookies on your device and agree with our Privacy Policy. To find out more, please read our Privacy and Cookie Policy