লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা : বিলেতে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে সৈয়দ আফসার উদ্দিনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে

লন্ডন, ১৭ এপ্রিল ২০২৪: বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আফসার উদ্দিন-এর মৃত্যূতে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা বলেছেন, তিনি ছিলেন একজন আপাদমস্তক ভদ্রলোক । ছিলেন সদালাপী, বিনয়ী ও কৃতজ্ঞতাবোধ সম্পন্ন মানুষ । একজন সাংবাদিক ও শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী । তিনি যে কাজটিই করতেন তা সুন্দর ও সুনিপুনভাবে সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। সংবাদপাঠকে তিনি মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন । টেলিভিশনে ব্যতিক্রমী ভঙ্গিমায় সংবাদ উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে তিনি দর্শকদের মনজয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার মাধ্যমে বিলেতে বাংলা ভাষার প্রচার ও যে প্রসারে যে অসাম্য অবদান রেখেছেন তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বক্তারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতে সমাসীন করেন।

১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডস্থ লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই শোকসভায় বিলেতের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিকগণ বক্তব্য রাখেন ।
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিতে অনুষ্ঠিত শোকসভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ।

অতিথিবক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক নতুন দিন সম্পাদক মহিব চৌধুরী, চ্যানেল এস-এর ফাউন্ডার মাহি ফেরদৌস জলিল, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, সদ্যসাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী এবং সাবেক সভাপতি ও জনমত-এর সাবেক সম্পাদক নবাব উদ্দিন। অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী।

শুরুতে অনুবাদসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন এবং মানুষের জীবন ও মৃত্যু নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিনিয়র ইমাম সৈয়দ আনিসুল হক। এরপর সৈয়দ আফসার উদ্দিনের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন চ্যানেল এস এর নিউজ প্রেজেন্টার শহীদুল ইসলাম সাগর। তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে সাংবাদিক কামাল মেহেদীর নেওয়া একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয় । এর আগে ৫২ বাংলা টিভিতে প্রচারিত একটি ডকুমেন্টারি প্রজেক্টার স্ক্রীনে দেখানো হয়।

শোকসভায় আরো বক্তব্য রাখেন মরহুম সৈয়দ আফসার উদ্দিনের পরিবারের পক্ষে সলিসিটর সৈয়দ শাহীন, চ্যানেল এস এর চেয়ারম্যান আহমদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য ও ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহগীর বক্ত ফারুক, প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য ব্রিটিশ বাংলাদেশী ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহানুর খান, ব্রিটিশ বাংলাদেশী টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল বাসিত চৌধুরী, বিবিসি বাংলার সাবেক প্রযোজক কামাল আহমদ, সাবেক প্রযোজক উদয় শঙ্কর দাশ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, সাংবাদিক ও কবি সারওয়ার-ই-আলম, টিভিওয়ান এর ডাইরেক্টর অপারেশন্স গোলাম রাসুল, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, চ্যানেল এস এর সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টোর ডাঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, এটিএন বাংলা ইউকের প্রেজেন্টার উর্মি মাযহার, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ট্রেজারার সালেহ আহমদ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ইভেন্টস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন, সিনিয়র সাংবাদিক ও শিক্ষক মোস্তফা কামাল মিলন, চ্যানেল এস এর হেড অব নিউজ কামাল মেহেদী, হেড অব প্রোগ্রামস ফারহান মাসুদ খান, সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার তৌহিদ শাকিল, এটিএন বাংলা ইউকের সিনিয়র রিপোর্টার মোস্তাক আলী বাবুল, সাংবাদিক ও লেখক আব্দুল মুনিম জাহিদী ক্যারল, সানরাইজ টুডে অনলাইন-এর সম্পাদক এনাম চৌধুরী, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য-সাবেক নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু ও এনটিভি ইউরোপের সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার শামসুল তালুকদার।
প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী বলেন, সৈয়দ আফসার ঊদ্দিন ছিলেন একজন অমায়িক মানুষ । তিনি তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে প্রেস ক্লাব এবং চ্যানেল এস মিলে যৌথভাবে কিছু করার আহবান জানান।
চ্যানেল এস-এর প্রতিষ্ঠাতা মাহি ফেরদৌস জলিল বলেন আফসার উদ্দিন একজন পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন । তিনি কাজকে মায়ের মত সম্মান করতেন। তাই তার সংবাদ পাঠে ভুল থাকতোনা । তিনি সব জায়গায়ই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন । তিনি আরো বলেন, জীবন একটি সুযোগ, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন আফসার উদ্দিন । তাই তিনি তাঁর কাজকে গুরুত্ব দিয়েছেন সকল জায়গায় । তিনি ধর্মভীরু ছিলেন । সর্বদা হাসিখুশী থাকতেন ।

সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সৈয়দ আফসার উদ্দিন ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য কিছু করতেন না । তাঁর মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ ছিলো । তিনি আরো বলেন, মরহুম আফসার উদ্দিন বিলেতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষার চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করতে পারলে ভাল হবে ।
সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমদ বলেন, আফসার ঊদ্দিন একজন সজ্জন মানুষ
ছিলেন । তিনি সবার সাথে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করতেন ।
নবাব উদ্দিন বলেন আফসার উদ্দিন বহুমাত্রিক গুণের অধিকারি ছিলেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী “তসুদ্দুক আহমদ জার্নালিস্ট এওয়ার্ড” চালু করা যায় কিনা- বিষয়টি ভেবে দেখতে প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।
আহমেদ ঊস সামাদ চৌধুরী বলেন আফসার ঊদ্দিন একজন গোছানো এবং ফ্যাশন-সচেতন মানুষ ছিলেন । তিনি তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ।
আবু মুসা হাসান বলেন সৈয়দ আফসার উদ্দিন ছিলেন বিরল গুণের অধিকারী । তিনি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ।
শাহগীর বখত ফারুক বলেন, আফসার উদ্দিন সর্বগুণে গুণান্বিত একজন মানুষ ছিলেন । তাঁর কৃতজ্ঞতাবোধ ছিলো অপরিসীম ।
মোস্তফা কামাল মিলন বলেন আফসার উদ্দিন একজন স্পষ্টবাদী মানুষ ছিলেন ।
সলিসিটর সৈয়দ শাহীন বলেন, আফসার উদ্দিন মিঠু একজন সজ্জন এবং বিনয়ী মানুষ ছিলেন । তিনি সকলকে আপন করে নিতে পারতেন ।
শোকসভার শেষ দিকে ছিলো দোয়া মাহফিল। দোয়া পরিচালনা করেন ব্রিকলেন জামে মসজিদের প্রধান ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম। শোকসভা উপলক্ষে একটি শোকবই খোলা হয়। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকরা তাঁদের প্রিয় সহকর্মী সৈয়দ আফসার উদ্দিন সম্পর্কে তাঁদের অনুভুতি লিপিবদ্ধ করেন । আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, চ্যানেল এস এর সিনিয়র সংবাদ পাঠক বিশিষ্ট সাংবাদিক ও শিক্ষক সৈয়দ আফসার উদ্দিন গত ১২ এপ্রিল শুক্রবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ইন্তকাল করেন। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (২০২৪) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে সৈয়দ আফসার উদ্দিনকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিলেতে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে অসামান্য রাখায় “লাইফটাইম এচিভমেন্ট এওয়ার্ড” প্রদান করে ।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের একুশের অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান বেণু : ঢাকার পর লন্ডনে বাংলা ভাষার সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়

বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন শুরু হয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি দিয়ে । ঢাকার পর (প্রবাসীদের মধ্যে) লন্ডনে বাংলা ভাষার সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়- যা আর কোনো দেশে হয় না।
কথাগুলো বলেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুর রহমান বেণু । তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘গৌরবের একুশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।
বিলেতে ‘বাংলা সংস্কৃতি চর্চা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে জনাব মাহমুদুর রহমান বেণু আরো বলেন, আমরা যখন লিখি বা বলি সব সময় যেন শুদ্ধ বাংলায় তা করি। শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারাটাও গৌরবের বলে আমি মনে করি।


লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ জুবায়ের-এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে “বিলেতের গণমাধ্যমে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা” শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিবিসি বাংলা’র সাবেক প্রযোজক উদয় শঙ্কর দাশ, চ্যানেল এস-এর জ্যেষ্ঠ সংবাদ পাঠক ডাঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার এবং কবি ও সাংবাদিক সারওয়ার-ই আলম। আরো বক্তৃতা করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদ্য-সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী ও কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এসময় নিজনিজ ধর্ম মতে ভাষা-শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় । এরপর মাহমুদুর রহমান বেণুর নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি।


“বিলেতের গণমাধ্যমে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা” শীর্ষক বিষয়ে উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, সব ভাষাতেই বিবর্তন ঘটে এবং অন্য ভাষার প্রবেশ ঠেকানো কঠিন হয়ে যায় । তবে বাংলা ভাষাকে যদি আমরা আরেকটু বেশি ভালোবাসি তাহলে এতে শুদ্ধচর্চার বিকাশ ঘটবে । এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার শুদ্ধচর্চা নিয়ে কর্মশালার আয়োজনের পরামর্শ দেন।
একই বিষয়ে চ্যানেল এস-এর জ্যেষ্ঠ সংবাদ পাঠক ডাঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত বাংলা ভাষার ভুলভ্রান্তি নিয়ে কথা বলেন । বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বহুবচন, শুদ্ধ উচ্চারণ, শব্দ বিকৃতি এসব বিষয় তাঁর আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
কবি ও সাংবাদিক সারওয়ার-ই আলম তাঁর বক্তব্যে শুদ্ধ উচ্চারণের প্রতি বেশি জোর দেন। তিনি বলেন, আমরা ব্যাকরণ ঠিকভাবে চর্চা করি না। বাংলা বর্ণমালা শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করলে এবং দুই-এক মাস যে কেউ অনুশীলন করলে শুদ্ধভাবে বাংলা উচ্চারণে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।


অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর একুশের গান রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এটিএন বাংলা ইউকের জ্যেষ্ঠ উপস্থাপক উর্মি মাযহার। তিনি আব্দুল গাফফার চৌধুরীর একটি লেখার অংশ পাঠ করে শোনান । এরপর আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে নিয়ে শিল্পী ফজলুল বারির কণ্ঠে একটি গান টিভি স্ক্রিনে বাজিয়ে শোনানো হয়।
অনুষ্ঠানে ক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও চ্যানেল এস এর জ্যেষ্ঠ সংবাদ পাঠক সৈয়দ আফসার উদ্দিন এমবিইকে বাংলা ভাষা শিক্ষা ও ব্রিটিশ বাংলা মিডিয়াতে অবদান রাখার জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ জুবায়ের অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর হাতে এই বিশেষ সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।
এ সময় সৈয়দ আফসার উদ্দিন এমবিই তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি এই সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড তাঁর মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি উৎসর্গ করেন। বিলতে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রয়াত কমিউনিটি নেতা তাসাদ্দুক আহমেদ এমবিই স্মরণে একটি অ্যাওয়ার্ড চালু করার আহবান জানান । এছাড়াও দেশে-বিদেশে যাঁরা টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করেন প্রতি বছর তাদের মধ্য থেকে একজনকে একুশে পদক দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন সৈয়দ আফসার উদ্দিন।

সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন হিমাংশু গোস্বামী, গৌরী চৌধুরী, শ্রেয়সী দাস, ববি রায়, মোস্তফা কামাল মিলন। নৃত্য পরিবেশন করেন সোনিয়া সুলতানা ও নন্দিনী। কবিতা আবৃত্তি করেন মিছবাহ জামাল, কবি দিলু নাসের, শহীদুল ইসলাম সাগর ও মুনিরা পারভীন । সাংস্কৃতিক পর্বটি পরিচালনা করেন ক্লাবের ইভেন্টস অ্যাণ্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারী রূপি আমিন ও নির্বাহী সদস্য পলি রহমান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বার্তা প্রেরক:
মোঃ আব্দুল হান্নান
মিডিয়া এবং আইটি সেক্রেটারী
লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাব
০৭৭৩৫ ৩৩৩ ৫২৫

READ MORE

লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির (২০২৪-২০২৫) দায়িত্ব গ্রহণ

লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে । ২ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ব লণ্ডনের প্রিন্সলেট স্ট্রীটস্থ ক্লাব কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের, পুনর্নির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ এবং পুনর্নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদের নেতৃত্বে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই কমিটি আগামী দুই বছরের (২০২৪-২০২৫) জন্য দায়িত্ব পালন করবে।


অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত ১৫ সদস্যকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। তাছাড়া বিদায়ী কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় নবনির্বাচিত ও বিদায়ী সদস্যরা তাঁদের একান্ত অনুভুতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী, সাবেক ট্রেজারার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জিআর সোহেল।

নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটি : প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাঈম চৌধুরী, জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ, এসিসটেন্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, ট্রেজারার সালেহ আহমদ, এসিসটেন্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, অর্গানাইজিং এণ্ড ট্রেইনিং সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইন, মিডিয়া এণ্ড আইটি সেক্রেটারী মোঃ আব্দুল হান্নান, ইভেন্ট এণ্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন।
নির্বাহী সদস্যরা হলেন- যথাক্রমে প্রথম নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সোহেল, ফয়সল মাহমুদ, পলি রহমান, জাকির হোসাইন কয়েস ও আনোয়ার শাহাজাহান।
যাঁরা বিদায় নিলেন: প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ রহমত আলী, এসিসটেন্ট ট্রেজারার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, অর্গানাইজিং এণ্ড ট্রেইনিং সেক্রেটারি এমরান আহমদ, নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু, নাজমুল হোসাইন, সারওয়ার হোসাইন ও শাহনাজ সুলতানা।


বিদায়ী সভাপতি মুহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী নতুন কমিটিকে আবারও অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে ক্লাবের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নবনির্বাচিত সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের ক্লাবকে আরো গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে আগামী দুই বছরের কাজে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। পুনর্নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ বলেন, আজকের দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালিন দুটো এলায়েন্স-এর পরিসমাপ্তি ঘটলো। বিগত বছরগুলোর মতো আগামী দুই বছর আমরা একটি টিম হিশেবেই কাজ করবো । এই ক্লাবের ২৮৮জন সদস্যের প্রত্যেকেই বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্টের অধিকারি । তাঁদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে আগামী দুই বছর ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো । বিগত কমিটিতে আমরা যেভাবে একে অপরের প্রতি পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ রেখে কাজ করেছি নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দও সেই ধারা বজায় রাখবেন বলে আমি আশাবাদী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

READ MORE

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনঃ

মোহাম্মদ জুবায়ের প্রেসিডেণ্ট, তাইসির মাহমুদ জেনারেল সেক্রেটারী ও সালেহ আহমদ ট্রেজারার নির্বাচিত

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন (২০২৪) । নির্বাচনে মোহাম্মদ জুবায়ের প্রেসিডেণ্ট, তাইসির মাহমুদ জেনারেল সেক্রেটারী ও সালেহ আহমেদ ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জুবায়ের তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে ক্লাবের সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে নতুন নতুন কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্লাবটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পুননির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ বলেন, এই ক্লাবের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো দু’বছর পরপর একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হওয়া । নির্বাচনে দুটো এলায়েন্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমরা একটি এলায়েন্স হয়ে যাই। একটি টিম হিসেবে কাজ করি । তিনি বলেন, এমন একটি ক্লাবে দ্বিতীয়বারের মতো জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হওয়া আমার জন্য গর্ব ও সম্মানের-যে ক্লাবে অনেক মাল্টি টেলেন্ট সদস্য রয়েছেন। আমি তাঁদের সহযোগিতা নিয়ে ক্লাবকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১২টি পদে বিজয়ী হয়েছে জুবায়ের-তাইসির-মুরাদ এলায়েন্স। আর নাহাস-মুসলেহ-সালেহ এলায়েন্স পেয়েছে ৩টি পদ।
দুই এলায়েন্সে ৩০জন এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩১ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বেলা আড়াইটায় শুরু হয়ে একটানা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত নির্বাচন পরিচালিত হয় । ক্লাবের ২৮৮জন সদস্য গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করেন । নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিসিএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ এমবিই, স্পিটালফিল্ডস স্মল বিজনেস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আজিজ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার আনোয়ার বাবুল মিয়া।

কে কত ভোট পেলেন :
১৪১ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল এস-এর সাবেক চীফ রিপোর্টার ও রিয়াল নিউজের ফাউন্ডিং এডিটর মোহাম্মদ জুবায়ের । তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা পেয়েছেন ১৩৯ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে ১২৩ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ । তাঁর দুই প্রতিদ্বন্দ্বির মধ্যে মোঃ মোসলেহ উদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ১০৩ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জি আর সোহেল পেয়েছেন ৫৭ ভোট।
১৫৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা পোস্ট এর হেড অব প্রোডাকশন সালেহ আহমদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আইনঅন টিভি চীফ রিপোর্টার আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ পেয়েছেন ১২১ ভোট ।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ১৯১ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী । তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মোস্তাক আলী বাবুল পেয়েছেন ৮৬ ভোট। তারেক চৌধুরীর সাথে তাঁর ভোটের ব্যবধান ১০৫টি।
সহ-সভাপতি পদে ১৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এটিএন বাংলা ইউকের হেড অব নিউজ সাঈম চৌধুরী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাসিক দর্পণ সম্পাদক রহমত আলী পেয়েছেন ১৩৬ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে চ্যানেল এস-এর সিনিয়র রিপোর্টার রেজাউল করিম মৃধা ১৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন । তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মোঃ আব্দুল কাইয়ূম পেয়েছেন ১৩৭ ভোট।
সহ কোষাধ্যক্ষ পদে ১৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল এস-এর সিনিয়র রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিল। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সারোয়ার হোসেন পেয়েছেন ১০৭ ভোট ।
অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেইনিং সেক্রেটারী পদে এনটিভি ইউরোপের চীফ রিপোর্টার আকরামুল হোসেন ১৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ইমরান আহমদ পেয়েছেন ১১৩ ভোট।
মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি পদে টুএ নিউজের ফাউন্ডার মোহাম্মদ আবদুল হান্নান ১৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মাহবুব আলী খানশূর পেয়েছেন ৮৫ ভোট।
ইভেন্টস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি পদে ১৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল এস-এর সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার রুপি আমিন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল পেয়েছেন ১০২ ভোট।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ১৭৬ ভোট পেয়ে প্রথম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এলবি২৪ এর মিডল্যান্ড ব্যুরো প্রধান ও বাংলা ভয়েস’র চীফ রিপোর্টার সাহিদুর রহমান সুহেল, চ্যানেল এস-এর স্টাফ রিপোর্টার ফয়সল মাহমুদ (প্রাপ্ত ভোট ১৭১), নতুন দিন-এর এক্সিকিউটিভ এডিটর মরিয়ম পলি রহমান (প্রাপ্ত ভোট ১৫৫), টিভি ওয়ানের সিনিয়র রিপোর্টার জাকির হোসেন কয়েস (প্রাপ্ত ভোট ১৩৭) ও লন্ডন বিচিত্রার সম্পাদক আনোয়ার শাহজাহান (প্রাপ্ত ভোট ১৩১)।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে ক্লাবের ৩০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো নারী সাংবাদিক (রুপি আমিন) সম্পাদকীয় পদে জয়লাভ করেছেন এবং লন্ডনের বাইরের একজন সাংবাদিক (সাহিদুর রহমান সুহেল) নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।
বার্ষিক সাধারণ সভা: এর আগে বেলা দেড়টায় অনুষ্ঠিত হয় ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা । ক্লাবের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারী তাইসির মাহমুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ট্রেজারার সালেহ আহমদ বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন । প্রশোত্তর পর্বে ক্লাবের সদস্যরা নতুন সদস্যপদ না দেয়া নিয়ে তাদের অসন্তোষ, নির্বাচনে অ্যালায়েন্স পদ্ধতি বাতিল এবং এলবিপিসি জার্নাল প্রকাশসহ নতুন নতুন কর্মসূচী গ্রহণ করার মাধ্যমে ক্লাবটিকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনে পরিণত করার ওপর জোর দাবী জানান। মধ্যাহ্ন ভোজের মাধ্যমে ক্লাবের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভার সমাপ্তি ঘটে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত কণ্ঠশিল্পী বিথী চৌধুরী ও লন্ডনের শিল্পী শম্পা দেওয়ান। ক্লাব-সদস্যদের মধ্যে গান, কবিতা, ছড়া, কৌতুক, গীতি কাব্য ও পুঁথিপাঠ করেন সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মিলন, রূপি আমিন, কলন্দর তালুকদার, আব্দুল হামিদ টিপু, ববি রায়, সাইফুর রেজা চৌধুরী পথিক । কবিতা পাঠ করেন মিসবাহ জামাল, কবি আহমেদ হোসেন হেলাল, কবি সারওয়ার-ই আলম, শহিদুল ইসলাম সাগর, সালাউদ্দিন শাহীন, জিয়াউর রহমান সাকলেন, কবি হেলাল সাইফ, কবি সৈয়দ রুম্মান, ছড়াকার লুৎফুর রহমান, মামুন রশীদ ও আলাউর খান শাহীন।
অ্যাওয়ার্ড প্রদান পর্ব : সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা জানানো হয়। সম্মাননা লাভ করেন ক্লাবের আজীবন সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুকিম আহমদ, ড. জাকির খান, স্পিটালফিল্ডস স্মল বিজনেস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আজিজ চৌধুরী, লন্ডন টাইগার্স এর সিইও মেসবাহ আহমদ, লন্ডন ক্রিকেট লীগের সেক্রেটারি নাহিদ নাওয়াজ রানা।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ও এওয়ার্ডস তুলে দেন পপলার এন্ড লাইম হাউজ আসনের এমপি আপসানা বেগম, যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র মাইয়ুম মিয়া তালুকদার, টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার গ্রুপের লীডার সিরাজুল ইসলাম, বাংলা প্রেস ক্লাব বার্মিংহাম এন্ড মিডল্যান্ডস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মারুফ, বার্মিংহ্যাম বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আব্দুল আহাদ সুমনের পক্ষে মোঃ সেলিম উদ্দিন, নর্থ ইংল্যান্ড বাংলাদেশী টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ সুরত মিয়া আসাব, নর্থ ইংল্যান্ড বাংলাদেশী টিভি রিপোর্টার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাজান, লীডস বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এমজি কিবরিয়া ও লিভারপুল বাংলা প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি আবু সাঈদ চৌধুরী সাদী।
বিদায়ী নেতৃবৃন্দকে এওয়ার্ড প্রদান : প্রেস ক্লাবের বিদায়ী কমিটির বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, বিদায়ী প্রথম নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু, বিদায়ী নির্বাহী সদস্য কবি শাহনাজ সুলতানা ও জেইউএম নাজমুল হোসাইনকে ক্লাবের কাজের স্বীকৃতিসরূপ এওয়ার্ড প্রদান করা হয় । এওয়ার্ড তুলে দেন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক (নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট) মুহাম্মদ জুবায়ের।
এছাড়াও, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনগুলোতে সর্বাধিক উপস্থিতির জন্য হাইয়েস্ট প্রেজেন্স এন্ড রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন টিভিওয়ান-এর সিনিয়র রিপোর্টার জাকির হোসাইন কয়েস এবং নির্বাহী কমিটিতে সক্রিয় ভুমিকা পালনের জন্য অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ইভেন্টস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা।
অনুষ্ঠানে বিলেতের বিভিন্ন শহর থেকে ক্লাবের সদস্যরা স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বেলা দেড়টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠানটি নৈশ ভোজের মাধ্যমে রাত এগারোটায় শেষ হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

লন্ডন, ৯ নভেম্বর: লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এক সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে । গত ৬ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফের ডকসাইড ভ্যানুতে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী কর্মশালায় লন্ডন ও লন্ডনের বাইরে থেকে মোট ৪৫ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন ।চারটি বিষয়বস্তুর ওপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় ।
‘প্রিন্ট ও ডিজিটাল মিডিয়ায় সাংবাদিকতা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রযোজক মোয়াজ্জেম হোসাইন । ‘কমিউনিটি টিভি সাংবাদিকতা” বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন চ্যানেল এস টিভির সদ্যসাবেক চিফ রিপোর্টার ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মূহম্মাদ জুবায়ের । ‘মোবাইল সাংবাদিকতা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন রানার মিডিয়ার ডিরেক্টর এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক ট্রেজারার আ স ম মাসুম এবং ‘সংবাদ তৈরিতে প্রচলিত ভুল পরিহারের করণীয়’ বিষয়ে আলোচনা তুলে ধরেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী।

কর্মশালায় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বৃটেনের মুলধারার মিডিয়া মেট্রো অনলাইনে ডেপুটি পিকচার এডিটর হিসেবে কর্মরত বৃটিশ-বাংলাদেশী সাংবাদিক আবু আনাস চৌধুরী। তিনি মূলধারার মিডিয়ায় কাজ করার প্রেক্ষাপট, অভিজ্ঞতা ও সুবিধা-অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি পূর্ব লন্ডনের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের অর্গানাইজিং ও ট্রেনিং সেক্রেটারি এমরান আহমেদ এর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সঞ্চালকের ভুমিকা পালন করেন প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ । সহযোগিতায় ছিলেন ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ, এসিসটেন্ট সেক্রেটারী সাঈম চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু ও নাজমুল হুসাইন ।


কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারিদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয় । এসময় বক্তব্য রাখেন কর্মশালার স্পনসর ইউটেলাইজ প্রজেক্টের ফাউন্ডার মাহমুদ শাহনেওয়াজ ও ষ্টুডেন্ট কনসালটেন্সি ফার্ম জিইসিসি’র ডাইরেক্টর মোঃ আখলাকুর রহমান।
সমাপনীপর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় অর্গানাইজিং ও ট্রেনিং সেক্রেটারি এমরান আহমেদ ভবিষ্যতে লন্ডনের বাইরেও এ ধরনের কর্মশালা আয়োজন করা হবে জানান ।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারি সদস্যদের অনেকেই এ ধরনের আয়োজনের ভূয়শী প্রশংসা করেন । তাঁরা বলেন, আমরা আজকের কর্মশালায় এসে অনেক কিছু জানলাম, শিখলাম। এখন কর্মশালা থেকে লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরো ভালো করতে পারবো । তাঁরা লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দকে সময়োপযোগী এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান । সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের একুশের অনুষ্ঠানে বক্তারা

তরুণ প্রজন্মকে বাংলার প্রতি আকৃষ্ট করতে
তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ভূমিকা বাড়াতে হবে

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ‘প্রবাসে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, দেশে-বিদেশে তরুণ প্রজন্মকে বাংলার প্রতি আকৃষ্ট করতে হলে বাংলা ভাষায় মূল্য সংযোজন করতে হবে। এর একটা কার্যকর ও ভালো উপায় হচ্ছে- এই ভাষার উপযোগিতা বৃদ্ধির জন্য তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলার ভূমিকা বাড়ানো বা কার্যকর করে তোলা। আর বিশেষ করে বিলেতে বাংলা ভাষা টিকিয়ে রাখতে হলে নতুন প্রজন্মকে বাংলা শেখাতে হবে । দুইভাবে এই কাজটি করতে হবে। প্রথমতঃ মা-বাবাদেরকে ঘরে সন্তানের সঙ্গে বাংলায় কথা বলতে হবে এবং দ্বিতীয়তঃ বিলেতের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকার স্কুলগুলোর পাঠ্যসূচীতে বাংলা ভাষার অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করতে হবে ।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির সেমিনার হলে মহান একুশে ফেব্রুয়ারী জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আলোচনাপর্বে বক্তারা কথাগুলো বলেন।
‘বাঙালি নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষা শিখাতে আগ্রহী করে তুলতে করণীয়’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন দৈনিক প্রথম আলোর সাবেক পরামর্শক সম্পাদক ও বিসিসি বাংলার সাবেক সম্পাদক কামাল আহমদ এবং ‘বিলেতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন লন্ডনে শহীদ মিনার ও নজরুল সেন্টারের অন্যতম প্রতিষ্ঠা এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল রাজন উদ্দিন জালাল।
ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ।
অনুষ্ঠান শুরু হয় এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে । নীরবতা পালনকালে বায়ান্নোর ভাষা শহীদ ও সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে হতাহতদেরকে গভীর সহানুভুতির সাথে স্মরণ করে নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাস মতে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় ।

প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচিত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানের অতিথি ও ক্লাবের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে গানটি পরিবেশন করেন চ্যানেল এস-এর সিনিয়র সংবাদ উপস্থাপক রুপি আমিন। পরে একুশের গান রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে প্রয়াত আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা একটি লেখা পড়ে শোনান সিনিয়র সাংবাদিক টিভি উপস্থাপিকা উর্মি মাযহার। দুই অতিথি বক্তার বক্তব্যের ওপর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ক্লবের সদস্যরা । আলোচনাপর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় একুশের কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কামাল আহমদ বলেন, আর্থিক লাভালাভের নিরিখে কোনো ভাষার গুরুত্ব কত, সেটাই এখন বিশ্বে ভাষার প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করে । কারণ নতুন প্রজন্ম ভবিষ্যৎ জীবন–জীবিকার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাকেই সবচেয়ে জরুরি মনে করে। কোন ভাষায় কত মানুষ কথা বলেন, তার নিরিখে বিশ্বে এক নম্বরে আছে ইংরেজি, যা প্রায় দেড় শ কোটি মানুষের ভাষা। সংখ্যার দিক থেকে সপ্তম অবস্থানটি হচ্ছে বাংলাভাষীদের, যাদের সংখ্যা হচ্ছে ২৭ কোটি। কিন্তু অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিচারে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভাষার তালিকায় বাংলা নেই।
তিনি আরো বলেন, দেশে এবং বিদেশে তরুণ প্রজন্মকে বাংলার প্রতি আকৃষ্ট করতে হলে বাংলা ভাষায় মূল্য সংযোজন করতে হবে। এর একটা কার্যকর ও ভালো উপায় হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলার ভূমিকা বাড়ানো বা কার্যকর করে তোলা। একইভাবে শিল্প–সাহিত্যে, সিনেমা–গানে বাংলায় যদি আলোড়ন তোলার মত সৃজনশীল কিছু হয়, তাহলে সেগুলোও অভিবাসী তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে পারে।


বৃটেনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যা, তাতে সরকার দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে স্কুলে বাংলা পড়ার পিছনে বিনিয়োগ বাড়াবে, তেমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি বৃটিশ-বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে তোলা দরকার। কিন্তু তার চেয়েও বেশি দরকার বিকল্প হিসাবে নিজেদেরও উদ্যোগ নেওয়া। বৃটেনেও বাংলা একাডেমির মত কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার যেখানে বাংলা শেখানো, চর্চা ও বিকাশের ব্যবস্থা থাকবে । বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিস্টিটিউটেরও এক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হলে এবং সুযোগ সৃষ্টি হলে ভারতের মত প্রবাসীদের মধ্যে দেশে ফেরার আগ্রহ তৈরি হতে পারে। তবে, সেখানেও শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হলে হবে না, দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফিরতে হবে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আইন থাকলে চলবে না। কথা বলার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে আগামী প্রজন্ম দেশে স্থায়ীভাবে ফিরতে আগ্রহী হবে না।


রাজন উদ্দিন জালাল বলেন, বিলেতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ ইতিবাচক নয়। আমাদের এই প্রজন্মের মানুষ যখন থাকবেনা তখন বাংলায় কথা বলবে কে? যারা কথা বলবে তারা হলো আমাদের ছেলেমেয়েরা। কিন্তু তারা তো বাংলা শিখছে না। বাংলার প্রতি তাদের আগ্রহ নেই। তাছাড়া পূর্ব লন্ডনে আভ্যন্তরিন মাইগ্রেশন চলছে। টাওয়ার হ্যামলেটস থেকে বাংলাদেশীরা বেরিয়ে গিয়ে এখন নিউহ্যাম, বার্কিং এন্ড ডেগেনহ্যাম, হেইভারিং ও এসেক্স এলাকায় বসবাস করতে শুরু করছেন । টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাস ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় মানুষ এখান থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে হলে নজরুল সেন্টারকে পুনরায় জাগ্রত করতে হবে। অথবা নজরুল সেন্টারের মতো একটি সংস্কৃতি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে- যেখানে বাঙালিরা প্রতিদিন আসতে না পারলেও অন্তত ছুটির দিনে আসবে এবং ভাষা ও সংস্কৃতিচর্চার বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করবে।


ক্লাব সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সন্তানদের বাংলা শেখানোর কাজটি আমদের নিজেদের ঘর থেকে শুরু করতে হবে। তাহলে অন্তত প্রাথমিক জ্ঞানটুকু আমরা দিতে পারবো। তিনি বলেন, এ লেভেলে সাধারণত তিনটি বিষয় শিক্ষার্থীরা পছন্দ করে। তার মধ্যে তারা যদি বাড়তি বাংলা বিষয়টি নেয় এবং ওই বিষয়ে যদি সে ভালো ফলাফল করতে পারে তাহলে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পথ অনেক সুগম হবে। ভালো ইউনিভার্সিটিতে তাঁর পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ বাড়বে।
সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অন্তত ৭টি স্কুলের ‘ন্যাশনাল কারিকুলামে’ বাংলা ভাষা অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছে। একসময় মা-বাবারা তার সন্তানকে স্কুলে বাংলা বিষয়টি নিতে উৎসাহী করে তুলতেন। কিন্তু এখন সেটা খুবই কম । তাছাড়া, অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ কৌশলে বাঙালি শিক্ষার্থীদের বাংলা বিষয় নিতে নিরুৎসাহিত করে থাকে। তাই ঘরে ও স্কুলে বাংলা পড়তে সন্তানদের আগ্রহী করে তুলতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে অভিভাবকদেরকে। তাহলে বিলেতে আরো অনেকদিন বাংলা টিকে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে ।
আলোচনাপর্বের শেষদিকে অনুষ্ঠানের স্পনসর ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের ফাউন্ডার ও সিইও ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমানের হাতে ‘প্রশংসা সনদ’ তুলে দেওয়া হয়।
একুশের কবিতা আবৃত্তি ও গান :
দ্বিতীয় পর্বে ক্লাবের সহকারি সাধারণ সম্পাদক সাঈম চৌধুরী ও নির্বাহী সদস্য নাজমুল হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় একুশের কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা । এতে কবিতা আবৃত্তি করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য জিয়াউর রহমান সাকলেন, শহিদুল ইসলাম সাগর, আমিমুল আহসান তানিম, সৈয়দ রুম্মান, রোমান বখত চৌধুরী, মিছবাহ জামাল ও মুনিরা পারভীন এবং লণ্ডন সফররত শিক্ষাবিদ শওকত আলী । মাতৃভাষা বিষয়ক পুঁথি পাঠ করেন চ্যানেল এস এর ক্যাম্ব্রিজ প্রতিনিধি সাংবাদিক মামুন রশিদ।
গান পরিবেশন করেন ক্লাব সদস্য ও চ্যানেল এস-এর জেষ্ঠ্য সংবাদ উপস্থাপক রুপি আমিন।
ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।

READ MORE

প্রাণবন্ত আয়োজনে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত: বাংলাপাড়ায় নিজস্ব অফিসভবন ক্রয়ের প্রত্যাশা

প্রাণবন্ত আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৩ । লন্ডন ও বার্মিংহ্যামসহ বৃটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আগত বিপুলসংখ্যক সদস্যের স্বতঃষ্ফুর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সাধারণ সভায় টাওয়ার হ্যামলেটসের ‘বাংলাপাড়া’য় ক্লাবের জন্য একটি নিজস্ব ভবন ক্রয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

২৯ জানুয়ারি রোববার পূর্ব লন্ডনের মাদানী ভেনুতে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় ক্লাব-সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্লাবের প্রয়াত নির্বাহী সদস্য, সাধারণ সদস্য, আজীবন সদস্য ও সদস্যদের স্বজনদের মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় । নীরবতা পালনকালে সকলে নিজনিজ ধর্ম বিশ্বাস মতে প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন ।

সভাপতির বক্তব্যে এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে একটি ভবন ক্রয়ের স্বপ্ন দেখি আমরা । এ লক্ষ্যে কমিউনিটির শীর্ষ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে । কীভাবে একসঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি ভবন ক্রয় করা যায়- যে ভবনে প্রতিটি সংগঠনের নিজস্ব অফিস থাকবে এবং এক জায়গা থেকে সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে । সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এর সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করে দেখছেন । আশাকরি, সকলে একযোগে এগিয়ে এলে আমরা একটি নিজস্ব ভবন ক্রয় করতে পারবো।


ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ তাঁর উপস্থাপিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেন, কোভিড নাইন্টিনের নির্জীবতার পর গত ১ বছর প্রেস ক্লাব ছিলো সবচেয়ে বেশি জমজমাট। বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের পাশাপাশি আমরা ১৬টি ইভেন্ট আয়োজন করতে সক্ষম হই । এছাড়া ৪৫ টি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করি, যা ছিলো এ যাবতকালে সর্বোচ্চ । প্রেস ক্লাব অফিসকে প্রাণবন্ত করতে ১২টি ‘সদস্য সন্ধ্যা’ আয়োজন করি । আগামী বছর প্রেস ক্লাবকে আরো গতিশীল করতে আমরা “হাইয়েস্ট প্রেজেন্স এন্ড রিপোর্টং অন প্রেস কনফারেন্স” এবং ‘বেস্ট পারফর্মেন্স ইন দ্যা ইসি’ নামে দুটো অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তনের ঘোষনা
দিচ্ছি । আমরা আশাবাদী, এই দুটো অ্যাওয়ার্ড প্রেস ক্লাবের কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা আনবে।
তাইসির মাহমুদ আরো বলেন, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন এলে আমরা দুটো এলায়েন্সে বিভক্ত হয়ে নির্বাচন করি । দুটো এলায়েন্স থেকে নির্বাচিত হই । কিন্তু নির্বাচনের পর আমরা একটি টিম হিসেবেই কাজ করি । ক্লাবের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যূতে আমাদের মধ্যে দ্বিমত হতে পারে। কিন্তু দিনশেষে আমরা একই পরিবারের সদস্য। এটিই এই ক্লাবের ঐতিহ্য এবং ঐক্য ও সম্প্রীতির একটি বড় দৃষ্টান্ত । আমরা এই ঐক্যকে ধরে রেখে আগামী দিনগুলোতে একযোগে কাজ করতে চাই।


সভায় আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ। তিনি জানান প্রেস ক্লাবের একমাত্র আয়ের উৎস সংবাদ সম্মেলন। এ থেকে গত এক বছরে আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পাউন্ড ।
সভায় লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট মহিব চৌধুরী, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আসম মাসুম ও মোসলেহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এতে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি নবাব উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের, সিনিয়র সাংবাদিক ফরিদ আহমেদ রেজা, তৌহিদ চৌধুরী, আকরাম হোসেন, মোস্তাক বাবুল, কবি আবদুল কাইয়ুম, অনুপম সাহা, বাতিরুল হক সরদার, সৈয়দ হিলাল সাইফ, আবুল কাদির মুরাদ, আবদুল আহাদ সুমন, জয়নাল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম বেলাল, মাহবুব আলী খানশূর, কয়েস আহমেদ রুহেল, সেলিম উদ্দিন, আহমেদ কবির, লোকমান হোসেন কাজী, শামসুল তালুকদার, জি আর সোহেল, মোঃ কাওসার, খালেদ মাসুদ রনি, সাহিদুর রহমান সোহেল, আতিকুর রহমান
নাহিদ জায়গীরদার, আলাউর রহমান খান শাহীন ও মুহাম্মদ এ এইচ খান। সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি । প্রশ্নোত্তর-পর্ব শেষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ সভার সমাপ্তি ঘটে । সাধারণ সভা উপলক্ষে প্রেস ক্লাবের এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে ২৪ পৃষ্ঠার একটি বুকলেট প্রকাশিত হয়।

সাধারণ সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় সম্মাননা এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান । প্রেস ক্লাবকে আইনী সহায়তার জন্য বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার ইসলাম খান এবং ক্লাবের প্রপার্টি ক্রয়ে সহযোগিতার জন্য সোসাইটি অব বৃটিশ-বাংলাদেশী সলিসিটর্সের (এসবিবিএস) প্রেসিডেন্ট দেওয়ান মাহদীকে এপ্রিসিয়েশন এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। দেওয়ান মাহদী বর্তমানে বাংলাদেশে থাকায় তাঁর পক্ষে এওয়ার্ডটি গ্রহণ করেন ‘এসবিবিএস’ এর জয়েন্ট সেক্রেটারি মাহাদী হাসান।
এছাড়া, ক্লাবের কর্পোরেট সদস্য আব্দুল করিম নাজিম ও মঞ্জুরুস সামাদ চৌধুরীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় । এই দু’জন বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করায় আব্দুল করিম নাজিমের পক্ষে তাঁর ভাগনা জয় আহমদ ও মঞ্জুরুস সামাদ চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ছেলে মমশাদ চৌধুরী ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।
এছাড়া ৩ জন আজীবন সদস্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এই তিনজনের মধ্যে একজন হলেন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বৃটিশ ডিজাইনার কোম্পানী লন্ডন ট্রাডিশনের স্বত্তাধিকারি মামুন চৌধুরী, বৃটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ডাইরেক্টর ড. সানাওয়ার চৌধুরী ও বিসিএ সাউথ-ওয়েস্ট রিজিয়নের ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান আকিক। এই দুইজন বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করায় ড. সানাওয়ার চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ছেলে শাফিউল চৌধুরী ও ফজলুর রহমান আকিকের পক্ষে তাঁর ছেলে ফহাদ সামিউর রহমান ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। এসময় তাদেরকে ফুলের তোড়া দিয়েও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সদস্য সংখ্যা (৩ জন এসোসিয়েট সদস্যসহ) ৩২৩ জন । আর ৪জন কর্পোরেট সদস্য ও ৮ জন দাতা সদস্যসহ আজীবন সদস্য সংখ্যা ১০৮ জন। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন বর্তমানে ৩০ বছর পার করছে।

READ MORE

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২২।

গত কাল ১৮ সেপ্টেম্বর রোববার পূর্ব লন্ডনের মাইল এন্ড স্টেডিয়ামের পিচে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো উৎসবমুখর পরিবেশে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২২ । এই টুর্নামেন্টে চ্যানেল এস চ্যাম্পিয়ন এবং ওয়ানবাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড রানার আর্প হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
সকাল ১১.০০টা থেকে খেলোয়াররা মাঠে আসেন। ১১.৩০ সকল টিমের সামনে খেলার ব্রিফিং তুলে ধরেন টুর্নামেন্ট ম্যানেজমেন্ট ৫০ এক্টিভ ক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনফর আলি। দুপুর ১২.০০টায় দুইটি পিচে খেলা শুরু হয়।

টুর্নামেন্টে পরিচালনায় ছিলেন চীফ কোঅরডিনেটর ডঃ জাকির খান এবং কোঅর্ডিনেটরের দ্বায়িত্ব পালন করেন মোঃ রেজাউল করিম মৃধা।
সহযোগিতায় ছিলেন- মোঃ রহমত আলি (সহসভাপতি)
সালেহ আহমদ (ট্রেজারার)আব্দুল কাইয়ুম (এ্যাসিসটেন্ট ট্রেজারার)এমরান আহমদ (অর্গেনাইজিং এ্যান্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি)আনোয়ার শাহজাহান (নির্বাহী সদস্য)।মোহাম্মদ সোবহান (সদস্য) হাসনাত চৌধুরী (সদস্য)

খেলার সুবিধার্থে ১০টিম কে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং প্রথম পর্বে ১০টিম অংশ গ্রহন করে পয়েন্ট অনুসারে দুই গ্রুপ থেকে দুইটি করে টিম সেমি ফাইনালে যায় যায়। ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড এবং আবাহনী খেলা হয়। ফাইনালে উঠে ওয়ান বাংলা এবং অপর গ্রুপ থেকে বাংলা কাগজ এবং চ্যানেল এস এর খেলা হয়।চ্যানেল এস ফাইনালে যায়।

ফাইনাল খেলাটি ছিলো অত্যান্ত আনন্দ পূর্ণ। ১০+১০ মিনিটের খেলায় ১ টি ১ টি গোলে ড্র হলে খেলা গড়ায় ট্রাইবেকারে । ট্রাইব্রেকারে চ্যানেল এস একটি গোল প্রতিহত করে চ্যানেল এস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

টুর্নামেন্ট শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী । লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন টুর্নামেন্টের চীফ কো-অর্ডিনেটর ড. জাকির খান, প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের ও ক্লাবের ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা।

অতিথি ও ক্লাব নেতৃবৃন্দ চ্যাম্পিয়ন টিম কে £৫০০ পাউন্ড প্রাউজমানি সহ ট্রফি এবং রানার্স আপ টিমের হাতে ট্রফি সহ £২৫০ পাউন্ড প্রাইজমানি তুলে দেন। সেরা গোলদাতার পুরস্কার পান রুহেল, গেরা গোলকিপার কয়েস এবং ম্যান অফ দি ফাইনাল বাহার ট্রফি অর্জন করে।তাছাড়া, ১০ টিমের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে প্রেস ক্লাবের মনোগ্রাম-খঁচিত ম্যাডেল পরিয়ে দেয়া হয়।

টুর্নামেন্টে বিভিন্ন মিডয়া হাউস থেকে ১০টি টিম অংশগ্রহণ করে। টিমগুলো হলো এসপি ইউনাইটেড, সাপ্তাহিক দেশ, এফসি এলবি২৪, বাংলা পোস্ট, বাংলা কাগজ, এম.এ.এইচ লন্ডন টিভি, চ্যানেল এস, আবাহনি, ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড ও মোহামেডান স্পোর্টি ক্লাব।

টুর্নামেন্টের প্রধান স্পনসর ছিলেন ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান ও শেফ অনলাইন-এর সিইও এম এ মুনিম সালিক। ১০টিমের পৃথক স্পনসর ছিলো মিন্ট ক্যাটারার্স, ল্যান্ডসবারি, রিয়া ইন্টারন্যাশনাল মানি ট্রান্সফার, কম্পাস, প্রিমিয়ার প্রোপার্টি, হোয়াইট টাউন লন্ড্রি, এভারার্ট কন্সট্রাকশন্স, ভেনটেজ ও পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট । ক্যাটারিং পার্টনার ছিলো রিজেন্ট লেইক ব্যানকুয়েটিং হল এবং টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনায় ছিলো ফিফটি এক্টিভ ক্লাব।

শুধু খেলোয়াররাই নন। উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সম্মানীত মেম্বারগণ, ব্যাবসায়ীগণ, স্পন্সরগণ, কমিউনিটির নেতৃবর্গ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। লন্ডনে এবং লন্ডনের বাইরের সকল সাংবাদিকদের এক মিলন মেলায় পরিনত হয়।

READ MORE
This website uses cookies to provide user authentication. Please indicate whether you consent to our site placing cookies on your device and agree with our Privacy Policy. To find out more, please read our Privacy and Cookie Policy