রোবটিক্স বিজ্ঞানী ড. হাসান শহীদের নেতৃত্বে কুইন মেরি ইউনভার্সিটি অব লন্ডনে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন উদ্ভাবন

‘এন ইন্সপায়ারিং ইভিনিং উইথ ড. হাসান শহীদ’ শীর্ষক লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের বিশেষ অনুষ্ঠান

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রোবটিক্স বিজ্ঞানী ড. হাসান শহীদের নেতৃত্বে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের বিজ্ঞানীরা বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন উদ্ভাবন করেছে। ১৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৫ সেন্টিমিটার প্রস্থের মূল ফ্রেমের এ ড্রোনের ওজন মাত্র ৭১ গ্রাম। কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে এবং এ গবেষণা, ‘ডিভেলাপমন্ট অব এ সোলার পাওয়ার্ড মাল্টিরোটর মাইক্রো এরিয়াল ভেহিকল’ নামে ন্যাচার গ্রুপের জার্নাল সায়েন্টিফক রিপোর্টস এ প্রকাশিত হয়েছে। ড্রোনটি নিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা সোলার মিডিয়া প্লাটফর্ম ‘পিভি ম্যাগাজিন’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির পিপলস প্যালেস হলে এ ব্যাপারে বাংলা মিডিয়ার সামনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের-এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদের পরিচালনায় এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. হাসান শহীদ। ‘এন ইন্সপায়ারিং ইভিনিং উইথ রোবোটিক সাইন্টিস্ট ডক্টর হাসান শহীদ’ শীর্ষক লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের বিশেষ এই অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, ট্রেজারার সালেহ আহমদ এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট ইমদাদুল হক চৌধুরী ও বেলাল আহমদ, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রহমান,
প্রেস ক্লাবের লাইফ মেম্বার এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির অনারারি ফেলো ব্রিটিশ বাংলাদেশী প্রথম মিলিনিয়ার মুকিম আহমদ, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দার, বৃটিশ বাংলাদেশ ক্যাটারাস এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তফজ্জুল মিয়াসহ অন্যান্যরা। এছাড়া বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির রোবটিক্স বিজ্ঞানী ড. হাসান শহীদ ইতিমধ্যে অনন্য মেধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। এবার নেতৃত্ব দিলেন বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন উদ্ভাবনে।এর আগে কুইন মেরিতে বিশ্বের প্রথম সোলারকপ্টার উদ্ভাবন‌ও তার নেতৃত্বে হয়েছে।

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন:

‘মাইক্রো সোলারকপ্টার’ নামে পরিচিত এই সিস্টেমটি একটি রিচার্জেবল রেডিও-নিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র মাল্টিরোটর ড্রোন যা গড়ে ৩.৫ মিনিট পর্যন্ত উড়তে পারে। সূর্যের আলোতে ২৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট কন্ডিশনে এটি চার্য হতে সময় নেয় ৬৮ মিনিট এবং সূর্যের আলো ছাড়া ৩৮ দিন পর্যন্ত হাইবারনেশনে থাকতে পারে। সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সিস্টেমটি নিজে নিজেই রিচার্য হতে পারে বিধায় কোন কাজে ব্যবহৃত হওয়া বা অপারেশনের সময় এটিকে মাঠেই রাখা যায়।

একটি মাইক্রো এরিয়াল ভেহিকল (এমএভি) হিসাবে, বড় কোন সিস্টেমের তুলনায় এটির অনেক সুবিধা রয়েছে, যেমন কম উচ্চতায় উড়ার ক্ষমতা এবং কম খরচ। একটি ক্ষুদ্র সোলার প্যানেল ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা। মাল্টিরোটর ব্যবস্থাপনার কারণে সিস্টেমটির স্বয়ংক্রিয়তা বা ওটোনমি বেশি। আকাশের নিচু স্তরে উড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়োগের জন্য এটি ফিক্সড-উইং সিস্টেমের তুলনায় অনেক বেশি উপযোগী।

২০১২ : সোলারকপ্টার উদ্ভাবন:
এ মাইক্রো সোলারকপ্টারটির উদ্ভাবনের কাজ, কুইন মেরিতে প্রথম সোলার-হাইব্রিড মাল্টিরোটর ভেহিকল উদ্ভাবনের সাথে সংশ্লিষ্ট। ড. হাসান শহীদের তত্ত্বাবধানে সেটির কাজ ইরাকি বংশোদ্ভূত ছাত্র আলী আবিদালিকে দিয়ে ২০১১ সালে শুরু হয় এবং সেটিতে সোলার প্যানেল, চার্য কন্ট্রোলার এবং ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ২০১২ সালে সেটি উড়তে সক্ষম হয়। এরপর কুইন মেরিতে শুধুমাত্র সৌরশক্তি ব্যবহার করে সোলারকপ্টার উদ্ভাবনের কাজ শুরু হয়। সেটি ছিলো সৌরশক্তি চালিত বিশ্বের প্রথম মাল্টিরোটার এরিয়াল ভেহিকল, যেটি কোন রকম ব্যাটারির সহায়তা ছাড়া উড়তে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে প্রদর্শন করা সম্ভব হয় যে কোয়াডরোটর ডিজাইনের সোলারকপ্টার ব্যাটারির সহায়তা ছাড়া শুধুমাত্র সূর্যের আলোতে উড়তে পারে। এর পর কুইন মেরি এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সৌরশক্তি চালিত আরো বেশ কয়েকটি মাল্টিরোটার ভেহিকলের উদ্ভাবন হয়েছে।

দিনে দিনে ড্রোন প্রয়োগের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে আকাশে নিরাপদে বেশি সময় ধরে উড়তে সক্ষম মাল্টিরোটর ড্রোনের চাহিদা। বেশি সময় ধরে উড়তে পারা ড্রোন এবং অনেকগুলো ড্রোন একসাথে কাজ করতে পারা বা ড্রোন সোয়োর্মের উন্নয়নের সাথে মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন মনিটরিং, ইন্সপেকশন, ফটোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট অনেক ধরনের প্রয়োগের উপযোগী হবে। এ ধরনের কয়েকটি কাজরে উদাহরণ হলো, নির্মাণ কাজ মনিটরিং, বনে-জঙ্গলে জীবজন্তুর চলাফেরা এবং বিপদ-আপদের ঝুঁকি মনিটরিং, আবহাওয়া মনিটরিং, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বন্যা এবং ভূমিকম্প কবলিত স্থানে ক্ষয়ক্ষতি এবং ত্রান কাজ মনিটরিং ইত্যাদি। এমনকি এ ধরনের মাল্টিরোটর সোলার ড্রোনকে স্যাটেলাইট হিসেবেও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

উদ্ভাবিত মাল্টিরোটর মাইক্রো সোলারকপ্টারের মতো সিস্টেম মাল্টিরোটর সিস্টেমের প্রয়োগের পরিধি নিঃসন্দেহেআরো বাড়াবে। মাইক্রো সোলাকপ্টারে সংযুক্ত আছে একটি ফার্স্ট পারসন ভিউ ক্যামেরা যা এটিকে অনেক ধরনের প্রয়োগের জন্য উপযোগী করবে যেমন অবিরাম পরিবেশ মনিটরিং, কোন বিশেষ স্থানের ভিডিও ইন্সপেকশন এবং মঙ্গল গ্রহের মতো স্থানে পরিবেশ মনিটরিং যেখানে চার্য করার কোন স্টেশন নেই। ক্ষুদ্র আকারের হওয়ার কারণে এ মাইক্রো সোলারকপ্টার সোয়োর্ম বিন্যাসের বা অনেকগুলো একসাথে মিলে কাজ করার জন্য বিশেষ উপযোগী হবে। এভাবে এরা অনেক বড় এলাকা একসাথে মনিটরিং এবং ভিন্ন ভিন্ন কাজ একসাথে করতে পারবে।

ড. হাসান শহীদ-এর
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
ড. হাসান শহীদ কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটিয়ারিয়াল সায়েন্স এর শিক্ষক (রিডার) এবং গবেষক। তার গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা একশ’ এর উপরে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ছাত্র তার অধীনে পিএইচডি ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকসহ ৫ জন ছাত্র তার অধীনে পিএইচডি গবেষণা করছে। সোলার ড্রোন ছাড়া তিনি মানুষের পরিপাক তন্ত্র ইন্সপেকশন এবং রোগ শনাক্ত করনের উপযোগী ক্যাপসুল রোবট, অনুভূতি সম্পন্ন কৃত্রিম হাত (প্রসথেটিকস), বয়স্ক এবং ডিস্যাবল লোকদের সহায়তা করতে পারে এমনসব রোবট নিয়ে গবেষণা করছেন।

গবেষণার পাশাপাশি বিশ্বাবিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য এর আগে ড. হাসান শহীদ ইউকের সবচেয়ে সম্মনাজনক শিক্ষা পুরস্কার ‘ন্যাশনাল টিচিং ফেলোশিপ (এনটিএফ)’ অর্জন করেছেন। ব্রিটেন এবং সারাবিশ্বে সুপরিচিত এ পুরস্কার ছাত্র-ছাত্রীদের শেখানোর ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক অবদানের জন্য ইউকে হায়ার এডুকেশন আক্যাডেমি ব্যক্তিবিশেষকে প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশী আক্যাডেমিক হিসেবে ড. হাসান শহীদ প্রথম এ পুরস্কার পেয়েছেন।

এ পুরস্কারের জন্য ইউকের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষক এবং শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট স্টাফদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ তিনজনকে নির্বাচন করতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচিত শিক্ষকদের মধ্য থেকে বাছাই করে হায়ার এডুকেশন আক্যাডেমি প্রতিবছর এ পুরস্কার দিয়ে থাকে। যে কারণে ড. শহীদকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে- ছাত্র-ছাত্রী কেন্দ্রিক শিক্ষা বা স্টুডেন্ট সেন্টর্ড লার্নিং, গবেষণা-ভিত্তিক শিক্ষা বা রিসার্চ-লেড টিচিং এবং অনেকগুলো পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রজেক্টের সুপারভিশনে বিশেষ অবদান। উচ্চতর শিক্ষায় উৎকষর্তায় বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য ড. হাসান শহীদ এর আগে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির ড্রেপার্স প্রাইজ এবং ড্রেপার্স টিচিং ফেলোসীপে সম্মানিত হয়েছেন।
ড. হাসান শহীদ বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার হানুয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন এবং বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে ততকালীন যশোর বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় তয় স্থান নিয়ে এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স এবং ইলেকট্রনিক্স বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান নিয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি শেফিল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে রোবটিক্সে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে যোগ দেন।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের শোকসভা : শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায় বিবিসিখ্যাত প্রয়াত পাঁচ সাংবাদিককে স্মরণ

লন্ডন, ২৩ অক্টোবর ২০২৪ : লন্ডনে সহকর্মীদের আবেগঘন স্মৃতিচারণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হলো বিবিসির প্রয়াত পাঁচ বৃটিশ-বাংলাদেশী সাংবাদিককে। গত ১৮ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত শোকসভায় এই গুণী সাংবাদিকদের স্মরণ করা হয় । এঁরা হলেন ঊর্মি রহমান, গোলাম কাদের, কাদের মাহমুদ, গোলাম মুর্শিদ ও শাহীন জামান । প্রত্যেকেই ছিলেন বিবিসিখ্যাত সাংবাদিক, দীর্ঘদিন বিবিসির বাংলা বিভাগে কাজ করে সুনাম অর্জন করেন তাঁরা । একইসঙ্গে লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জনমত ও নতুন দিনের প্রকাশনায়ও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সহকর্মীদের স্মৃতিকথায় উঠে আসে বিলেতে সাংবাদিকতা, বাংলা ভাষার চর্চা-বিকাশ এবং বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারে তাঁদের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকার কথা । তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছিলেন মহীরুহসম। সাংবাদিকরা মনে করেন এসব কীর্তিমান তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিলেতে বাংলাদেশী সমাজ ও সাংস্কৃতিকে অনেক দূর নিয়ে গেছেন । তাদের হারানোর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশী কমিনিটির যে ক্ষতি এবং শূন্যতার সৃষ্ঠি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার কথা নয় । এই পাঁচজন স্বনামধন্য সাংবাদিক সম্প্রতি অল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেন।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের । সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রয়াত সাংবাদিকদের কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলোর সাবেক পরামর্শক সম্পাদক কামাল আহমেদ, সাপ্তাহিক জনমত এর সাবেক নির্বাহী সম্পাদক দানেস আহমেদ, অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক নতুন দিন-এর সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি খুররম মতিন, প্রেস ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট নবাব উদ্দিন, চ্যানেল এস এর সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার ডাঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, বিশিষ্ট সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মিলন, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী ও সাংবাদিক আব্দুল মুনিন জাহেদী ক্যারল প্রমুখ।
তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে প্রয়াত পাঁচ সাংবাদিকের কর্মনিষ্ঠা, বন্ধুত্ব, সহকর্মীদের প্রতি গভীর আন্তরিকতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং বাংলা ভাষার প্রতি তাঁদের মমতার কথা। এ সময় ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সভায় কবিতা পাঠ করেন সাংবাদিক ঊর্মি মাযহার ও কবি সারওয়ার-ই আলম ।

বিবিসি বাংলার সাবেক সাংবাদিক কামাল আহমেদ বলেন, মূলত পাঁচজন নয়, সৈয়দ আফসার উদ্দিনসহ বিবিসি বাংলার ছয়জন প্রয়াত সাংবাদিকের মধ্যে একটি বিষয়ে অভিন্ন মিল ছিল, আর তা হলো—ব্রিটেনে বাংলা ভাষা, শিল্পকলা-সাহিত্য চর্চা ও প্রসারে তাঁরা প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন । শুধু সাংবাদিকতাই নয়, এর বাইরেও তাঁদের কিছু না কিছু অবদান আছে। উর্মি রহমান ব্রিটেনে বাংলা ভাষার প্রচলনের জন্য এখানে তিনি অনেক ভূমিকা রেখেছেন। গোলাম মুরশিদ বাংলা বই যেমন লিখেছেন, তাঁর সাহিত্য কর্মের মাধ্যমে বাংলা ভাষার প্রসার-সাহিত্য এবং ইতিহাস নিয়ে আত্মনিয়োগ করেছেন । তিনি ছিলেন শিক্ষক ।শাহীন জামান শিল্পচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ।সাংবাদিকতা ছাড়াও নাটক, সঙ্গীত আয়োজনে তাঁর ভূমিকা ছিলো উল্লেখ্য করার মতো । কাদের মাহমুদ লেখক হিসাবে শুধু ব্রিটেনে নয়, বাংলাদেশে ভূমিকা রেখেছেন ।এঁদের সবার ভূমিকা উল্লেখ করার মতো। গোলাম কাদের ব্রিটেন বাংলা পাড়ায় এবং ব্রিটেনের বাইরে কম্পিউটারে বাংলা ফন্ট ব্যবহারের প্রচলন শুরু করতে ভূমিকা রেখেছেন।

সাপ্তাহিক জনমতের সাবেক সম্পাদক নবাব উদ্দিন বলেন, গত এক বছরে আমরা ছয় জন গুনি সাংবাদিককে হারিয়েছি, এটা সত্যি আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি ।তিনি বলেন, গোলাম কাদেরের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক ছিলো, শেষ দেখা হয় বাংলাদেশ বিমানে ।সাংবাদিক গোলাম মুরশিদ বাংলা ভাষার পন্ডিত ছিলেন । মালবারি স্কুলের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন, মারবারি স্কুলে থাকাকালীন এ লেভেল এবং জিসিএসই শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি মালবারি গুচ্ছ প্রকাশ করেন যা বাংলা শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সাপ্তাহিক জনমত মালবারি গুচ্ছ প্রকাশের দায়িত্ব পালন করে। বইগুলো বাঙালির জীবন কাহিনী নিয়ে সরল ভাষায় রচিত । একইসঙ্গে তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে অভিধান রচনা করেন । রুপসী বাংলা ডিকসনারী তৈরী ও ‘কালাপানির হাতছান নামে একটি বই লেখেন যা বিতর্কের সৃষ্টি করে।

ঊর্মি রহমান সম্পর্কে নবাব উদ্দিন বলেন, তাঁর সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক ছিল ।কাদের মাহমুদ সম্পর্কে তিনি বলেন, জনমতে থাকাকালে কাদের মাহমুদ সাহিত্য পাতা চালু করে লন্ডনে বাংলা সাহিত্য চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । তিনি পঞ্চাশটির মতো বই রচনা করেন । এছাড়াও তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক ।শাহীন জামানের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক ছিলো, তিনি ছিলেন আমার বন্ধুর মতো ।তার সাথে অনেক কাজ করেছি, নাটক করেছি । তাঁর মৃত্যুর পর আমি দাফন-কাপন থেকে শুরু করে চেষ্টা করেছি সধ্যমতো সবকিছু করার।

সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী গোলাম কাদের সম্পর্কে বলেন, তাঁর প্রতি বিলেতের বাংলা গণমাধ্যমকর্মীদের অনেক ঋণ রয়েছে । বাংলা কাগজগুলোতে বাংলা ফন্ট ব্যবহারের কাজটি তিনি খুব সহজ করে দেন । তিনি আমাদেরকে শিখিয়ে দেন কীভাবে সহজে বাংলা ফন্ট বিজয় ব্যবহার করা যায় ।বাংলা ফন্ট নিয়ে বিপদে পড়লে উনাকে ডাকতাম।

ঊর্মি রহমান সম্পর্কে মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, তাঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ খুব নিবিড় ছিল । ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত আন্তরিক ও সদালাপী মানুষ ছিলেন তিনি। পনের বছর আগে প্রেস ক্লাবের একটি নির্বাচনে তিনি নির্বাচন কমিশনার হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন । প্রেস ক্লাবের যে ক’জন সদস্য নির্বাচন কমিশনার হয়েছিলেন তিনি তাঁদের মধ্যে একজন ।

লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মহিব চৌধুরী বলেন, গোলাম কাদের একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন নিরপেক্ষতা এবং ভ্যালেন্স বজায় রেখে যতটা কাজ করা যায় তা তিনি করতেন।এটা হয়তো বিবিসির প্রভাব হতে পারে । তিনি অত্যন্ত অনেস্ট মানুষ ছিলেন।

লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ৭০/৮০ এর দশকে যারা সাংবাদিকতা করেছেন তাদের সাথে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের একটা গ্যাপ তৈরি হয়ে গেছে। গত ১০/১২ বছরে একটা জেনারেশন মিডিয়াতে তৈরি হয়ে গেছে যারা ৭০/৮০ দশকের সাংবাদিকদের ততটা চিনেন না ।প্রয়াত পাঁচজন সাংবাদিকের সাথে সাপ্তাহিক জনমত ও নতুন দিনের সুত্রে গত ৩০/৪০ বছর ধরে সম্পর্ক গড়ে উঠে । আমরা এসব গুনি সাংবাদিকদের স্মরণ করছি, দোয়া করেছি আল্লাহ উনাদের মাফ করে দেন । আমরা লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাব অন্যান্য সিনিয়র সাংবাদিকদের সহযোগিতায় তাদের স্থায়ীভাবে স্মরনে রাখতে কিছু ভূমিকা রাখবো।

সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ বলেন উর্মি রহমান, গোলাম কাদের, কাদের মাহমুদ, গোলাম মুর্শেদ ও শাহীন জামান এই পাঁচজন সাংবাদিক স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিভাবান এবং গুনি ছিলেন । তারা সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষার প্রচার এবং প্রচারে অন্যন্য ভূমিকা রেখেছেন, এজন্য তঁরা বাংলাদেশী কমিউনিনিতে স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

শোকসভা শেষে প্রয়াত পাঁচ সাংবাদিকের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

READ MORE

উৎসবমুখর পরিবেশে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৪ অনুষ্ঠিত :

ওয়ান বাংলা ফ্রেণ্ডস ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়ন, চ্যানেল এস রানার্স আপ

লন্ডন, ১৬ অক্টোবর ২০২৪ : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিলেতে বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৪ সম্পন্ন হয়েছে । ১৩ অক্টোবর রোববার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ব লন্ডনের স্টেপনি গ্রীন ফুটবল মাঠে এ টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় । মিডিয়া কাপ টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহন করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে ছুটে আসেন প্রেস ক্লাবের সদস্যরা । সাংবাদিকদের মিলন মেলায় পরিনত হয় ফুটবল টুর্নামেন্ট।

বিকেলে খেলা শেষে পুরস্কার বিতরনী আনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ । এতে বক্তব্য রাখেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন, প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মহিব চৌধুরী, সাবেক প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী, প্রধান স্পনসর ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের সিইও ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান, পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টের স্বত্তাধিকারী তোফাজ্জুল আলম, টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনা টিমের লীডার লন্ডন স্পোর্টিফ-এর ট্রেজারার আতিকুর রহমান, চ্যাম্পিয়ন টিম ওয়ানবাংলা ফ্রেণ্ডস ইউনাইটেড এর লীডার আহাদ চৌধুরী বাবু ও রানার্স আপ চ্যানেল এস টিমের লীডার কামরুল হাসান। প্রেস ক্লাবের মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলো লন্ডন স্পোর্টিফ ।

সকালে প্রেস ক্লাবের ইভেন্টস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বে খেলার নিয়ম-নীতি জানিয়ে দেয় টুর্নামেন্টের ব্যবস্থাপনা টিম লন্ডন স্পোটিফ।
এবারের টুর্নামেন্টে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন মিডিয়া হাউস থেকে মোট ৮টি টিম অংশ গ্রহণ করে। টিম গুলো হলো : বিঅনটিভি ইউকে, বাংলা পোস্ট, চ্যানেল এস, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড, এসপি ইউনাইটেড, ইউকে বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড ও সাপ্তাহিক দেশ । খেলায় ২-০ গোলে বিজয়ী হয় ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড এবং রানার্স আপ হয় চ্যানেল এস।
বিচারকমন্ডলীর নির্বাচনে টুর্নামেন্টে চুড়ান্ত পর্বের খেলায় সেরা খেলোয়াড়ে ভুষিত হয়েছেন এনটিভি ইউরোপের সিনিয়র রিপোর্টার কয়েস আহমদ রুহেল, পুরো খেলায় সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন টিভিওয়ানের সিনিয়র রিপোর্টার জাকির হোসাইন কয়েস, সেরা গোলদাতা নির্বাচিত হয়েছেন এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার কয়েস আহমদ রুহেল এবং সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল এস-এর ভিডিও এডিটর ওয়ালিদ বিন খালিদ সাগর।


এবারের মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনে উপকমিটিতে ছিলেন ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী, ট্রেজারার সালেহ আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, ট্রেনিং সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইন, আইটি সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল হান্নান, নির্বাহী সদস্য শাহিদুর রহমান সুহেল, জাকির হোসেন কয়েস ও ফয়সল মাহমুদ।
টুর্ণামেন্টের মূল স্পন্সর ছিলো ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউড (ডাব্লিউপিসি), শেফ অনলাইন ও পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট । এছাড়া টিমগুলোর স্পন্সর ছিলো- ইউকেবাংলা মার্কেট প্লেস, রুপালি এক্সপ্রেস, এক্সেল টিউটর্স, কিংডম সলিসিটর্স, রিয়া মানি ট্রান্সফার, লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি, ফিস্ট এন্ড মিস্টি রেস্টুরেন্টে, বাংলা কাগজ, ফিস্ট এক্সপ্রেস রেস্টুরেন্ট ও ভিনটেইজ এক্সিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট ।

প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের ও জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ তাঁদের বক্তব্যে বিজয়ী ও রানার্স আপ টিমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ৮টি টিমের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা। সকলের অংশগ্রহণে আমরা একটি আনন্দঘন টুর্নামেন্ট উপহার দিতে পেরেছি। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের স্পনসরদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা । তাঁরা বলেন, ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে আমাদের ক্লাবের বছরের একটি সেরা আয়োজন । এই আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত আমাদের সদস্যরা একটি দিনের জন্য একই স্থানে একীভূত হয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন । এটি আমাদের সদস্যদের মধ্যে পারস্পারিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে মনে করি ।

READ MORE

আনন্দঘন আয়োজনে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সামার ট্রিপ ২০২৪ অনুষ্ঠিত

বিখ্যাত ইংরেজ সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জন্মস্থান স্ট্রার্টফোর্ডের আপন এভনে গত ২৮ জুলাই রোববার অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সামার ট্রিপ ২০২৪। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল রোড থেকে তিনটি বাসে করে ক্লাবের সদস্যরা সপরিবারে যাত্রা শুরু করেন । সকাল পৌনে ১১টায় তিনটি বাস শেক্সপিয়ারের বাড়ির উদ্দেশ্যে হোয়াইটচ্যাপেল ত্যাগ করে । বাসে উঠার আগে প্রত্যেকের হাতে ‘রাধুনী’র পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় স্নাক্সস ব্যাগ তথা সকালের নাস্তা।
পৃথকভাবে তিনটি বাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের, জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাঈম চৌধুরী, আইটি সেক্রেটারি মোঃ হান্নান, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন, ইসি মেম্বার ফয়সল মাহমুদ ও জাকির হোসেন কয়েস।

যাত্রা পথে তিনটি বাসেই চলে গান ,কবিতা, ধাঁধা ও হাস্যরসাত্মক গল্পকথা ‌। দুপুর আড়াইটার দিক স্ট্রার্টফোর্ডের আপন এভনে তিনটি বাস একসাথে পৌঁছে । ক্লাবের নর্থ ইংল্যান্ড এবং মিডল্যান্ডসের সদস্যরাও এবারের পিকনিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়।

খাবারের তত্ত্বাবধানে ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রথম নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সুহেল। তাঁকে সহযোগিতা করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য ও বাংলা প্রেস ক্লাব বার্মিংহামের সভাপতি মুহাম্মদ মারুফ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সোহেল আমেদ চৌধুরী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আকরামুল হেসেন সহ আরো অনেকে ‌। খাওয়া-দাওয়া শেষে অনুষ্ঠিত হয় খেলাধুলা । এই পর্ব পরিচালনা করেন সাহিদুর রহমান সুহেল, অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইন। খেলাধুলার শুরুতেই ছিল নারীদের হাড়ি ভাঙ্গা। এরপর দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয় বাচ্চাদের মার্বেল দৌড় । পুরুষদের জন্য ছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলা এবং সব শেষে ছিল দড়ি টানাটানি । খেলাধুলা শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী । বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের, সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, ইভেন্টস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন সহ কার্যকরী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি ক্লাবের সিনিয়র সদস্যবৃন্দ । সাথে ছিলেন সামার ট্রিপের মূল স্পন্সর বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিষদ ইউকের সভাপতি এস এম খালিক উদ্দিন ।

সবশেষে পড়ন্ত বিকেলে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা বিশ্বখ্যাত কবি শেক্সপিয়ারের বাড়িসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য-সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন আপন এভন শহর ঘুরে দেখেন । এরপর সন্ধ্যা ৭টায় সকলে ফিরে আসেন বাস পার্কিং পয়েন্টে। সারাদিনের হৈ হল্লুড় পেছনে ফেলে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তিনটি বাস ছাড়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে। পথে চলে গান কবিতা কৌতুক । রাত ১০টায় লন্ডন ফিরে সকলে বিদায় নেন যার যার মতো করে।
এবারের সামার ট্রিপে খাবার এবং খেলাধুলার সরঞ্জাম প্রদান সহ সকল পুরস্কারের স্পন্সর ছিল বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিষদ ইউকে সিআইসি।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের ওয়ারউইকশায়ারের স্ট্র্যার্টফোর্ড-আপন-আ্যাভনে জন্ম নেওয়া উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ছিলেন একজন ইংরেজ কবি ও নাট্যকার । তাঁকে ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং বিশ্বের একজন অগ্রণী নাট্যকার ভাবা হয়। ট্র্যাজেডি, কমেডি, ইতিহাসনির্ভর প্রায় ৪০টি নাটক, পৌনে ৪০০ কবিতায় সমৃদ্ধ–সফল সাহিত্যকর্ম রয়েছে। ১৫৬৪ সালে জন্ম নেওয়া এই বিশ্বখ্যাত কবি পৃথিবী থেকে বিদান নেন ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল । সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

READ MORE

লন্ডন, ২১ এপ্রিল ২০২৪ঃ “সিলেটে স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান’-এ লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ৩৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর

সিলেট ক্যাডেট কলেজ-সংলগ্ন বধ্যভূমিতে “সিলেট শহীদ স্মৃতি উদ্যান’ প্রতিষ্ঠায় অংশীদার হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব । ক্লাবের সম্মানিত সাধারণ সদস্য ও আজীবন সদস্যদের সহযোগিতায় ৩৫ লাখ টাকা প্রদান করা হচ্ছে । ২১ এপ্রিল রোববার বিকেলে লন্ডন বাংলা প্রেস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৩৫ লাখ টাকার চেক (প্রতীকী) হস্তান্তর করা হয় । এই অর্থ শীঘ্রই সিলেট শহীদ স্মৃতি উদ্যান কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে ।


অনুষ্ঠানে প্রতিকী চেকটি গ্রহণ করেন সিলেট শহীদ স্মৃতি উদ্যান ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষে কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা আহমদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি । এই ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে ১১ হাজার পাউন্ড দান করেছেন কনজার্ভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুকিম আহমদ।


লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম বাসন, সদ্যসাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য ইউকেবিসিসিআইর সাবেক প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ এমবিই, ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার এমবিই, ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের সিইও ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান ও লন্ডনের ব্রেন্ট কাউন্সিলের সাবেক মেয়র কাউন্সিলার পারভেজ আহমদ।


অনুষ্ঠানে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য, সাধারণ সদস্য, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৩৫ লাখ টাকা সংগ্রহে বিশেষ ভুমিকা রাখার জন্য ক্লাবের সদ্যসাবেক প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে যাঁরা এই ফান্ডরেইজ ক্যাম্পেইনে স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাড়া দিয়ে ৩৫ লাখ টাকা প্রদান করেছেন তাঁদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।


উল্লেখ্য, সিলেট ক্যাডেট কলেজের পেছনে সালুটিকর বধ্যভূমিতে স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর এবং নির্মাণকাজ শেষে উদ্বোধন করা হয় ২০২৩ সালের ৪ই মার্চ । এই প্রকল্প প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অবঃ) এম এ সালাম বীরপ্রতীক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ জিয়া উদ্দিন ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের স্বজনদের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরে নিয়ে ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন এই বধ্যভূমিতে নৃশংস কায়দায় হত্যা করে মাটিচাপা দেয় । এই বধ্যভূমিতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান’। যুদ্ধকালিন সময়ে সেখানে মাটিচাপা দেওয়া অজ্ঞাত অনেক শহীদের মধ্য থেকে ৬৬ জনের নাম-পরিচয় সনাক্ত করে পৃথক পৃথক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে । বাকি শহীদদেরও নাম-পরিচয় শনাক্তকরণে কাজ চলছে । ৬৬ শহীদের পরিবার প্রথমবারের মতো দেশের জন্য আত্মোত্যাগকারী তাদের শহিদ স্বজনদের স্মৃতিচিহ্নের সন্ধান পেয়েছেন । নান্দনিক এই স্মৃতি উদ্যানে পর্যায়ক্রমে পাঠাগার, যাদুঘর, কফিশপ এবং আলাদা বসার জায়গা নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা : বিলেতে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে সৈয়দ আফসার উদ্দিনের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে

লন্ডন, ১৭ এপ্রিল ২০২৪: বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আফসার উদ্দিন-এর মৃত্যূতে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা বলেছেন, তিনি ছিলেন একজন আপাদমস্তক ভদ্রলোক । ছিলেন সদালাপী, বিনয়ী ও কৃতজ্ঞতাবোধ সম্পন্ন মানুষ । একজন সাংবাদিক ও শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী । তিনি যে কাজটিই করতেন তা সুন্দর ও সুনিপুনভাবে সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। সংবাদপাঠকে তিনি মনেপ্রাণে ভালোবাসতেন । টেলিভিশনে ব্যতিক্রমী ভঙ্গিমায় সংবাদ উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে তিনি দর্শকদের মনজয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার মাধ্যমে বিলেতে বাংলা ভাষার প্রচার ও যে প্রসারে যে অসাম্য অবদান রেখেছেন তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বক্তারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতে সমাসীন করেন।

১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডস্থ লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই শোকসভায় বিলেতের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিকগণ বক্তব্য রাখেন ।
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিতে অনুষ্ঠিত শোকসভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ।

অতিথিবক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক নতুন দিন সম্পাদক মহিব চৌধুরী, চ্যানেল এস-এর ফাউন্ডার মাহি ফেরদৌস জলিল, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, সদ্যসাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী এবং সাবেক সভাপতি ও জনমত-এর সাবেক সম্পাদক নবাব উদ্দিন। অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী।

শুরুতে অনুবাদসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন এবং মানুষের জীবন ও মৃত্যু নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিনিয়র ইমাম সৈয়দ আনিসুল হক। এরপর সৈয়দ আফসার উদ্দিনের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন চ্যানেল এস এর নিউজ প্রেজেন্টার শহীদুল ইসলাম সাগর। তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে সাংবাদিক কামাল মেহেদীর নেওয়া একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয় । এর আগে ৫২ বাংলা টিভিতে প্রচারিত একটি ডকুমেন্টারি প্রজেক্টার স্ক্রীনে দেখানো হয়।

শোকসভায় আরো বক্তব্য রাখেন মরহুম সৈয়দ আফসার উদ্দিনের পরিবারের পক্ষে সলিসিটর সৈয়দ শাহীন, চ্যানেল এস এর চেয়ারম্যান আহমদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য ও ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহগীর বক্ত ফারুক, প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য ব্রিটিশ বাংলাদেশী ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহানুর খান, ব্রিটিশ বাংলাদেশী টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল বাসিত চৌধুরী, বিবিসি বাংলার সাবেক প্রযোজক কামাল আহমদ, সাবেক প্রযোজক উদয় শঙ্কর দাশ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, সাংবাদিক ও কবি সারওয়ার-ই-আলম, টিভিওয়ান এর ডাইরেক্টর অপারেশন্স গোলাম রাসুল, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, চ্যানেল এস এর সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টোর ডাঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, এটিএন বাংলা ইউকের প্রেজেন্টার উর্মি মাযহার, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ট্রেজারার সালেহ আহমদ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ইভেন্টস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন, সিনিয়র সাংবাদিক ও শিক্ষক মোস্তফা কামাল মিলন, চ্যানেল এস এর হেড অব নিউজ কামাল মেহেদী, হেড অব প্রোগ্রামস ফারহান মাসুদ খান, সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার তৌহিদ শাকিল, এটিএন বাংলা ইউকের সিনিয়র রিপোর্টার মোস্তাক আলী বাবুল, সাংবাদিক ও লেখক আব্দুল মুনিম জাহিদী ক্যারল, সানরাইজ টুডে অনলাইন-এর সম্পাদক এনাম চৌধুরী, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য-সাবেক নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু ও এনটিভি ইউরোপের সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার শামসুল তালুকদার।
প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী বলেন, সৈয়দ আফসার ঊদ্দিন ছিলেন একজন অমায়িক মানুষ । তিনি তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে প্রেস ক্লাব এবং চ্যানেল এস মিলে যৌথভাবে কিছু করার আহবান জানান।
চ্যানেল এস-এর প্রতিষ্ঠাতা মাহি ফেরদৌস জলিল বলেন আফসার উদ্দিন একজন পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন । তিনি কাজকে মায়ের মত সম্মান করতেন। তাই তার সংবাদ পাঠে ভুল থাকতোনা । তিনি সব জায়গায়ই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন । তিনি আরো বলেন, জীবন একটি সুযোগ, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন আফসার উদ্দিন । তাই তিনি তাঁর কাজকে গুরুত্ব দিয়েছেন সকল জায়গায় । তিনি ধর্মভীরু ছিলেন । সর্বদা হাসিখুশী থাকতেন ।

সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সৈয়দ আফসার উদ্দিন ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য কিছু করতেন না । তাঁর মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ ছিলো । তিনি আরো বলেন, মরহুম আফসার উদ্দিন বিলেতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষার চর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করতে পারলে ভাল হবে ।
সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমদ বলেন, আফসার ঊদ্দিন একজন সজ্জন মানুষ
ছিলেন । তিনি সবার সাথে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করতেন ।
নবাব উদ্দিন বলেন আফসার উদ্দিন বহুমাত্রিক গুণের অধিকারি ছিলেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী “তসুদ্দুক আহমদ জার্নালিস্ট এওয়ার্ড” চালু করা যায় কিনা- বিষয়টি ভেবে দেখতে প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।
আহমেদ ঊস সামাদ চৌধুরী বলেন আফসার ঊদ্দিন একজন গোছানো এবং ফ্যাশন-সচেতন মানুষ ছিলেন । তিনি তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ।
আবু মুসা হাসান বলেন সৈয়দ আফসার উদ্দিন ছিলেন বিরল গুণের অধিকারী । তিনি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন ।
শাহগীর বখত ফারুক বলেন, আফসার উদ্দিন সর্বগুণে গুণান্বিত একজন মানুষ ছিলেন । তাঁর কৃতজ্ঞতাবোধ ছিলো অপরিসীম ।
মোস্তফা কামাল মিলন বলেন আফসার উদ্দিন একজন স্পষ্টবাদী মানুষ ছিলেন ।
সলিসিটর সৈয়দ শাহীন বলেন, আফসার উদ্দিন মিঠু একজন সজ্জন এবং বিনয়ী মানুষ ছিলেন । তিনি সকলকে আপন করে নিতে পারতেন ।
শোকসভার শেষ দিকে ছিলো দোয়া মাহফিল। দোয়া পরিচালনা করেন ব্রিকলেন জামে মসজিদের প্রধান ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম। শোকসভা উপলক্ষে একটি শোকবই খোলা হয়। অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকরা তাঁদের প্রিয় সহকর্মী সৈয়দ আফসার উদ্দিন সম্পর্কে তাঁদের অনুভুতি লিপিবদ্ধ করেন । আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য, চ্যানেল এস এর সিনিয়র সংবাদ পাঠক বিশিষ্ট সাংবাদিক ও শিক্ষক সৈয়দ আফসার উদ্দিন গত ১২ এপ্রিল শুক্রবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ইন্তকাল করেন। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (২০২৪) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে সৈয়দ আফসার উদ্দিনকে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিলেতে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে অসামান্য রাখায় “লাইফটাইম এচিভমেন্ট এওয়ার্ড” প্রদান করে ।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের একুশের অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান বেণু : ঢাকার পর লন্ডনে বাংলা ভাষার সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়

বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন শুরু হয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি দিয়ে । ঢাকার পর (প্রবাসীদের মধ্যে) লন্ডনে বাংলা ভাষার সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়- যা আর কোনো দেশে হয় না।
কথাগুলো বলেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুর রহমান বেণু । তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘গৌরবের একুশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।
বিলেতে ‘বাংলা সংস্কৃতি চর্চা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে জনাব মাহমুদুর রহমান বেণু আরো বলেন, আমরা যখন লিখি বা বলি সব সময় যেন শুদ্ধ বাংলায় তা করি। শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারাটাও গৌরবের বলে আমি মনে করি।


লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ জুবায়ের-এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে “বিলেতের গণমাধ্যমে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা” শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিবিসি বাংলা’র সাবেক প্রযোজক উদয় শঙ্কর দাশ, চ্যানেল এস-এর জ্যেষ্ঠ সংবাদ পাঠক ডাঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার এবং কবি ও সাংবাদিক সারওয়ার-ই আলম। আরো বক্তৃতা করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদ্য-সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী ও কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এসময় নিজনিজ ধর্ম মতে ভাষা-শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় । এরপর মাহমুদুর রহমান বেণুর নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি।


“বিলেতের গণমাধ্যমে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা” শীর্ষক বিষয়ে উদয় শঙ্কর দাশ বলেন, সব ভাষাতেই বিবর্তন ঘটে এবং অন্য ভাষার প্রবেশ ঠেকানো কঠিন হয়ে যায় । তবে বাংলা ভাষাকে যদি আমরা আরেকটু বেশি ভালোবাসি তাহলে এতে শুদ্ধচর্চার বিকাশ ঘটবে । এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার শুদ্ধচর্চা নিয়ে কর্মশালার আয়োজনের পরামর্শ দেন।
একই বিষয়ে চ্যানেল এস-এর জ্যেষ্ঠ সংবাদ পাঠক ডাঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত বাংলা ভাষার ভুলভ্রান্তি নিয়ে কথা বলেন । বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বহুবচন, শুদ্ধ উচ্চারণ, শব্দ বিকৃতি এসব বিষয় তাঁর আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
কবি ও সাংবাদিক সারওয়ার-ই আলম তাঁর বক্তব্যে শুদ্ধ উচ্চারণের প্রতি বেশি জোর দেন। তিনি বলেন, আমরা ব্যাকরণ ঠিকভাবে চর্চা করি না। বাংলা বর্ণমালা শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করলে এবং দুই-এক মাস যে কেউ অনুশীলন করলে শুদ্ধভাবে বাংলা উচ্চারণে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।


অনুষ্ঠানে প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরীর একুশের গান রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এটিএন বাংলা ইউকের জ্যেষ্ঠ উপস্থাপক উর্মি মাযহার। তিনি আব্দুল গাফফার চৌধুরীর একটি লেখার অংশ পাঠ করে শোনান । এরপর আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে নিয়ে শিল্পী ফজলুল বারির কণ্ঠে একটি গান টিভি স্ক্রিনে বাজিয়ে শোনানো হয়।
অনুষ্ঠানে ক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও চ্যানেল এস এর জ্যেষ্ঠ সংবাদ পাঠক সৈয়দ আফসার উদ্দিন এমবিইকে বাংলা ভাষা শিক্ষা ও ব্রিটিশ বাংলা মিডিয়াতে অবদান রাখার জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ জুবায়ের অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর হাতে এই বিশেষ সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।
এ সময় সৈয়দ আফসার উদ্দিন এমবিই তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি এই সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড তাঁর মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি উৎসর্গ করেন। বিলতে বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রয়াত কমিউনিটি নেতা তাসাদ্দুক আহমেদ এমবিই স্মরণে একটি অ্যাওয়ার্ড চালু করার আহবান জানান । এছাড়াও দেশে-বিদেশে যাঁরা টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করেন প্রতি বছর তাদের মধ্য থেকে একজনকে একুশে পদক দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন সৈয়দ আফসার উদ্দিন।

সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন হিমাংশু গোস্বামী, গৌরী চৌধুরী, শ্রেয়সী দাস, ববি রায়, মোস্তফা কামাল মিলন। নৃত্য পরিবেশন করেন সোনিয়া সুলতানা ও নন্দিনী। কবিতা আবৃত্তি করেন মিছবাহ জামাল, কবি দিলু নাসের, শহীদুল ইসলাম সাগর ও মুনিরা পারভীন । সাংস্কৃতিক পর্বটি পরিচালনা করেন ক্লাবের ইভেন্টস অ্যাণ্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারী রূপি আমিন ও নির্বাহী সদস্য পলি রহমান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বার্তা প্রেরক:
মোঃ আব্দুল হান্নান
মিডিয়া এবং আইটি সেক্রেটারী
লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাব
০৭৭৩৫ ৩৩৩ ৫২৫

READ MORE

লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির (২০২৪-২০২৫) দায়িত্ব গ্রহণ

লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে । ২ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ব লণ্ডনের প্রিন্সলেট স্ট্রীটস্থ ক্লাব কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের, পুনর্নির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ এবং পুনর্নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদের নেতৃত্বে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই কমিটি আগামী দুই বছরের (২০২৪-২০২৫) জন্য দায়িত্ব পালন করবে।


অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী কমিটির নবনির্বাচিত ১৫ সদস্যকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। তাছাড়া বিদায়ী কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় নবনির্বাচিত ও বিদায়ী সদস্যরা তাঁদের একান্ত অনুভুতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী, সাবেক ট্রেজারার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জিআর সোহেল।

নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটি : প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাঈম চৌধুরী, জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ, এসিসটেন্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, ট্রেজারার সালেহ আহমদ, এসিসটেন্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, অর্গানাইজিং এণ্ড ট্রেইনিং সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইন, মিডিয়া এণ্ড আইটি সেক্রেটারী মোঃ আব্দুল হান্নান, ইভেন্ট এণ্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন।
নির্বাহী সদস্যরা হলেন- যথাক্রমে প্রথম নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সোহেল, ফয়সল মাহমুদ, পলি রহমান, জাকির হোসাইন কয়েস ও আনোয়ার শাহাজাহান।
যাঁরা বিদায় নিলেন: প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ রহমত আলী, এসিসটেন্ট ট্রেজারার মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, অর্গানাইজিং এণ্ড ট্রেইনিং সেক্রেটারি এমরান আহমদ, নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু, নাজমুল হোসাইন, সারওয়ার হোসাইন ও শাহনাজ সুলতানা।


বিদায়ী সভাপতি মুহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী নতুন কমিটিকে আবারও অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে ক্লাবের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নবনির্বাচিত সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের ক্লাবকে আরো গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে আগামী দুই বছরের কাজে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। পুনর্নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ বলেন, আজকের দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালিন দুটো এলায়েন্স-এর পরিসমাপ্তি ঘটলো। বিগত বছরগুলোর মতো আগামী দুই বছর আমরা একটি টিম হিশেবেই কাজ করবো । এই ক্লাবের ২৮৮জন সদস্যের প্রত্যেকেই বিশেষ বিশেষ বৈশিষ্টের অধিকারি । তাঁদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে আগামী দুই বছর ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো । বিগত কমিটিতে আমরা যেভাবে একে অপরের প্রতি পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ রেখে কাজ করেছি নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দও সেই ধারা বজায় রাখবেন বলে আমি আশাবাদী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

READ MORE

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনঃ

মোহাম্মদ জুবায়ের প্রেসিডেণ্ট, তাইসির মাহমুদ জেনারেল সেক্রেটারী ও সালেহ আহমদ ট্রেজারার নির্বাচিত

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন (২০২৪) । নির্বাচনে মোহাম্মদ জুবায়ের প্রেসিডেণ্ট, তাইসির মাহমুদ জেনারেল সেক্রেটারী ও সালেহ আহমেদ ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জুবায়ের তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে ক্লাবের সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে নতুন নতুন কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্লাবটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পুননির্বাচিত জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ বলেন, এই ক্লাবের সবচেয়ে সুন্দর দিকটি হলো দু’বছর পরপর একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হওয়া । নির্বাচনে দুটো এলায়েন্স প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমরা একটি এলায়েন্স হয়ে যাই। একটি টিম হিসেবে কাজ করি । তিনি বলেন, এমন একটি ক্লাবে দ্বিতীয়বারের মতো জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হওয়া আমার জন্য গর্ব ও সম্মানের-যে ক্লাবে অনেক মাল্টি টেলেন্ট সদস্য রয়েছেন। আমি তাঁদের সহযোগিতা নিয়ে ক্লাবকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১২টি পদে বিজয়ী হয়েছে জুবায়ের-তাইসির-মুরাদ এলায়েন্স। আর নাহাস-মুসলেহ-সালেহ এলায়েন্স পেয়েছে ৩টি পদ।
দুই এলায়েন্সে ৩০জন এবং ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩১ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বেলা আড়াইটায় শুরু হয়ে একটানা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত নির্বাচন পরিচালিত হয় । ক্লাবের ২৮৮জন সদস্য গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করেন । নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিসিএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ এমবিই, স্পিটালফিল্ডস স্মল বিজনেস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আজিজ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার আনোয়ার বাবুল মিয়া।

কে কত ভোট পেলেন :
১৪১ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল এস-এর সাবেক চীফ রিপোর্টার ও রিয়াল নিউজের ফাউন্ডিং এডিটর মোহাম্মদ জুবায়ের । তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা পেয়েছেন ১৩৯ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে ১২৩ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ । তাঁর দুই প্রতিদ্বন্দ্বির মধ্যে মোঃ মোসলেহ উদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ১০৩ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জি আর সোহেল পেয়েছেন ৫৭ ভোট।
১৫৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা পোস্ট এর হেড অব প্রোডাকশন সালেহ আহমদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আইনঅন টিভি চীফ রিপোর্টার আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ পেয়েছেন ১২১ ভোট ।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ১৯১ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন সাপ্তাহিক বাংলা পোস্ট সম্পাদক ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী । তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মোস্তাক আলী বাবুল পেয়েছেন ৮৬ ভোট। তারেক চৌধুরীর সাথে তাঁর ভোটের ব্যবধান ১০৫টি।
সহ-সভাপতি পদে ১৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এটিএন বাংলা ইউকের হেড অব নিউজ সাঈম চৌধুরী। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাসিক দর্পণ সম্পাদক রহমত আলী পেয়েছেন ১৩৬ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে চ্যানেল এস-এর সিনিয়র রিপোর্টার রেজাউল করিম মৃধা ১৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন । তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মোঃ আব্দুল কাইয়ূম পেয়েছেন ১৩৭ ভোট।
সহ কোষাধ্যক্ষ পদে ১৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল এস-এর সিনিয়র রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিল। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সারোয়ার হোসেন পেয়েছেন ১০৭ ভোট ।
অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেইনিং সেক্রেটারী পদে এনটিভি ইউরোপের চীফ রিপোর্টার আকরামুল হোসেন ১৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ইমরান আহমদ পেয়েছেন ১১৩ ভোট।
মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি পদে টুএ নিউজের ফাউন্ডার মোহাম্মদ আবদুল হান্নান ১৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মাহবুব আলী খানশূর পেয়েছেন ৮৫ ভোট।
ইভেন্টস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি পদে ১৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল এস-এর সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার রুপি আমিন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল পেয়েছেন ১০২ ভোট।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ১৭৬ ভোট পেয়ে প্রথম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এলবি২৪ এর মিডল্যান্ড ব্যুরো প্রধান ও বাংলা ভয়েস’র চীফ রিপোর্টার সাহিদুর রহমান সুহেল, চ্যানেল এস-এর স্টাফ রিপোর্টার ফয়সল মাহমুদ (প্রাপ্ত ভোট ১৭১), নতুন দিন-এর এক্সিকিউটিভ এডিটর মরিয়ম পলি রহমান (প্রাপ্ত ভোট ১৫৫), টিভি ওয়ানের সিনিয়র রিপোর্টার জাকির হোসেন কয়েস (প্রাপ্ত ভোট ১৩৭) ও লন্ডন বিচিত্রার সম্পাদক আনোয়ার শাহজাহান (প্রাপ্ত ভোট ১৩১)।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে ক্লাবের ৩০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো নারী সাংবাদিক (রুপি আমিন) সম্পাদকীয় পদে জয়লাভ করেছেন এবং লন্ডনের বাইরের একজন সাংবাদিক (সাহিদুর রহমান সুহেল) নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।
বার্ষিক সাধারণ সভা: এর আগে বেলা দেড়টায় অনুষ্ঠিত হয় ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা । ক্লাবের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারী তাইসির মাহমুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় ট্রেজারার সালেহ আহমদ বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন । প্রশোত্তর পর্বে ক্লাবের সদস্যরা নতুন সদস্যপদ না দেয়া নিয়ে তাদের অসন্তোষ, নির্বাচনে অ্যালায়েন্স পদ্ধতি বাতিল এবং এলবিপিসি জার্নাল প্রকাশসহ নতুন নতুন কর্মসূচী গ্রহণ করার মাধ্যমে ক্লাবটিকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনে পরিণত করার ওপর জোর দাবী জানান। মধ্যাহ্ন ভোজের মাধ্যমে ক্লাবের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভার সমাপ্তি ঘটে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অতিথি শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত কণ্ঠশিল্পী বিথী চৌধুরী ও লন্ডনের শিল্পী শম্পা দেওয়ান। ক্লাব-সদস্যদের মধ্যে গান, কবিতা, ছড়া, কৌতুক, গীতি কাব্য ও পুঁথিপাঠ করেন সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মিলন, রূপি আমিন, কলন্দর তালুকদার, আব্দুল হামিদ টিপু, ববি রায়, সাইফুর রেজা চৌধুরী পথিক । কবিতা পাঠ করেন মিসবাহ জামাল, কবি আহমেদ হোসেন হেলাল, কবি সারওয়ার-ই আলম, শহিদুল ইসলাম সাগর, সালাউদ্দিন শাহীন, জিয়াউর রহমান সাকলেন, কবি হেলাল সাইফ, কবি সৈয়দ রুম্মান, ছড়াকার লুৎফুর রহমান, মামুন রশীদ ও আলাউর খান শাহীন।
অ্যাওয়ার্ড প্রদান পর্ব : সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা জানানো হয়। সম্মাননা লাভ করেন ক্লাবের আজীবন সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুকিম আহমদ, ড. জাকির খান, স্পিটালফিল্ডস স্মল বিজনেস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আজিজ চৌধুরী, লন্ডন টাইগার্স এর সিইও মেসবাহ আহমদ, লন্ডন ক্রিকেট লীগের সেক্রেটারি নাহিদ নাওয়াজ রানা।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ও এওয়ার্ডস তুলে দেন পপলার এন্ড লাইম হাউজ আসনের এমপি আপসানা বেগম, যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র মাইয়ুম মিয়া তালুকদার, টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার গ্রুপের লীডার সিরাজুল ইসলাম, বাংলা প্রেস ক্লাব বার্মিংহাম এন্ড মিডল্যান্ডস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মারুফ, বার্মিংহ্যাম বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আব্দুল আহাদ সুমনের পক্ষে মোঃ সেলিম উদ্দিন, নর্থ ইংল্যান্ড বাংলাদেশী টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ সুরত মিয়া আসাব, নর্থ ইংল্যান্ড বাংলাদেশী টিভি রিপোর্টার এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাজান, লীডস বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এমজি কিবরিয়া ও লিভারপুল বাংলা প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি আবু সাঈদ চৌধুরী সাদী।
বিদায়ী নেতৃবৃন্দকে এওয়ার্ড প্রদান : প্রেস ক্লাবের বিদায়ী কমিটির বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, বিদায়ী প্রথম নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু, বিদায়ী নির্বাহী সদস্য কবি শাহনাজ সুলতানা ও জেইউএম নাজমুল হোসাইনকে ক্লাবের কাজের স্বীকৃতিসরূপ এওয়ার্ড প্রদান করা হয় । এওয়ার্ড তুলে দেন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক (নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট) মুহাম্মদ জুবায়ের।
এছাড়াও, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনগুলোতে সর্বাধিক উপস্থিতির জন্য হাইয়েস্ট প্রেজেন্স এন্ড রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন টিভিওয়ান-এর সিনিয়র রিপোর্টার জাকির হোসাইন কয়েস এবং নির্বাহী কমিটিতে সক্রিয় ভুমিকা পালনের জন্য অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন ইভেন্টস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা।
অনুষ্ঠানে বিলেতের বিভিন্ন শহর থেকে ক্লাবের সদস্যরা স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বেলা দেড়টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠানটি নৈশ ভোজের মাধ্যমে রাত এগারোটায় শেষ হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

লন্ডন, ৯ নভেম্বর: লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে এক সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে । গত ৬ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফের ডকসাইড ভ্যানুতে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী কর্মশালায় লন্ডন ও লন্ডনের বাইরে থেকে মোট ৪৫ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন ।চারটি বিষয়বস্তুর ওপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় ।
‘প্রিন্ট ও ডিজিটাল মিডিয়ায় সাংবাদিকতা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রযোজক মোয়াজ্জেম হোসাইন । ‘কমিউনিটি টিভি সাংবাদিকতা” বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন চ্যানেল এস টিভির সদ্যসাবেক চিফ রিপোর্টার ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মূহম্মাদ জুবায়ের । ‘মোবাইল সাংবাদিকতা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন রানার মিডিয়ার ডিরেক্টর এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক ট্রেজারার আ স ম মাসুম এবং ‘সংবাদ তৈরিতে প্রচলিত ভুল পরিহারের করণীয়’ বিষয়ে আলোচনা তুলে ধরেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী।

কর্মশালায় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বৃটেনের মুলধারার মিডিয়া মেট্রো অনলাইনে ডেপুটি পিকচার এডিটর হিসেবে কর্মরত বৃটিশ-বাংলাদেশী সাংবাদিক আবু আনাস চৌধুরী। তিনি মূলধারার মিডিয়ায় কাজ করার প্রেক্ষাপট, অভিজ্ঞতা ও সুবিধা-অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি পূর্ব লন্ডনের বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের অর্গানাইজিং ও ট্রেনিং সেক্রেটারি এমরান আহমেদ এর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সঞ্চালকের ভুমিকা পালন করেন প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি ও সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ । সহযোগিতায় ছিলেন ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ, এসিসটেন্ট সেক্রেটারী সাঈম চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য আহাদ চৌধুরী বাবু ও নাজমুল হুসাইন ।


কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারিদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয় । এসময় বক্তব্য রাখেন কর্মশালার স্পনসর ইউটেলাইজ প্রজেক্টের ফাউন্ডার মাহমুদ শাহনেওয়াজ ও ষ্টুডেন্ট কনসালটেন্সি ফার্ম জিইসিসি’র ডাইরেক্টর মোঃ আখলাকুর রহমান।
সমাপনীপর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় অর্গানাইজিং ও ট্রেনিং সেক্রেটারি এমরান আহমেদ ভবিষ্যতে লন্ডনের বাইরেও এ ধরনের কর্মশালা আয়োজন করা হবে জানান ।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারি সদস্যদের অনেকেই এ ধরনের আয়োজনের ভূয়শী প্রশংসা করেন । তাঁরা বলেন, আমরা আজকের কর্মশালায় এসে অনেক কিছু জানলাম, শিখলাম। এখন কর্মশালা থেকে লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরো ভালো করতে পারবো । তাঁরা লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দকে সময়োপযোগী এই আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান । সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

READ MORE
This website uses cookies to provide user authentication. Please indicate whether you consent to our site placing cookies on your device and agree with our Privacy Policy. To find out more, please read our Privacy and Cookie Policy