লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের একুশের অনুষ্ঠানে বক্তারা
তরুণ প্রজন্মকে বাংলার প্রতি আকৃষ্ট করতে
তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ভূমিকা বাড়াতে হবে
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ‘প্রবাসে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, দেশে-বিদেশে তরুণ প্রজন্মকে বাংলার প্রতি আকৃষ্ট করতে হলে বাংলা ভাষায় মূল্য সংযোজন করতে হবে। এর একটা কার্যকর ও ভালো উপায় হচ্ছে- এই ভাষার উপযোগিতা বৃদ্ধির জন্য তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলার ভূমিকা বাড়ানো বা কার্যকর করে তোলা। আর বিশেষ করে বিলেতে বাংলা ভাষা টিকিয়ে রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে বাংলা শেখাতে হবে । দুইভাবে এই কাজটি করতে হবে। প্রথমতঃ মা-বাবাদেরকে ঘরে সন্তানের সঙ্গে বাংলায় কথা বলতে হবে এবং দ্বিতীয়তঃ বিলেতের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকার স্কুলগুলোর পাঠ্যসূচীতে বাংলা ভাষার অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করতে হবে ।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির সেমিনার হলে মহান একুশে ফেব্রুয়ারী জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আলোচনাপর্বে বক্তারা কথাগুলো বলেন।
‘বাঙালি নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষা শিখাতে আগ্রহী করে তুলতে করণীয়’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন দৈনিক প্রথম আলোর সাবেক পরামর্শক সম্পাদক ও বিসিসি বাংলার সাবেক সম্পাদক কামাল আহমদ এবং ‘বিলেতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন লন্ডনে শহীদ মিনার ও নজরুল সেন্টারের অন্যতম প্রতিষ্ঠা এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল রাজন উদ্দিন জালাল।
ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ।
অনুষ্ঠান শুরু হয় এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে । নীরবতা পালনকালে বায়ান্নোর ভাষা শহীদ ও সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে হতাহতদেরকে গভীর সহানুভুতির সাথে স্মরণ করে নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাস মতে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় ।
প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচিত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানের অতিথি ও ক্লাবের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে গানটি পরিবেশন করেন চ্যানেল এস-এর সিনিয়র সংবাদ উপস্থাপক রুপি আমিন। পরে একুশের গান রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে প্রয়াত আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা একটি লেখা পড়ে শোনান সিনিয়র সাংবাদিক টিভি উপস্থাপিকা উর্মি মাযহার। দুই অতিথি বক্তার বক্তব্যের ওপর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ক্লবের সদস্যরা । আলোচনাপর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় একুশের কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কামাল আহমদ বলেন, আর্থিক লাভালাভের নিরিখে কোনো ভাষার গুরুত্ব কত, সেটাই এখন বিশ্বে ভাষার প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করে । কারণ নতুন প্রজন্ম ভবিষ্যৎ জীবন–জীবিকার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাকেই সবচেয়ে জরুরি মনে করে। কোন ভাষায় কত মানুষ কথা বলেন, তার নিরিখে বিশ্বে এক নম্বরে আছে ইংরেজি, যা প্রায় দেড় শ কোটি মানুষের ভাষা। সংখ্যার দিক থেকে সপ্তম অবস্থানটি হচ্ছে বাংলাভাষীদের, যাদের সংখ্যা হচ্ছে ২৭ কোটি। কিন্তু অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিচারে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভাষার তালিকায় বাংলা নেই।
তিনি আরো বলেন, দেশে এবং বিদেশে তরুণ প্রজন্মকে বাংলার প্রতি আকৃষ্ট করতে হলে বাংলা ভাষায় মূল্য সংযোজন করতে হবে। এর একটা কার্যকর ও ভালো উপায় হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলার ভূমিকা বাড়ানো বা কার্যকর করে তোলা। একইভাবে শিল্প–সাহিত্যে, সিনেমা–গানে বাংলায় যদি আলোড়ন তোলার মত সৃজনশীল কিছু হয়, তাহলে সেগুলোও অভিবাসী তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে পারে।

বৃটেনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যা, তাতে সরকার দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে স্কুলে বাংলা পড়ার পিছনে বিনিয়োগ বাড়াবে, তেমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি বৃটিশ-বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে তোলা দরকার। কিন্তু তার চেয়েও বেশি দরকার বিকল্প হিসাবে নিজেদেরও উদ্যোগ নেওয়া। বৃটেনেও বাংলা একাডেমির মত কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার যেখানে বাংলা শেখানো, চর্চা ও বিকাশের ব্যবস্থা থাকবে । বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিস্টিটিউটেরও এক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হলে এবং সুযোগ সৃষ্টি হলে ভারতের মত প্রবাসীদের মধ্যে দেশে ফেরার আগ্রহ তৈরি হতে পারে। তবে, সেখানেও শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হলে হবে না, দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফিরতে হবে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আইন থাকলে চলবে না। কথা বলার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে আগামী প্রজন্ম দেশে স্থায়ীভাবে ফিরতে আগ্রহী হবে না।

রাজন উদ্দিন জালাল বলেন, বিলেতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ ইতিবাচক নয়। আমাদের এই প্রজন্মের মানুষ যখন থাকবেনা তখন বাংলায় কথা বলবে কে? যারা কথা বলবে তারা হলো আমাদের ছেলেমেয়েরা। কিন্তু তারা তো বাংলা শিখছে না। বাংলার প্রতি তাদের আগ্রহ নেই। তাছাড়া পূর্ব লন্ডনে আভ্যন্তরিন মাইগ্রেশন চলছে। টাওয়ার হ্যামলেটস থেকে বাংলাদেশীরা বেরিয়ে গিয়ে এখন নিউহ্যাম, বার্কিং এন্ড ডেগেনহ্যাম, হেইভারিং ও এসেক্স এলাকায় বসবাস করতে শুরু করছেন । টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাস ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় মানুষ এখান থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে হলে নজরুল সেন্টারকে পুনরায় জাগ্রত করতে হবে। অথবা নজরুল সেন্টারের মতো একটি সংস্কৃতি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে- যেখানে বাঙালিরা প্রতিদিন আসতে না পারলেও অন্তত ছুটির দিনে আসবে এবং ভাষা ও সংস্কৃতিচর্চার বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করবে।

ক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সন্তানদের বাংলা শেখানোর কাজটি আমদের নিজেদের ঘর থেকে শুরু করতে হবে। তাহলে অন্তত প্রাথমিক জ্ঞানটুকু আমরা দিতে পারবো। তিনি বলেন, এ লেভেলে সাধারণত তিনটি বিষয় শিক্ষার্থীরা পছন্দ করে। তার মধ্যে তারা যদি বাড়তি বাংলা বিষয়টি নেয় এবং ওই বিষয়ে যদি সে ভালো ফলাফল করতে পারে তাহলে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পথ অনেক সুগম হবে। ভালো ইউনিভার্সিটিতে তাঁর পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ বাড়বে।
সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অন্তত ৭টি স্কুলের ‘ন্যাশনাল কারিকুলামে’ বাংলা ভাষা অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছে। একসময় মা-বাবারা তার সন্তানকে স্কুলে বাংলা বিষয়টি নিতে উৎসাহী করে তুলতেন। কিন্তু এখন সেটা খুবই কম । তাছাড়া, অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ কৌশলে বাঙালি শিক্ষার্থীদের বাংলা বিষয় নিতে নিরুৎসাহিত করে থাকে। তাই ঘরে ও স্কুলে বাংলা পড়তে সন্তানদের আগ্রহী করে তুলতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে অভিভাবকদেরকে। তাহলে বিলেতে আরো অনেকদিন বাংলা টিকে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে ।
আলোচনাপর্বের শেষদিকে অনুষ্ঠানের স্পনসর ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের ফাউন্ডার ও সিইও ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমানের হাতে ‘প্রশংসা সনদ’ তুলে দেওয়া হয়।
একুশের কবিতা আবৃত্তি ও গান :
দ্বিতীয় পর্বে ক্লাবের সহকারি সাধারণ সম্পাদক সাঈম চৌধুরী ও নির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় একুশের কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা । এতে কবিতা আবৃত্তি করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য জিয়াউর রহমান সাকলেন, শহিদুল ইসলাম সাগর, আমিমুল আহসান তানিম, সৈয়দ রুম্মান, রোমান বখত চৌধুরী, মিছবাহ জামাল ও মুনিরা পারভীন এবং লণ্ডন সফররত শিক্ষাবিদ শওকত আলী । মাতৃভাষা বিষয়ক পুঁথি পাঠ করেন চ্যানেল এস এর ক্যাম্ব্রিজ প্রতিনিধি সাংবাদিক মামুন রশিদ।
গান পরিবেশন করেন ক্লাব সদস্য ও চ্যানেল এস-এর জেষ্ঠ্য সংবাদ উপস্থাপক রুপি আমিন।
ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।
প্রাণবন্ত আয়োজনে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত: বাংলাপাড়ায় নিজস্ব অফিসভবন ক্রয়ের প্রত্যাশা
প্রাণবন্ত আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৩ । লন্ডন ও বার্মিংহ্যামসহ বৃটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আগত বিপুলসংখ্যক সদস্যের স্বতঃষ্ফুর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সাধারণ সভায় টাওয়ার হ্যামলেটসের ‘বাংলাপাড়া’য় ক্লাবের জন্য একটি নিজস্ব ভবন ক্রয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
২৯ জানুয়ারি রোববার পূর্ব লন্ডনের মাদানী ভেনুতে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় ক্লাব-সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্লাবের প্রয়াত নির্বাহী সদস্য, সাধারণ সদস্য, আজীবন সদস্য ও সদস্যদের স্বজনদের মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় । নীরবতা পালনকালে সকলে নিজনিজ ধর্ম বিশ্বাস মতে প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন ।

সভাপতির বক্তব্যে এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে একটি ভবন ক্রয়ের স্বপ্ন দেখি আমরা । এ লক্ষ্যে কমিউনিটির শীর্ষ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে । কীভাবে একসঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি ভবন ক্রয় করা যায়- যে ভবনে প্রতিটি সংগঠনের নিজস্ব অফিস থাকবে এবং এক জায়গা থেকে সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে । সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এর সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করে দেখছেন । আশাকরি, সকলে একযোগে এগিয়ে এলে আমরা একটি নিজস্ব ভবন ক্রয় করতে পারবো।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ তাঁর উপস্থাপিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেন, কোভিড নাইন্টিনের নির্জীবতার পর গত ১ বছর প্রেস ক্লাব ছিলো সবচেয়ে বেশি জমজমাট। বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের পাশাপাশি আমরা ১৬টি ইভেন্ট আয়োজন করতে সক্ষম হই । এছাড়া ৪৫ টি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করি, যা ছিলো এ যাবতকালে সর্বোচ্চ । প্রেস ক্লাব অফিসকে প্রাণবন্ত করতে ১২টি ‘সদস্য সন্ধ্যা’ আয়োজন করি । আগামী বছর প্রেস ক্লাবকে আরো গতিশীল করতে আমরা “হাইয়েস্ট প্রেজেন্স এন্ড রিপোর্টং অন প্রেস কনফারেন্স” এবং ‘বেস্ট পারফর্মেন্স ইন দ্যা ইসি’ নামে দুটো অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তনের ঘোষনা
দিচ্ছি । আমরা আশাবাদী, এই দুটো অ্যাওয়ার্ড প্রেস ক্লাবের কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা আনবে।
তাইসির মাহমুদ আরো বলেন, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন এলে আমরা দুটো এলায়েন্সে বিভক্ত হয়ে নির্বাচন করি । দুটো এলায়েন্স থেকে নির্বাচিত হই । কিন্তু নির্বাচনের পর আমরা একটি টিম হিসেবেই কাজ করি । ক্লাবের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যূতে আমাদের মধ্যে দ্বিমত হতে পারে। কিন্তু দিনশেষে আমরা একই পরিবারের সদস্য। এটিই এই ক্লাবের ঐতিহ্য এবং ঐক্য ও সম্প্রীতির একটি বড় দৃষ্টান্ত । আমরা এই ঐক্যকে ধরে রেখে আগামী দিনগুলোতে একযোগে কাজ করতে চাই।

সভায় আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ। তিনি জানান প্রেস ক্লাবের একমাত্র আয়ের উৎস সংবাদ সম্মেলন। এ থেকে গত এক বছরে আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পাউন্ড ।
সভায় লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট মহিব চৌধুরী, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আসম মাসুম ও মোসলেহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এতে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নবাব উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের, সিনিয়র সাংবাদিক ফরিদ আহমেদ রেজা, তৌহিদ চৌধুরী, আকরাম হোসেন, মোস্তাক বাবুল, কবি আবদুল কাইয়ুম, অনুপম সাহা, বাতিরুল হক সরদার, সৈয়দ হিলাল সাইফ, আবুল কাদির মুরাদ, আবদুল আহাদ সুমন, জয়নাল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম বেলাল, মাহবুব আলী খানশূর, কয়েস আহমেদ রুহেল, সেলিম উদ্দিন, আহমেদ কবির, লোকমান হোসেন কাজী, শামসুল তালুকদার, জি আর সোহেল, মোঃ কাওসার, খালেদ মাসুদ রনি, সাহিদুর রহমান সোহেল, আতিকুর রহমান
নাহিদ জায়গীরদার, আলাউর রহমান খান শাহীন ও মুহাম্মদ এ এইচ খান। সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি । প্রশ্নোত্তর-পর্ব শেষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ সভার সমাপ্তি ঘটে । সাধারণ সভা উপলক্ষে প্রেস ক্লাবের এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে ২৪ পৃষ্ঠার একটি বুকলেট প্রকাশিত হয়।

সাধারণ সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় সম্মাননা এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান । প্রেস ক্লাবকে আইনী সহায়তার জন্য বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার ইসলাম খান এবং ক্লাবের প্রপার্টি ক্রয়ে সহযোগিতার জন্য সোসাইটি অব বৃটিশ-বাংলাদেশী সলিসিটর্সের (এসবিবিএস) প্রেসিডেন্ট দেওয়ান মাহদীকে এপ্রিসিয়েশন এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। দেওয়ান মাহদী বর্তমানে বাংলাদেশে থাকায় তাঁর পক্ষে এওয়ার্ডটি গ্রহণ করেন ‘এসবিবিএস’ এর জয়েন্ট সেক্রেটারি মাহাদী হাসান।
এছাড়া, ক্লাবের কর্পোরেট সদস্য আব্দুল করিম নাজিম ও মঞ্জুরুস সামাদ চৌধুরীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় । এই দু’জন বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করায় আব্দুল করিম নাজিমের পক্ষে তাঁর ভাগনা জয় আহমদ ও মঞ্জুরুস সামাদ চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ছেলে মমশাদ চৌধুরী ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।
এছাড়া ৩ জন আজীবন সদস্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এই তিনজনের মধ্যে একজন হলেন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বৃটিশ ডিজাইনার কোম্পানী লন্ডন ট্রাডিশনের স্বত্তাধিকারি মামুন চৌধুরী, বৃটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ডাইরেক্টর ড. সানাওয়ার চৌধুরী ও বিসিএ সাউথ-ওয়েস্ট রিজিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান আকিক। এই দুইজন বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করায় ড. সানাওয়ার চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ছেলে শাফিউল চৌধুরী ও ফজলুর রহমান আকিকের পক্ষে তাঁর ছেলে ফহাদ সামিউর রহমান ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। এসময় তাদেরকে ফুলের তোড়া দিয়েও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সদস্য সংখ্যা (৩ জন এসোসিয়েট সদস্যসহ) ৩২৩ জন । আর ৪জন কর্পোরেট সদস্য ও ৮ জন দাতা সদস্যসহ আজীবন সদস্য সংখ্যা ১০৮ জন। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন বর্তমানে ৩০ বছর পার করছে।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২২।
গত কাল ১৮ সেপ্টেম্বর রোববার পূর্ব লন্ডনের মাইল এন্ড স্টেডিয়ামের পিচে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো উৎসবমুখর পরিবেশে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২২ । এই টুর্নামেন্টে চ্যানেল এস চ্যাম্পিয়ন এবং ওয়ানবাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড রানার আর্প হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
সকাল ১১.০০টা থেকে খেলোয়াররা মাঠে আসেন। ১১.৩০ সকল টিমের সামনে খেলার ব্রিফিং তুলে ধরেন টুর্নামেন্ট ম্যানেজমেন্ট ৫০ এক্টিভ ক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনফর আলি। দুপুর ১২.০০টায় দুইটি পিচে খেলা শুরু হয়।

টুর্নামেন্টে পরিচালনায় ছিলেন চীফ কোঅরডিনেটর ডঃ জাকির খান এবং কোঅর্ডিনেটরের দ্বায়িত্ব পালন করেন মোঃ রেজাউল করিম মৃধা।
সহযোগিতায় ছিলেন- মোঃ রহমত আলি (সহসভাপতি)
সালেহ আহমদ (ট্রেজারার)আব্দুল কাইয়ুম (এ্যাসিসটেন্ট ট্রেজারার)এমরান আহমদ (অর্গেনাইজিং এ্যান্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি)আনোয়ার শাহজাহান (নির্বাহী সদস্য)।মোহাম্মদ সোবহান (সদস্য) হাসনাত চৌধুরী (সদস্য)
খেলার সুবিধার্থে ১০টিম কে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং প্রথম পর্বে ১০টিম অংশ গ্রহন করে পয়েন্ট অনুসারে দুই গ্রুপ থেকে দুইটি করে টিম সেমি ফাইনালে যায় যায়। ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড এবং আবাহনী খেলা হয়। ফাইনালে উঠে ওয়ান বাংলা এবং অপর গ্রুপ থেকে বাংলা কাগজ এবং চ্যানেল এস এর খেলা হয়।চ্যানেল এস ফাইনালে যায়।
ফাইনাল খেলাটি ছিলো অত্যান্ত আনন্দ পূর্ণ। ১০+১০ মিনিটের খেলায় ১ টি ১ টি গোলে ড্র হলে খেলা গড়ায় ট্রাইবেকারে । ট্রাইব্রেকারে চ্যানেল এস একটি গোল প্রতিহত করে চ্যানেল এস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
টুর্নামেন্ট শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী । লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন টুর্নামেন্টের চীফ কো-অর্ডিনেটর ড. জাকির খান, প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের ও ক্লাবের ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা।
অতিথি ও ক্লাব নেতৃবৃন্দ চ্যাম্পিয়ন টিম কে £৫০০ পাউন্ড প্রাউজমানি সহ ট্রফি এবং রানার্স আপ টিমের হাতে ট্রফি সহ £২৫০ পাউন্ড প্রাইজমানি তুলে দেন। সেরা গোলদাতার পুরস্কার পান রুহেল, গেরা গোলকিপার কয়েস এবং ম্যান অফ দি ফাইনাল বাহার ট্রফি অর্জন করে।তাছাড়া, ১০ টিমের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে প্রেস ক্লাবের মনোগ্রাম-খঁচিত ম্যাডেল পরিয়ে দেয়া হয়।
টুর্নামেন্টে বিভিন্ন মিডয়া হাউস থেকে ১০টি টিম অংশগ্রহণ করে। টিমগুলো হলো এসপি ইউনাইটেড, সাপ্তাহিক দেশ, এফসি এলবি২৪, বাংলা পোস্ট, বাংলা কাগজ, এম.এ.এইচ লন্ডন টিভি, চ্যানেল এস, আবাহনি, ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড ও মোহামেডান স্পোর্টি ক্লাব।
টুর্নামেন্টের প্রধান স্পনসর ছিলেন ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান ও শেফ অনলাইন-এর সিইও এম এ মুনিম সালিক। ১০টিমের পৃথক স্পনসর ছিলো মিন্ট ক্যাটারার্স, ল্যান্ডসবারি, রিয়া ইন্টারন্যাশনাল মানি ট্রান্সফার, কম্পাস, প্রিমিয়ার প্রোপার্টি, হোয়াইট টাউন লন্ড্রি, এভারার্ট কন্সট্রাকশন্স, ভেনটেজ ও পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট । ক্যাটারিং পার্টনার ছিলো রিজেন্ট লেইক ব্যানকুয়েটিং হল এবং টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনায় ছিলো ফিফটি এক্টিভ ক্লাব।
শুধু খেলোয়াররাই নন। উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সম্মানীত মেম্বারগণ, ব্যাবসায়ীগণ, স্পন্সরগণ, কমিউনিটির নেতৃবর্গ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। লন্ডনে এবং লন্ডনের বাইরের সকল সাংবাদিকদের এক মিলন মেলায় পরিনত হয়।
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের মতবিনিময় সভায় রোজিনা ইসলাম : আমার জীবনে সকলের অবদান স্মরনীয় হয়ে থাকবে
লন্ডন, ২০ মে ২০২২: ‘সেরা অদম্য সাংবাদিক’ হিসেবে আন্তর্জতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রোজিনা ইসলাম বলেছেন, বৃটেনের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকসহ যারাই আমার জন্য প্রতিবাদ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যখন আমি আক্রান্ত হই, তখন দেশের সব স্তরের মানুষের পাশাপাশি বৃটেনের বাংলাদেশি সাংবাদিকেরা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।
একইভাবে গত একবছর চেনা, অচেনা যারা আমাকে সাহস যুগিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, আমার জন্যে রাস্তায় নেমে বা সামাজিক মাধ্যমে একটি শব্দও উচ্চারণ করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই । দুঃসহ দিনগুলোতে আমার ও আমার পরিবারের প্রতি যে সহমর্মিতা আপনারা দেখিয়েছেন আমি অভিভূত, আপ্লুত, কৃতজ্ঞ। এই ঋণ শোধ হবার নয়। আপনাদের বড়ত্বকে সম্মান জানাই, কুর্নিশ করি। আপনারা সকলে আমার ভালোবাসা নিবেন।”
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে “অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম।
গত ১৯ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ।
গত বছর পেশাগত দায়িত্বপালনকালে সচিবালয়ের ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে শারিরীক ও মানসিকভাবে হেনস্থা এবং গ্রেফতারের পর দেশে বিদেশে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন। লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাব মানববন্ধন আয়োজন করে রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবী জানায়।
এ প্রসংগে রোজিনা ইসলাম বলেন, দেশ- বিদেশের সাংবাদিকদের এমন সহযোগিতার জন্য আমি আজ আপনাদের সামনে। আমার জীবনে সকলের অবদান স্মরনীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি-বিরোধী সাংবাদিকতায় আমি কখনো ভয় পাই না। কারণ মৃত্যু তো একদিন আসবেই। সুতরাং সৎ সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনকল্যাণে কাজ করে মারা গেলেও তাতে দুঃখের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ২০ বছর বয়স থেকেই সাংবাদিকতা করছি। আমার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে কখনো অন্যায়ের সাথে আপোস করিনি। আমি এভাবেই সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবো।
বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার শুরুতে প্রখ্যাত সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যূতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং অনুষ্ঠানটি সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে নিবেদিত করা হয়।
প্রাণবন্ত আলোচনায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গুড জার্নালিজম অর্থাৎ ভালো সাংবাদিকতার জন্যই সেদিন সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষও আমার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। আসলে ভালো সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ মে রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিবের পিএ’র কার্যালয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে শারিরীক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয় । এরপর বৃটিশদের তৈরি সেই একশ বছরের পুরো ‘অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যক্ট’ আইনের আওতায় গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রিজন ভ্যানে একাকী তাঁকে কমপক্ষে ছয়ঘণ্টা থাকতে হয়। তাঁর জীবনে এটি ছিলো খুব কঠিন একটি সময়। এরপর তাঁকে জেলে পাঠানো হয় । তিনি কারাগারের জীবনকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ পান। নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেন । ৫ দিন জেলে বন্দী রাখার পর তাঁকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত তিনি জামিনেই আছেন । কিছুদিন পরপর আদালতে হাজির হতে হয় । গ্রেফতারের এক বছর পূর্ণ হলেও তিনি মামলা থেকে পুরোপরি খালাস পাচ্ছেন না । তাঁর এক্রেডিটেশন কার্ড ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে শর্তসাপেক্ষে। ছয়মাস পর পাসপোর্টটি ফেরত দিতে হয়। অন্যদিকে ঘটনার দিন যারা রোজিনা ইসলামকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করেছেন তাদের কোনো বিচার হয়নি । মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা ওইদিন সচিবালয়ে যারা রোজিনাকে হেনস্থা করেছে তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান ।
প্রেস ক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতায় যত প্রতিবন্ধকতা আসুক আমাদেরকে সেই চ্যালেঞ্জ নিতেই হবে। কারো হুমকি-ধামকীকে ভয় পেলে সৎ সাংবাদিকতা হেরে যাবে। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ বলেন, রোজিনা ইসলাম সাহসী সাংবাদিকতা অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মতবিনিময় সভায় প্রশ্নোত্তরপর্বে বক্তব্য রাখেন বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রযোজক সিনিয়র সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসাইন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, স্পেকট্রাম রেডিও বাংলার উপস্থাপক মিছবাহ জামাল, দৈনিক প্রথম আলোর লন্ডন প্রতিনিধি তাবারকুল ইসলাম পারভেজ, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু, সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুব আলী খানশূর, সাপ্তাহিক দেশ-এর বার্তা সম্পাদক ফয়সল মাহমুদ ও প্রেসক্লাবের আজীন সদস্য মানিক মিয়া।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক সুরমার বার্তা সম্পাদক কবি আব্দুল কাইয়ূম, এনটিভি ইউরোপের চীফ রিপোর্টার আকরামুল হোসাইন, ফটো সাংবাদিক জিআর সোহাইল, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি এমরান আহমদ, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল হান্নান, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, নির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসেন, নির্বাহী সদস্য সারওয়ার হোসাইন, সাংবাদিক হাসনাত চৌধুরী ও সাংবাদিক আব্দুল হান্নান
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের স্মরণসভায় হাইকমিশনার আবদুল গাফফার চৌধুরীর সৃষ্টিকর্ম ধরে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে
যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বলেছেন, প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর সৃষ্টিকর্ম ধরে রাখতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১৯ মে রোববার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টারে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত গাফ্ফার চৌধুরীর স্মরণসভায় স্মৃতিচারণকালে তিনি এ কথা বলেন।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাব সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক এমদাদুল হক চৌধুরী।
স্মৃতিচারণকালে হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর একটি অন্যরকম সম্পর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তিনি সবসময় আপোসহীন ছিলেন। রাষ্ট্রীয় খরচে আবদুল গাফফার চৌধুরী যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় খরচে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। মৃত্যুর পর বাংলাদেশে মরদেহ প্রেরণে প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন। তাঁর স্মৃতিতে ‘ আবদুল গাফফার চৌধুরী ফাউন্ডেশন’ ও তাঁর লন্ডনের বাড়িটিকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে তিনি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহযোগিতা কামনা করেন ।

প্রায় অর্ধশতাধিক অতিথির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত স্মরণসভা শুরু হয় এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। নীরবতা পালনকালে স্বস্ব ধর্মবিশ্বাস মতে গাফফার চৌধুরীর আত্মার শান্তি কামনা করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসেন এবং তাঁর একুশের গান রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বিবিসি বাংলার প্রযোজক সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন।
স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক নতুন দিন সম্পাদক মহিব চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক-কলামিস্ট গাজিউল হাসান খান, বিবিসি বাংলার সাবেক প্রযোজক উদয় শংকর দাশ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক জনমত সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনমতের সাবেক সম্পাদক নবাব উদ্দিন, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, শেখ মুজিব রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক লোকমান হোসেন, সাবেক সেক্রেটারি আবদুল আজিজ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও মাসিক দর্পণ সম্পাদক রহমত আলী, স্পেক্ট্রাম রেডিও বাংলার পরিচালক মিসবাহ জামাল, কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের, সাংবাদিক ও টিভি উপস্থাপক উর্মি মাজহার, চ্যানেল এস-এর চীফ রিপোর্টার ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের, বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী হিমাংশু গোস্বামী ও প্রেস ক্লাবের ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী । সংগীতশিল্পী হিমাংশু গোস্বামীর নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে একুশের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে স্মরণসভার সমাপ্তি ঘোষণা করা
হয়।
স্মরণসভায় স্মৃতিচারণকালে মহিব চৌধুরী বলেন, ১৯৮৭ সালে অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক নতুন দিনের সাথে সম্পৃক্ত হোন আবদুল গাফফার চৌধুরী। তিন বছর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। মহিব চৌধুরী জানান, গাফফার চৌধুরীকে নিয়ে তাঁর একটি বই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবিসি বাংলার সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসাইন গাফফার চৌধুরীর একুশের গান রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে বলেন- ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আবদুল গাফফার চৌধুরী ঢাকার রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ প্রতিপক্ষের আক্রমনে রাস্তায় পড়ে যান গাফফর চৌধুরী। পরবর্তীতে ওই দিন রাতেই শফিক রেহমানের
বাসায় বসে একুশে ফেব্রুয়ারির গানটি প্রথমে কবিতা আকারে রচনা করেন । পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে প্রখ্যাত সুরকার আলতাফ মাহমুদ কবিতাটিতে সুর দেন। তখন থেকেই কবিতাটি একুশে ফেব্রুয়ারির গান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
স্মরণসভায় অন্যান্য বক্তারা তাঁদের স্মৃতিচারণায় বলেন, গাফফার চৌধুরী শুধু বাংলা ভাষাভাষীর জন্য নয়, সমগ্র উপমহাদেশের বরেণ্য সাংবাদিক হিসেবে আজীবন বেঁচে থাকবেন। সাহিত্য ও সাংবাদিকতার প্রতিটি শাখায়ই ছিলো তাঁর গর্বিত পদচারণা । তবে তিনি তাঁর যে
সৃষ্টিকর্মের জন্য যুগযুগ বেঁচে থাকবেন, তা হলো তাঁর কালজয়ী একুশের গান। তাঁর অমর একুশের গান ততদিনই বেঁচে থাকবে, যতদিন বিশ্বে বাঙালি ও বাংলা ভাষা টিকে থাকবে।
উল্লেখ্য, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া গ্রামের জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণকারি গাফফার চৌধুরী গত ১৯ মে বৃহস্পতিবার লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যূবরণ করেন। তাঁর জীবনের ৪৮ বছরই কেটেছে বিলেতে । ২৮ মে শনিবার রাজধানী ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রী সেলিনা আফরোজের কবরের পাশে তিনি সমাহিত হন।
প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে হাইকমিশনারের মতবিনিময় : এনআইডি কার্ডের জন্য নাম নিবন্ধন করতে প্রবাসীদের প্রতি আহবান
লন্ডন, ১৮ মে ২০২২: লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাইদা মোনা তাসনিম এনআইডি কার্ডের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নাম নিবন্ধন করতে প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা যাতে এখানে বসেই তাদের এনআইডি কার্ড পেতে পারে সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সাথে তাঁর দফায় দফায় কথা চলছে । কমিশন যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদেরকে তাঁদের নাম রেজিস্ট্রি করতে আহবান জানিয়েছে । ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬শ প্রবাসী তাদের নাম রেজিস্ট্রি করেছেন । যারা নাম রেজিস্ট্রি করবেন তাঁরাই সকলের আগে কার্ড পাবেন । নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যে আসবেন এবং লন্ডন, বার্মিংহ্যাম ও মানচেষ্টারে অস্থায়ী অফিস স্থাপন করে কার্ডগুলো প্রদান করবেন । তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে “অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফর এনআরবি” নামে একটি পোর্টাল আছে। প্রবাসীদের প্রতি আমাদের আহবান, আপনারা যত বেশি বেশি পারবেন পোর্টালে গিয়ে নাম নিবন্ধন করবেন। এতে কিছু ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। ডকুমেন্ট একবারে আপলোড করা সম্ভব না হলে সেগুলো সংগ্রহ করে আপলোড করবেন । সবগুলো ডকুমেন্ট আপলোড হয়ে গেলে তারা আপনাকে ভোটার হিসেবে রেজিস্ট্রি করে নেবে । আর রেজিস্ট্রি হয়ে গেলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা যখন যুক্তরাজ্যে আসবেন তখন আপনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এনআইডি কার্ড পেয়ে যাবেন। এ ব্যাপারে হাইকমিশনরে কনসুলার সেকশনে যোগাযোগ করলেও বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দেয়া হবে ।
সাইদা মোনা তাসনিম গত ১৭ মে মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনফারেন্স রুমে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে উপরোক্ত আহবান জানান । হাইকমিশনার প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সম্মানে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন । তিনি এসময় প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
হাইকমিশনার বলেন, ব্রিকলেনের ওয়েলফেয়ার সেন্টারটিতে একসময় কনস্যূলার সেবা দেয়া হতো । কিন্তু আজানা কারণে প্রায় ১০ বছর এই সার্ভিস বন্ধ ছিলো । তবে গত বছরের শেষ দিক থেকে আমরা আবারও সার্ভিস শুরু করেছি। গত নভেম্বর ও জানুয়ারিতে দুইটি কনসুলার ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে । আগামী জুলাই মাসে আরো একটি সার্জারি অনুষ্ঠিত হবে। এই সার্ভিস আমরা অব্যাহত রাখবো । তিনি বলেন, কনসুলার সার্ভিস শুরু করার পর ব্যাপক সাড়া মেলেছে। আমরা চাই কমিউনিটির মানুষের দোরগোড়ায় আমাদের সেবা পৌঁছে দিতে।
হাইকমিশনের পাসপোর্ট সেকশনকে আরো সম্প্রসারণ করে কীভাবে প্রবাসীদের জন্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানো যায়-এমন প্রশ্নের জবাবে সাইদা মোনা তাসনিম বলেন, তিনি হাইকমিশনার নিযুক্ত হয়ে লন্ডন আসার দুইদিনের মাথায় হাইকমিশন ভবনের প্রতিটি বিভাগ সরেজমিন ঘুরে দেখেন। গ্রাউন্ডফ্লোরের পাসপোর্ট সেকশনে গিয়ে দেখেন সেখানকার অবস্থা খুবই নাজুক। কনসুলার সেবা গ্রহণে প্রবাসী বাংলাদেশীদের যেমন কষ্ট হচ্ছে, তেমনী সেবাদাতা কর্মকর্তাদেরও অসুবিধা হচ্ছে। কারণ পাসপোর্ট সেকশনটি একেবারেই সংকীর্ণ এবং অপরিচ্ছন্ন। তাই তাৎক্ষনিকভাবে মন্ত্রনালয়ের সাথে কথা বলে বরাদ্দ এনে পাসপোর্ট সেকশনের আধুনিকায়নে কাজ করেন। এখন আগের চেয়ে অনেক স্বাচ্ছন্দে মানুষ সার্ভিস নিতে পারছে। তবে জায়গাটি সংকীর্ণ। এটি আরো সম্প্রসারিত হওয়া দরকার । তিনি বলেন, আমরা হাইকমিশন ভবনের লাগোয়া একটি নতুন প্রোপার্টি প্রায় ৩ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে ক্রয় করে নিতে সক্ষম হয়েছি। সেখান থেকে এখন পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়া হয় । তাছাড়া যারা পাসপোর্ট কিংবা নো-ভিসার প্রয়োজনে আসেন তাদের জন্য নতুন প্রোপার্টিতে আমরা ওয়েন্টি রুম রেখেছি । কাউকে এখন আর বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে মেঘ বৃষ্টি খেতে হচ্ছেনা। আমরা আমাদের সাধ্যমতো প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের চেষ্টা করছি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মুহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, জেনারেল সেক্রেটারি ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, ট্রেজারার সালেহ আহমদ, এসিসটেন্ট ট্রেজারার মোঃ আব্দুল কাইয়ূম, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু, নির্বাহী সদস্য সারওয়ার হোসাইন, নির্বাহী সদস্য শাহনাজ সুলতানা ও আলোকচিত্রী খালেদ হোসাইন।
হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেস মিনস্টার আশিকুন্নবী চৌধুরী, মিনিস্টার কনসুলার মোঃ মঈন খান, কাউন্সিলর মৌমিতা জিনাত ও প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।
বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার স্বাধীন মাতৃভূমিতে পা রাখার আগে, ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে ঐতিহাসিক সফর
৩১মার্চ, লন্ডনঃ বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার স্বাধীন মাতৃভূমিতে পা রাখার আগে, ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে ঐতিহাসিক সফর এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে তার বৈঠক করার মাধ্যমে একটি নতুন বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলেন এবং তা একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভকে ত্বরান্বিত করেছিল। আর গত পঞ্চাশ বছরে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে বড় ভূমিকা পালন করছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম।
বাংলাদেশ ব্রিটেন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর শীর্ষক এ আলোচনায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন,বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ’ থেকে ‘বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ’ হিসেবে বাংলাদেশের রূপান্তর ঘটেছে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে যুক্তরাজ্যের অংশীদারিত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি অনন্য এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা ভূমিকা রেখেছেন উল্লেখ করে আনোয়ার চৌধুরী ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, শিক্ষা, উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, সংস্কৃতি, ও রন্ধনশিল্পে বাংলাদেশিদের সৃজনশীল অবদানের প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ ও বৃটেনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বৎসরের সুবর্ণ মৈত্রী আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ থেকে আসা দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক তোশারফ আলী।
৩০ মার্চ বুধবার পূর্ব লন্ডনের লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী। এসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি সাঈম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী।

সেমিনারের শুরুতে ক্লাব প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা সাথে স্মরণ করেন এবং তিনি মনে করেন বাংলাদেশে ও বৃটেনের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তার অবদান বাংলাদেশী কমিউনিটির। এমদাদুল হক বিলেতে বাংলা ভাষাকে রক্ষায় সরকারি উদ্যোগে গ্রহণের দাবি জানান।

প্রধান অতিথি যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বাংলাদেশ ও বৃটেনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বৎসরে কমিউনিটির অবদানের কথা উল্লেখ করেন। দেশের উন্নয়নে প্রবাসীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের আরও বাড়াবে উল্লেখ করে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান মুনা তাসনিম। এছাড়াও খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে হোম অফিস ডায়ালগ নামে একটি নতুন কর্মসূচী হাতে নিচ্ছেন বলে জানান।
সেমিনারে অংশ নেয়া বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিক তোশারফ আলী একাত্তরের সময়ে বিবিসি নিউজ সহ যুক্তরাজ্যের তথা বৃটেনের প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন বাংলাদেশ ও বৃটেনের এই সম্পর্ক ৫০ বছর যা উন্নতি হয়েছে সামনে দিনে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

বাংলাদেশর গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া, শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে পড়তে আসেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সঠিক মূল্যায়ন, এছাড়াও বার্মিংহামে ২৮ শে মার্চ ১৯৭১ সালে দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন সেটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের আহ্বান জানিয়ে অথিতিদের প্রশ্ন করেন চ্যানেল এস সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, সাংবাদিক উদয় শংকর দাস, সৈয়দ এনাম, সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন ও সাংবাদিক সাইদুর রহমান সোহেল।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল মুক্তিযুদ্ধের উজ্জীবিত জীবনী গান। এতে অংশগ্রহণ করেন একাত্তরের রণাঙ্গণের কণ্ঠযোদ্ধা হিমাংশু গোস্বামী, ডাক্তার রুখসানা সাফা ও গৌরী চৌধুরী।

তৃতীয় পর্বে ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। এটি পরিচালনা ও সম্পাদনা করেন কবি দিলু নাসের।
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের একুশের আলোচনায় বক্তাদের অভিমত: সন্তানদের বাংলা শেখাতে মা-বাবাদেরকেই মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত একুশে ফেব্রুয়ারির আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, প্রবাসে মাতৃভাষা চর্চা আরও সুদৃঢ় করতে এবং মাতৃভূমির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন তৈরি করতে ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম । বাঙালি পরিবারে বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি চর্চায় নিবিড় মনোযোগ ছেলে–মেয়েদের মেধা বিকাশের জন্যও বিশেষ সহায়ক।
ছেলে–মেয়েদের বাংলা শেখাতে ঘরে ঘরে বাংলা–চর্চার আহবান জানিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলা শেখার কাজটি মা–বাবাদেরকেই করতে হবে। আমরা নিজেদের ঘরে ছেলে–মেয়েদের সাথে যতবেশি বাংলায় কথা বলবো, ততই তারা বাংলায় কথা বলতে অভ্যস্থ হয়ে ওঠবে ।
২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে ‘অমর একুশ : অহংকারের ৭০ বছর’-শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এ আয়োজনে আলোচনার পাশাপাশি ছিলো আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠান । বৈরি আবহাওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক ক্লাব সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি” গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় । এতে ক্লাব সদস্য রুপি আমিন, কণ্ঠশিল্পী ববি রায় ও রিনা দাশসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী । তিনি তাঁর সূচনা বক্তব্যে বিলেতে বাংলা ভাষার বিকাশে কমিউনিটি সংবাদপত্রের অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। “ভবনের দেয়ালে আলোর ঝলকানিতে আমরা উচ্ছসিত হই অথচ সেই ভবনের ভেতরেই আলো নিভিয়ে দেয়া হয়েছে” উল্লেখ করে তিনি বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে বাংলা ভাষা চর্চার দুরাবস্থার দিকেই ইঙ্গিত করেন।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার সম্পাদক তাইসির মাহমুদ–এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে “বিলেতে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ” শীর্ষক মূল আলোচনা তুলে ধরেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ভাষা–সমন্বয়ক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ডঃ মোঃ আব্দুল হান্নান।

তাছাড়া “বিলেতে বাংলা–চর্চায় মিডিয়ার ভুমিকা” শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রযোজক বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক মিজানুর রহমান খান, চ্যানেল এস’র অনুষ্ঠান প্রধান ও ‘সুন্দর করে বাংলা লিখি‘ প্রোগ্রামের প্রযোজক ফারহান মাসুদ খান এবং টিভি ওয়ান–এর ‘বাংলায় কথা বলি‘ অনুষ্ঠানের প্রযোজক ও উপস্থাপক জিয়াউর রহমান সাকলাইন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে বায়ান্নোর ভাষা শহীদদের পরিচিতি তুলে ধরেন ক্লাবের নির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসেন।
প্রধান আলোচক ড. আব্দুল হান্নান “বিলেতে বাংলা ভাষার ভবিষ্যত” শীর্ষক তাঁর সুচিন্তিত দীর্ঘ আলোচনায় বিলেতে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে আমাদের অগ্রজদের অপরিসীম অবদান এবং সেটি ধরে রাখা ও উন্নয়নে আমাদের করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন,
আশির দশকে এখানে যখন বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন আমাদের পুর্বপূরুষরা সরকারি ফান্ডিংয়ের কথা চিন্তা করেননি। তাঁরা তখন সন্তানদের বাংলা শেখানোর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন । বুঝতে পেরেছিলেন, যদি তাদের বাংলা শেখানো না যায় তাহলে তারা শেকড়–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে । তাই তাঁরা নিজেদের পকেটের পয়সা খরচ করে বাংলা স্কুলগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু আজ সেই স্কুলগুলো সরকারী ফান্ডিংয়ের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা নিজেদের উদ্যোগে সেগুলো চালু রাখতে পারছি না। এটা আমাদের বড় ব্যর্থতা। এখনও সময় আছে, আমাদের সন্তানেরা যাতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি হারিয়ে শিকড়–বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে সে জন্য বাংলা শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ছেলে মেয়েদের বাংলা শিক্ষায় মা–বাবাদেরকেই মুখ্য ভুমিকা পালন করতে হবে।
বিবিসি বাংলা’র প্রযোজক মিজানুর রহমান খান বলেন, ভাষা যে শুধু বর্ণমালার সমষ্টি তা নয়, এটি একটি সম্পর্কের ব্রিজ। দেশ, পরিবার ও স্বজনদের সাথে সেই ব্রিজ বা সেতুর সম্পর্ক অটুট রাখতে স্বীয় ভাষা শেখা ও চর্চা খুবই গুরুত্বপুর্ণ।
চ্যানেল এস’র অনুষ্ঠান প্রধান ফারহান মাসুদ খান ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
টিভি ওয়ান–এর প্রযোজক ও উপস্থাপক জিয়াউর রহমান সাকলাইন মাতৃভাষা চর্চা না হওয়ায় কীভাবে পরিবারের প্রবীণদের সাথে নতুন প্রজন্মের সম্পর্কে ছেদ সৃষ্টি হচ্ছে তা তুলে ধরেন।
মুল আলোচক ড. মোঃ আব্দুল হান্নানের বক্তব্যের পর মুক্ত–আলোচনায় অংশনেন ক্লাবের তিন সাবেক সভাপতি যথাক্রমে সাপ্তাহিক জনমত সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, জনমত–এর সাবেক সম্পাদক নবাব উদ্দিন ও সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, টিভি উপস্থাপিকা উর্মি মাজহার, চ্যানেল এস–এর চীফ রিপোর্টার ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আ স ম মাসুম, কবি–ছড়াকার দিলু নাসের ও সংস্কৃতিকর্মী নজরুল ইসলাম আকিব।
দ্বিতীয় পর্বে সহ–সাধারণ সম্পাদক সাঈম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার সালাউদ্দিন শাহীন এবং কবি ও ছড়াকার দিলু নাসের। গান পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পি ববি রায় ও শিশুশিল্পী তানিশা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ–সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক তারেক চৌধুরী এবং নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে সভামঞ্চে আহবান করে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানটি সফল করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ক্লাবের সহ–কোষাধ্যক্ষ এম এ কাইয়ুম, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি আবদুল হান্নান, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, প্রথম নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু, নির্বাহী সদস্য আনোয়ার শাহজাহান ও সরওয়ার হোসেনকে ক্লাবের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের দুই স্পনসর পূর্ব লন্ডনের ভ্যালেন্স রোডস্থ তাজ একাউন্টেন্ট–এর স্বত্বাধিকারী একাউন্টেন্ট আবুল হায়াত নুরুজ্জামান ও এনটিএন বাংলা ইউকের সিনিয়র রিপোর্টার মোস্তাক আলি বাবুল–এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
লন্ডন, ২১ ফেব্রুয়ারি :











