লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব পরিচালিত আফটার স্কুল ক্লাব সেশনের সফল সমাপনী : শিক্ষার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ

লন্ডন, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫: বিবিসি চিল্ড্রেন ইন নিডস-এর সহযোগিতায় লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব ও ইস্ট হ্যাণ্ড চ্যারিটির উদ্যোগে পরিচালিত ৮ মাসব্যাপী আফটার স্কুল ক্লাব এডুকেশন সেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে । এ উপলক্ষে ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে এক সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইস্ট হ্যান্ড চ্যারিটির চেয়ারম্যান নবাব উদ্দিন ও আফটার স্কুল ক্লাব এডুকেশন সেশনের কো-অর্ডিনেটর রুপি আমিন ।


অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আফটার স্কুল ক্লাব সেশনের শিক্ষক আব্দুল মুক্তাদির শামীম, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক রহমত আলী, ইস্ট হ্যান্ড চ্যারিটির এডভাইজার সাংবাদিক-লেখক আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, ট্রাস্টি বাবলুল হক বাবুল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সেশনের ভলান্টিয়ার সামি খান মিথিলা, ইস্টহ্যাণ্ড চ্যারিটির কার্বন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আহাদ চৌধুরী বাবু, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ট্রেজারার সালেহ অহমদ, সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ূম, শেখ মোহিতুর রহমান বাবলু ও হাবিবুর রহমান । অভিভাবকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য জাহিরুল ইসলাম শাহীন ও হাসনাত চৌধুরী এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মারিয়াম তালুকদার। পরে আফটার স্কুল ক্লাব সেশনে অংশগ্রহণকারি শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও গিফট তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব ও ইস্ট হ্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে চলতি বছরের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ মাস এই সেশন পরিচালিত হয় । প্রতি শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা শিক্ষার্থীরা তাদের হোম ওয়ার্ক বিষয়ে শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতেন। প্রেস ক্লাবের ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন।
ইস্ট এন্ড চ্যারিটির চেয়ারম্যান নবাব উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা অবশ্যই এই সেশন থেকে উপকৃত হয়েছেন। আগামীতে আরো অধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহনে এই সেশন পরিচালনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ক্লাব প্রথমবারের মতো একটি শিক্ষামুলক সেশন আয়োজন করলো। এতে অগ্রাধিকারে ছিল ক্লাব মেম্বারদের সন্তানরা । তাদের প্রতি আমাদের আশা, তারা একদিন অনেক বড় হবে । ভালো মনের মানুষ হবে এবং উচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার স্বপ্ন বুনবে।
জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ বলেন, গত ৮ মাস প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় আমাদের প্রেস ক্লাব কার্যালয় তরুণ শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিলো। এই ধরনের একটি শিক্ষা সেশন পরিচালনা করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা আশা করছি আগামীতেও এই সেশন অব্যাহত থাকবে।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেস ব্রিফিং : ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে পোস্টাল ভোট রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের প্রতি আহবান

লন্ডন, ৩০ নভেম্বর ২০২৫: যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোস্টাল ভোট রেজিস্ট্রেশন করতে আহবান জানিয়েছে বিলেতের বাংলা মিডিয়ার শীর্ষ সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব । ২৮ নভেম্বর শুক্রবার দুপুরে ক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে এই আহবান জানানো হয়।
প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিত্বে এবং জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদের সঞ্চালানায় অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট সেক্রেটারি ওয়ারিসুল ইসলাম । তিনি পোস্টাল ভোট রেজিস্ট্রেশনের ধাপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ—প্রথমে মোবাইল ফোনে ‘পোস্টাল ভোট বিড’ অ্যাপ ডাউনলোড করে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে । এতে প্রয়োজন হবে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং যুক্তরাজ্যে ব্যালট পেপার পাঠানোর ঠিকানা।
রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাজ্যের ঠিকানায় পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপার, ভোটের নির্দেশনা এবং রিটার্ন এনভেলাপ । এরপর অ্যাপে লগ ইন করে খামের উপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। এ সময় অবশ্যই মোবাইলের লোকেশন অন রাখতে হবে।
ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সাক্ষরসহ নির্ধারিত খামে ভরে পোস্ট অফিসে কিংবা পোস্ট বক্সে ছেড়ে দিতে হবে। তাহলে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছে যাবে ব্যালটটি। তবে তিনি সতর্কতা অবলম্বনের আহবান জানিয়ে বলেছেন, একাধিকবার রেজিস্ট্রেশন করলে অ্যাপ লক হয়ে যেতে পারে । ভিপিএন ব্যবহার করে অন্য দেশ থেকে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলেও ডিভাইস ব্লক হতে পারে বলে জানান তিনি। জনাব ওয়ারিসুল ইসলাম ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রবাসীদেরকে নাম রেজিস্ট্রেশনের আহবান জানান।


প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, বিশ্বজুড়ে দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের দাবি প্রবাস থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ- অবশেষে বাস্তবায়ন হচ্ছে । আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিদেশে বসেই ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন প্রবাসীরা। এই দীর্ঘ সময়ে বিলেতের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে দাবী বাস্তবায়নে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রেখেছেন । তাই এই ঐতিহাসিক মুহুর্ত উদযাপন ও প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রেস ক্লাবের আজকের এই প্রেস ব্রিফিং । তিনি প্রবাসীদের অবিলম্বে নাম রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার আহবান জানিয়ে বলেন, সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে। ১৮ ডিসেম্বর চলে এসেছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহনের সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া করা যাবেনা।
জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন যাবত যেসকল সংগঠন ও ব্যক্তিবিশেষ সোচ্চার ভুমিকা পালন করেছেন তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন । তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এবার কমপক্ষে ৫০ লাখ প্রবাসীকে পোস্টাল ভোটের আওতায় নিয়ে আসার টার্গেট গ্রহণ করেছে এবং শুক্রবার পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি প্রবাসী নাম রেজিস্ট্রেশন করেছেন । শুধু যুক্তরাজ্যেই ৮ লক্ষাধিক বাংলাদেশী বসবাস করেন । তিনি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, যেহেতু এটি আমাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের একটি ফসল, তাই আসুন ডেডলাইন অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বরের আগে নাম রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে ভোটে অংশগ্রহনের সুযোগ নিই । ভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরো শক্তিশালী করতে পারবো । যদি আমরা বেশি করে নাম রেজিস্ট্রেশন করে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারি তাহলে দীর্ঘদিনের আন্দেলন-সংগ্রামের স্বার্থকতা দেখতে পারবো।

READ MORE

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হল লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হল লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাব ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫।
পূর্ব লন্ডনের স্টেপনি গ্রিন মাঠে ৫ অক্টোবর রবিবার দিনব‍্যাপী খেলায় ছিল উচ্ছ্বস আর আনন্দ ।এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ছয়টি জনপ্রিয় দল । তবে এই টিম গুলোর অধীনে বিভিন্ন মিডিয়া হাউসের শতাধিক ক্লাব মেম্বার এতে যুক্ত ছিলেন।

টিম গুলো হলো: বাংলা কাগজ, ওয়ান বাংলা, চ্যানেল এস, মোহামেডান এসসি, দেশ-পত্রিকা ইউনাইটেড এবং ইউকে বাংলা লাইভ ইউনাইটেড। রোমাঞ্চকর ফাইনালে মুখোমুখি হয় ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড এবং চ্যানেল এস। নির্ধারিত সময়ে গোল না হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে, আর সেখানে ওয়ান বাংলা ৪–৩ গোলে জয় পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ছিনিয়ে নেয় চ্যাম্পিয়ন ট্রফি!

ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়েরের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ-এর পরিচালনায় পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লন্ডন সফররত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসস-এর চেয়ারম্যান, দৈনিক ইত্তেফাকের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার আলদীন। স্বাগত বক্তৃতা করেন আয়োজন কমিটির কো-অর্ডিনেটর ক্লাবের ইভেন্টস সেক্রেটারী রুপি আমিন। উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক উদয় শংকর দাশ ও শেখ মোজাম্মেল হোসেন কামাল আহমদ, খেলার স্পন্সর ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের সিইও ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান। অপর স্পন্সর অল সিজন ফুড।

লন্ডন স্পোটিফের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন বাহার উদ্দিন এবং সাহিদুর রহমান সুহেল। জাকির হোসেন কয়েস পেয়েছেন সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার । আর ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন মোহাম্মদ সোবহান। খেলা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও অতিথিরা। এসময় লন্ডন স্পোটিফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সেক্রেটারি মহিবুর রহমান, ট্রেজারার আতিকুর রহমান, ডিরেক্টর ও ক্লাব ম‍্যানেজার মাহি মিকদাদ ও ডিরেক্টর ফরহাদ উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, এই টুর্নামেন্ট শুধু খেলাধুলা নয়, এটি সাংবাদিকদের বন্ধুত্ব, ঐক্য ও সহযোগিতার প্রতীক।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, ট্রেজারার সালেহ আহমেদ, এসিসটেন্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, এসিসটেন্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি মুহাম্মদ আকরামুল হোসাইন ও মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান।

প্রতি বছর যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের এই সংগঠন আয়োজন করে আনন্দঘন এই ফুটবল টুর্নামেন্ট, যা এখন প্রবাসী কমিউনিটির অন্যতম সেরা ক্রীড়া উৎসবে পরিণত হয়েছে ।খেলাধুলার মধ্য দিয়ে এই ঐক্য, আনন্দ ও বন্ধুত্ব থাকুক, প্রবাসে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করুক এসব উদ্যোগ- এমনটাই প্রত‍্যাশা সবার।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্যপদে অনলাইন আবেদন পদ্ধতি চালু : শেষ তারিখ ২৫ অক্টোবর

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে আগামী দু’বছরের জন‍্য মেম্বারশীপ আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ অক্টোবর । ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের সদস্যপদ নবায়ন বা নতুন সদস্যপদের আবেদন গ্রহণ চলবে ওই দিন রাত ১২টা পর্যন্ত। এ বছর থেকে সম্পূর্ণ অনলাইন আবেদন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর ফলে আর হাতে লিখে ফর্ম পূরণ করতে হবে না; বরং ঘরে বসেই সহজে অনলাইনে আবেদন জমা দেয়া যাবে।


২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা জানানো হয়েছে। এ সময় প্রেস ক্লাবের অনলাইন আবদেন পদ্ধতির ডেভেলাপার আইটি বিশেষজ্ঞ আব্দুল মান্নানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তিনি ডট নেট বিল্ড লিমিটেড-এর ডিরেক্টর।

ক্লাব প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি তাইসির মামুদের পরিচালনায় এতে মূল তথ‍্য তুলে ধরেন মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি আবদুল হান্নান। তিনি বলেন, আবেদন প্রক্রিয়াটি সহজ ও ব্যবহারবান্ধব। একবারে ফর্ম পূরণ শেষ করতে না পারলে, আপনি যতটুকু করবেন তা সেইভ করে রেখে দিতে পারবেন। পরে যখন সময় হবে তখন আবারও ফিলআপ শুরু করতে পারবেন। এভাবে ধাপে ধাপে, নিজের সুবিধামতো সময়ে আবেদন সম্পূর্ণ করতে পারবেন।

ফাউন্ডিং মেম্বার ও মুক্তিযোদ্ধা মেম্বার
ও ১৫ বছরের জন‍্য সহজ পলিসি:
ক্লাব প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের জানান, সংবিধান অনুযায়ী প্রেস ক্লাবের ফাউন্ডিং মেম্বার ও মুক্তিযোদ্ধা মেম্বারের বেলায় বিশেষ ব্যতিক্রম রয়েছে। তারা সামান্য তথ্য তথা নাম ঠিকানা দিয়েই সমস্য পদ নবায়ন করবেন। আর বিশেষ করে ১৫ বছরের মিডিয়া অভিজ্ঞতার ক‍্যাটাগরিতে বর্তমান পর্যন্ত এই বছরগুলোর ধারাবাহিকভাবে যথার্থ সময়ক্রম উল্লেখ করতে হবে।

ফি সরাসরি জমা হবে ক্লাব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে:
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ক্লাব সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ জানান, প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র সহজেই অনলাইনে আপলোড করার সুবিধা রাখা হয়েছে। সদস্যপদের ফি সরাসরি আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে এবং অর্থপ্রদানের রসিদ আবেদন ফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। তাই অনুগ্রহ করে ব্যাংক ট্রান্সফারের স্ক্রিনশটটি রাখুন এবং ফর্মের সাথে সংযুক্ত করুন।

মেম্বারশীপের জন‍্য অনলাইন সাইন-আপ :
প্রথমে আপনার নাম, ইমেইল ঠিকানা এবং একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইন আপ করে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। একবার রেজিস্ট্রেশন করলে যেকোনো সময় লগ-ইন করে আপনার আবেদনের অগ্রগতি দেখতে পারবেন।
আবেদন ফর্ম পূরণের জন্য সরাসরি: https://member.londonbanglapressclub.org/ লিংকে প্রবেশ করতে হবে।

যদি কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়, অনুগ্রহ করে ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের, সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ অথবা মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান-এর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়া ক্লাব নিযুক্ত আইটি বিশেষজ্ঞ জনাব আব্দুল মান্নানের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ে টেকনিক্যাল সহায়তা নিতে পারবেন।

মেম্বারশীপ পলিসি:
ক্লাবের ওয়েবসাইটে ফুল মেম্বারশীপ পলিসির বিস্তারিত তথ্য আছে। এছাড়া অনলাইন ফর্মের শুরুতেই পলিসি বা নিয়ম নীতি পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সবগুলো নীতি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে পড়লেই সহজে বোঝা যাবে কার জন্য কোন নিয়ম প্রযোজ্য। এছাড়া এসোসিয়েট মেম্বার ও লাইফ মেম্বারের পলিসি একেবারে আলাদা।

নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রস্তাব, সমর্থনকারী ও মিডিয়া কর্মস্থলের রেফারেন্স লাগবে । ফর্মে বর্তমান মেম্বার থেকে সংশ্লিষ্ট কারো নাম প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে দিতে হবে। ইউকেতে নুন্যতম দু’বছর মিডিয়ায় সংশ্লিষ্ট থাকতে হবে।

রিপোর্টিং/ভিডিও/ফটো লিংক :
যারা প্রকাশিত ৫টি রিপোর্ট/ফটো দেবেন তারা স্ক্রিনশটটি সংযুক্ত করতে পারবেন। আর স্ট্যাটেলাইট টিভি/অনলাইন টিভি বা অনলাইন মিডিয়ার ক্ষেত্রে-প্রকাশিত লিংকটি অনলাইন আবেদনে সংযুক্ত করবেন।

অনলাইন মিডিয়া:
অনলাইন মিডিয়া থেকে যারা এবার নতুন আবেদন করবেন তাদের জন্য ফেসবুকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১০ হাজার ফলোয়ার এবং ইউটিউবের ক্ষেত্রে নূন্যতম ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। পাশাপাশি ইউকেতে নিজস্ব কোম্পানি, নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে।

আবেদনকারিকে নিচের একাউন্ট নাম্বারে মেম্বারশীপের যথাযথ ফি পরিশোধ করে রিসিট আপলোড করে দিতে হবে। শুধুমাত্র নিজের ও নিজের পরিবারের সদস্যের একাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করা যাবে।

Bank details:
London Bangla Press Club
Sort Code: 40-05-19
A/C No: 31 53 14 41
HSBC

READ MORE

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বিশেষ আলোচনা: ‘আর্থিক স্বাধীনতা ছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্ভব নয়’ — কামাল আহমদ

লন্ডন, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বিবিসি বাংলা’র সাবেক সম্পাদক কামাল আহমদ বলেছেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। আর্থিক স্বাধীনতা না আসলে প্রকৃত স্বাধীনতা আসবে না।”

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাব হলে অনুষ্ঠিত “গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ও বাস্তবতা” শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় গণমাধ্যম খাতের সংকট, সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং গণমাধ্যম মালিকপক্ষের একচেটিয়া প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রিপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রসঙ্গে কামাল আহমদ বলেন, আমরা দেশের ৮টি বিভাগীয় শহর, নগর ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক করেছি । সাংবাদিক, মালিক, একাডেমিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১৪শ জনের মতামত নিয়েছি এবং যেসব বিষয়ে সবচেয়ে বেশি একমত হওয়া গেছে, সেগুলোই প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কামাল আহমদ বলেন, মফস্বল থেকে রাজধানী পর্যন্ত অনেক সাংবাদিকেরই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অনিশ্চিত । ফলে অনেকেই মালিকপক্ষের স্বার্থে কাজ করতে বা বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন । পত্রিকার আইডি কার্ড বা টিভি মাইক্রোফোন হাতে দিয়ে সাংবাদিকদের বলা হচ্ছে “করে খাও” বা “যেভাবে হোক আয় করো”। যা পেশাদার নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়েরের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ-এর পরিচালনায় আলোচনায় নির্ধারিত আলোচক ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমদ এবং সিনিয়র সাংবাদিক ও সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের ১৮২ পৃষ্ঠার রিপোর্ট থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়, এর মধ্যে রয়েছে:
একই মালিকের অধীনে একাধিক সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল না রাখা।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বাসস — এই তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি সম্প্রচার সংস্থা গঠন করে ব্যয় কমানো ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাব।
এছাড়া ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, অফিসিয়াল সিক্রেসি আইন ও আদালত অবমাননা আইন যেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপব্যবহার না হয়, সেদিকে জোর দেওয়া। আশা করা হয়, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হবে।

গণমাধ্যম নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে কামাল আহমদ বলেন, “সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব । এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোরও এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান নেওয়া উচিত । বিএনপির ৩১ দফায় ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পত্রিকার প্রধান সম্পাদক বেলাল আহমদ বলেন: “বর্তমানে সব ক্ষেত্রেই আস্থার সংকট বিরাজ করছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তবে প্রশ্ন থেকে যায় — প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন হবে কিনা। আমরা আশা করছি, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সরকার উভয়ই সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”

সিনিয়র সাংবাদিক ও সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন বলেন: “ মিডিয়া নিরাপদ থাকলে রাষ্ট্র ও সমাজ নিরাপদ থাকবে ।সাংবাদিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, চাকরির নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব নয়। কমিশনের প্রস্তাবনায় এসব বিষয়ে যে সুপারিশ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে সাংবাদিকতার মান উন্নত হবে এবং সমাজে আস্থা ফিরে আসবে।” তিনি তথ্য মন্ত্রণালয় বাতিল করে গন মাধ্যম কমিশন গঠনে গুরুত্বারোপ করেন।

প্রেসক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন “এই আয়োজনের উদ্দেশ্য ইউকেতে বসবাসরত সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা । আমরা চাই সবাই এই রিপোর্ট সম্পর্কে জানুক এবং বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করুক।”
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব সেক্রেটারি, তাইসির মাহমুদ বলেন: “ ৪০ বছর পর এটি দ্বিতীয় গণমাধ্যম সংস্কার রিপোর্ট । আগের বহু আলোচনাতেই সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, আর্থিক সুরক্ষা ও বেতনভাতার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে । কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এবার আমরা চাই এই প্রস্তাবনাগুলো শুধু রিপোর্টে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কার্যকর হোক। সাংবাদিকরা যদি সময় সময় প্রস্তাবগুলো মিডিয়ায় তুলে ধরেন তাহলে সরকার তা কার্যকর করতে চাপ অনুভব করবে।
অনুষ্ঠানে আরো আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি যথাক্রমে মহিব চৌধুরী ও মোহাম্মাদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সাবেক সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক ও কবি সারওয়ার-ই আলম ও গবেষক ফারুক আহমেদ সহ আরও অনেকে । ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী এবং ট্রেজারার সালেহ আহমেদ।
সভায় প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসিসটেন্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, এসিসটেন্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি মুহাম্মদ আকরামুল হোসাইন, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান, নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সুহেল ও জাকির হোসাইন কয়েস।
সভায় উপস্থিত সবাই একমত হন যে, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংবাদ পরিবেশনের মান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সফল আয়োজন: কমিউনিটি কুয়েশ্চন টাইম উইথ হাইকমিশনার

লন্ডন ২১ জুন: যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ হাকমিশনের কাছে কমিউনিটির মানুষের আশা-প্রত্যাশা এবং চাওয়া-পাওয়া অনেক বেশী । একজন প্রবাসী হিসেবে নিজের দেশের প্রতিনিধি বা সেদেশের দ্বায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন চাওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয় এবং এটি মৌলিক অধিকারেরই একটি অংশ।

আমি পরিবর্তিত পরিস্থিতে দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা কর যাচ্ছি। কমিউনিটির অনেক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে বৈঠক হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। আমি সবার সাথে কথা বলে চেষ্টা করেছি সমস্যা গুলো চিহ্নিত করতে। এর সমাধানে যথাযথ পথ খুঁজে বের করাও আমার দায়িত্ব।

হাইকমিশনার লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে ‘কমিউনিটি কুয়েশ্চন টাইম উইথ হাইকমিশনার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। এতে রেওয়াজ অনুযায়ী ক্লাব প্রেসিডেন্ট ও হাইকমিশনারের প্রারম্ভিক রক্তব‍্য ছাড়া কোনো গতানুগতিক বক্তব্যের সুযোগ ছিলোনা।

প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, আমরা এই আয়োজনের মাধ্যমে সব কিছুর জবাব বা সমাধান পাবো তেমনটি আশা করি না। আমরা চাই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বার বার আলোচনায় আসুক। যথার্থ ও সম্মানের সাথে  প্রশ্ন করা বা জবাবদিহিতার কালচার অব্যাহত থাকুক। আর সাহস নিয়ে এমন কঠিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় আমরা হাইকমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ বলেন,
প্রেস ক্লাব আগেও বাংলাদেশের হাইকমিশনার, ঢাকার বৃটিশ হাইকমিশনার, মন্ত্রী, প্রথম বাংলাদেশি এমপি এবং প্রথম নির্বাহী মেয়রকে নিয়েও সমান আয়োজন করেছে।

নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রশ্ন বা মতামত রাখেন, ইউকেবিসিসিআই’র চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ ওবিই, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ডিজি সলিসিটর দেওয়ান মাহদী, ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ওলি খান এমবিই, ব্রিটিশ বাংলাদেশী ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তোফাজ্জুল মিয়া, সোসাইটি অব বৃটিশ বাংলাদেশী সলিসিটর্স এর প্রেসিডেন্ট সলিসিটর নুরুল গাফফার, বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসাইন ও একাউন্টেনট ক্লাব ইউকে’র প্রতিনিধি এ মুহিত। নেতৃবৃন্দ কমিউনিটির বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। ক্লাব সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী ও টেজারার সালেহ আহমদ সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

সাংবাদিকরা হাইকমিশনের সেবার মান, ওয়েব সাইটের দুর্বলতা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, নো ভিসা ফি ও দেশী ভেজেটেবুল আমদানিতে সমস‍্যাসহ কমিউনিটির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন রাখেন। বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালিন সরকারের প্রধান উপেদাষ্টার সাম্প্রতিক লন্ডন সফর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও প্রশ্ন আসে। হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম মনোযোগসহ প্রশ্নগুলো শুনেন এবং উত্তর দেন।কিছু জটিল ও কঠিন প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয় তাকে।

আবিদা ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন, প্রবাসীদের জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি জটিলতা দূরীকরণে প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল স্থাপন,বার্মিংহামের স্মল হিথ পার্কে বহিবিশ্বে প্রথম পতাকা জাতীয় পতাকা উওোলনের দিনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি,
দেশীয় সবজি আমদানিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করেছেন । আমি সরকারের কাছে আপনাদের সেই সব দাবি যথাযথ ভাবে পৌঁছে দিয়েছি এবং দেবো।

PHOTO by: Eklasur Rahman Pakku &
Masud Ahmed.

READ MORE

ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী মিডিয়া ট্রেনিং প্রোগ্রাম

লন্ডন, ২২ মে ২০২৫ : ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী মিডিয়া ট্রেনিং প্রোগ্রাম ১৮ মে রোববার পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি হলে অনুষ্ঠিত হয় । প্রোগ্রামে ব্রিটেনের বাংলা মিডিয়ার বিভিন্ন সংবাদপত্র , টেলিভিশন, অনলাইন নিউজপোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারী তাইসির মাহমুদের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যে কোনো পেশায় প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। পেশাগত জীবনে আমরা প্রতিদিনই কিছু না কিছু শিখে যাচ্ছি।সাংবাদিকরা যত বেশি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন ততই নিজেদের পেশাক্ষেত্রে সমৃদ্ধ করবেন।বক্তারা বলেন, নৈতিকতা সমৃদ্ধ সাংবাদিকগণ সমাজ, কমিউনিটি ও জাতিকে সত্যিকারের পথ দেখতে পারেন । সাংবাদিকরা যদি নিষ্ঠার সাথে তাদের দ্বায়িত্ব পালন করতে পারেন তবে সমাজ, দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

প্রেস ক্লাবের অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইনের সার্বিক ত্বত্তাবধানে ট্রেনিং প্রোগ্রামে ৯ জন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণ কারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট মহিব চৌধুরী, ফাউন্ডার সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম বাসন, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী ও লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমীর প্রিন্সিপাল আশিদ আলী।

এতে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকতার মূলনীতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বিবিসি বাংলার সাবেক প্রযোজক সিনিয়র সাংবাদিক উদয় শঙ্কর দাশ ।

“জার্নালিজম : নীতি ও মানদণ্ড” বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বিবিসি বাংলার সাবেক বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন।

“টিভি উপস্থাপনায় দক্ষতা” বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন চ্যানেল এস টেলিভিশনের সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার, কলামিস্ট ডাক্তার জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার।

“টিভি রিপোর্টিংয়ে কমিউনিটি পার্সপেক্টিভ” বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও চ‍্যানেল এস-এর সাবেক চিফ মুহাম্মদ জুবায়ের।

“কলম থেকে পিক্সেল : প্রিন্ট ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার মধ্যে সেতুবন্ধন”- বিষয়ে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এনটিভি ডিজিটাল এর সম্পাদক ও হেড অব অনলাইন ফখরুদ্দিন জুয়েল।

“সাংবাদিকতা: কমিউনিটির প্রতি দায়িত্ব” বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারী ও সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার সম্পাদক তাইসির মাহমুদ।

READ MORE

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের অভ্যন্তরিণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫

লন্ডন, ১৪ মে ২০২৫: উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের অভ্যন্তরিণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫ । ১১ মে রোববার প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে দিনব্যাপী দাবা, ক্যারম ও লুডু প্রতিযোগিতায় বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।


দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হোন চ‍্যানেল এস-এর বার্মিংহাম প্রতিনিধি মোঃ আতিকুর রহমান এবং রানার আপ হোন মোহাম্মাদ শামিম আহমেদ । ক‍্যারামে মোট ১৬ জন প্রতিযোগীকে ৮টি গ্রুপে ভাগ করে নক আউট পদ্ধতিতে খেলা শুরু হয় । এই খেলায় এবারও চ‍্যাম্পিয়ন হোন মোঃ আতিকুর রহমান । তিনি গতবারও এই খেলায় চ্যাম্পিয়ন ছিলেন ।
অপরদিকে লুডু খেলায় দু’টি বোর্ডে ৮ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন । তবে পরপর ছক্কা মেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন জান্নাতুল ফিরদৌস তুলি । রানার আপ হোন মোঃ বদরুজ্জামান বাবুল।
দিনশেষে সন্ধ্যায় বিজয়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী পর্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়ান গ্রাণ্ড মাস্টার এনামুল হোসেন রাজিব, ব্রিটিশ বাংলা চেস এসোসিয়েশনের (বিবিসিএ) প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক আবু মুসা হাসান ও সভাপতি মাহমুদ মাজেদ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ট্রেজারার সালেহ আহমদ, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন ও নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সোহেল । দাবা প্রতিযোগিতায় বিচারকের ভুমিকা পালন করেন বিবিসিএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ নান্নু।
এছাড়াও পুরস্কার বিতরনী পর্বে অংশগ্রহণ করে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রহমত আলী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল সিলেট ইউকে কমিটির প্রধান উপদেষ্টা এম শামসুদ্দিন, হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট হসপিটাল ইউকে কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেটের কেন্দ্রীয় কমিটির এক্সিকিউটিভ মেম্বার মিছবাহ জামাল, প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য মানিক মিয়া, জেনারেল সেক্রেটারি মনসুর আহমদ খান ও নির্বাহী সদস্য মতিউর রহমান খোকন।


লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ইভেন্ট এন্ড ফ‍্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট সফল ও আনন্দঘন করে তুলতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন ক্লাবের এসিসটেন্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, প্রথম নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সুহেল ও নির্বাহী সদস্য ফয়সল মাহমুদ । অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি মোঃ আকরামুল হোসেন ও নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন কয়েস। টুর্নামেন্টের স্পনসর ছিলো ‘বিবিসিএ’ এবং ডটপ্রিন্ট প্রিন্টিং কোম্পানী।
প্রধান অতিথি গ্র্যান্ড মাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশও সাংবাদিকরা দাবাকে গুরুত্ব সহকারে সবসময় প্রচার করে থকেন। বিলেতেও বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন দেখে খুব ভালো লাগছে ।


সভাপতি মোহাম্মাদ জুবায়ের বলেন, সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি আনন্দঘন টুর্নামেন্ট উপহার দিতে পারলাম। যারাই এই আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ বলেন, খেলাধূলা আমাদের শরীরচর্চা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখে । তাছাড়া ক্লাবের সদস্যদেরকে এনগেইজ করতে এ ধরনের খেলাধূলা আয়োজনের বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ বাংলা চেস এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় সংগঠনের ২০ পাউন্ডের বার্ষিক সদস্য ফি’র পরিবর্তে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্যরা ১০ পাউন্ড ফি দিয়ে সদস্য পদ গ্রহণ করতে পারবেন । এছাড়া সাংবাদিক মিছবাহ জামাল সানরাইজ ও স্পেরট্রাম বাংলা রেডিও থেকে প্রেস ক্লাবের আগামী টুর্নামেন্টের জন‍্য ৫০০ পাউন্ড স্পনসর করার ঘোষণা করেন।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৪ অনুষ্ঠিত : গতিশীল প্রেস ক্লাব উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার

লন্ডন, ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ : বিলেতের বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে । গত ২৭ জানুয়ারি (২০২৫) সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডস্থ লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় । ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ ।

সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদক গত এক বছরের কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন । এরপর আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ট্রেজারার সালেহ আহমদ । উপস্থিত সদস্যরা প্রথমে আর্থিক রিপোর্টের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ । এরপর সাধারণ সম্পাদকের কার্যবিবরণীর ওপর আলোচনা শুরু হয় । এতে বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন । এসময় ২০২৩ সালের বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরনী অনুমোদন করা হয়।

সাধারণ সভায় গত এক বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশে বিশেষ ভুমিকা রাখায় “হাইয়েস্ট প্রেজেন্স এন্ড রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন ইক্বরা টিভির চীফ রিপোর্টার ও বাংলাপেইজ২৪ এর প্রধান সম্পাদক খালেদ মাসুদ রনি । তাছাড়া, নির্বাহী কমিটিতে সক্রিয়া ভুমিকা পালনের জন্য ‘বেস্ট পারফরমেন্স ইন ইসি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন ক্লাবের ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন ও নির্বাহী সদস্য ফয়সল মাহমুদ।

ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ জুবায়ের, জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী সাংবাদিক খালেদ মাসুদ রনির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা সার্টিফিকেট তুলে দেন। সাবেক সভাপতি নবাব উদ্দিন ও মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী রুপি আমিনের হাতে সম্মাননা সার্টিফিকেট তুলে দেন। অন‍্যদিকে সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা ও ট্রেজারার সালেহ আহমদ সাংবাদিক ফয়সল মাহমুদের হাতে সম্মাননা সার্টিফিকেট তুলে দেন।

ক্লাব সভাপতি মোহাম্মাদ জুবায়ের তাঁর বক্তব্যে বলেন, গত এক বছর আমরা রুটিন কর্মসূচিগুলোর বাইরে বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করেছি । এতে আপনাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিলো । এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সিলেট ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন বধ্যভুমিতে নির্মিত শহীদ স্মৃতি উদ্যাণ প্রকল্পে আমাদের জেনারেল মেম্বার ও লাইফ মেম্বারদের পক্ষ থেকে ২২ হাজার পাউণ্ড অনুদান প্রদান। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে যুক্ত হতে পারা আমাদের ক্লাবের জন্য গর্বের । গত ৪ জানুয়ারি শহীদ স্মৃতি উদ্যানে ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব কমপ্লেক্স’ নামে একটি ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ বলেন, প্রায় ৩২ বছরের পুরোনো এই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা এখন প্রায় তিন শ’র কাছাকাছি। এই সংগঠন এখন অনেক বড় হয়েছে। কাজের পরিধিও বেড়েছে অনেক গুণ । সপ্তাহে একাধিক সংবাদ সম্মেলন, নির্বাহী কমিটির সভা, বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন, বার্ষিক সামারট্রিপ, ফুটবল টুর্নামেন্ট, কর্মশালা, নিয়মিত সদস্য-সন্ধ্যা আয়োজন, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে সময় সময় মতবিনিময়সহ কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সংগঠনকে প্রতিনিধিত্ব করাসহ বহুমুখী কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় সারা বছর। আজকের সাধারণ সভায় আমরা গত এক বছরের কার্যবিবরণী উপস্থাপন করলাম । প্রেস ক্লাব সদস্যরা আমাদের কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বপুর্ণ মতামত দিয়েছেন। তাদের মতামত অবশ্যই আমাদের কাজে আরো স্স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে মনে করি। তিনি জানান, গত এক বছরে ৪৫টি প্রেস কনফারেন্স এবং ১১টি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব ।
সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনের ওপর প্রশ্নোত্তরপর্বে অংশগ্রহণ করেন ক্লাবের সদস্য সর্বজনাব আকবর হোসেন, মিছবাহ জামাল, বাতিরুল হক সর্দার, খালেদ বিন ওয়ালিদ, জিয়া উদ্দিন তালুকদার, এনাম চৌধুরী, মাহবুব আলী খানশূর, আশরাফুল ওয়াহিদ দুলাল, আব্দুল হামিদ টিপু, আহাদ চৌধুরী বাবু, শওকত মাহমুদ টিপু, এম এ কাইয়ুম, মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান, হাসনাত আরিয়ান খান, উদয় শঙ্কর দাশ, বুলবুল হাসান, আনোয়ারুল ইসলাম অভি, জিআর সোহাইল, মহিব চৌধুরী, সৈয়দ আনাস পাশা, হিমিকা ইমাম, দিলু নাসের ও তবারক পারভেজ।

এতে মূলধারার সাংবাদিকদের সাথে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠান আয়োজন, শিক্ষামূলক ইউরোপ ট্যুর, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, সাংবাদিকদের ট্রেনিং আয়োজন, নিউ মেম্বারশীপ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
ট্রেজারার সালেহ আহমদ বলেন, গত এক বছর সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বাবদ আমরা ৮ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করেছি । তাছাড়া ক্লাবের নিজস্ব প্রোপার্টি ভাড়া বাবদ আয় হয়েছে প্রায় ১২ হাজার পাউন্ড।
আর্থিক রিপোর্টের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সর্বজনাব আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, আহাদ চৌধুরী বাবু, মোস্তাক আলী বাবুল, উদয় শঙ্কর দাশ, মহিব চৌধুরী, ফয়সল রুহেল, সালাহ উদ্দিন শাহিন, আশরাফুল ওয়াহিদ দুলাল, মোহাম্মদ শরিফুজ্জামান, আজিজুল হক কায়েস, আবু রহমান, শামসুল ইসলাম, খালেদ মাসুদ রনি, আব্দুল কাইয়ুম, নাহিদ জাগিরদার, মোহিতুর রহমান বাবলু ও আমিমুল আহসান তানিম।

আর্থিক রিপোর্টের ওপর বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন সদস্যরা । বিশেষ করে ক্লাবের ব্যয় কিভাবে আরো কমানো যায় এবং পূর্ব লন্ডনে ক্লাবের অফিসের জন্য একটি প্রোপার্টি ক্রয় করার জন্য কিভাবে ফান্ড সংগ্রহ করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর সর্বসম্মতিক্রমে আর্থিক রিপোর্ট অনুমোদন করা হয়।
সভার শুরুতে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের মরহুম সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আফসার উদ্দিন ও আজীবন সদস্য আব্দুল খালিক তালুকদারের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সভায় নির্বাহী কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি সাঈম চৌধুরী, এসিসটেন্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, এসিসটেন্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, ট্রেইনিং এন্ড অরগানাইজিং সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইন, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন, নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সুহেল, জাকির হোসাইন কয়েস, ফয়সল মাহমুদ ও পলি রহমান।
ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনমুলক বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। পরে ক্লাব সদস্যরা নৈশভোজে অংগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ইভেন্ট ভেন্যূতে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর এক বছরের মাথায় ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ পরবর্তী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হলো । প্রেস ক্লাবের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনের বাধ্যবাধতা রয়েছে।

READ MORE

রোবটিক্স বিজ্ঞানী ড. হাসান শহীদের নেতৃত্বে কুইন মেরি ইউনভার্সিটি অব লন্ডনে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন উদ্ভাবন

‘এন ইন্সপায়ারিং ইভিনিং উইথ ড. হাসান শহীদ’ শীর্ষক লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের বিশেষ অনুষ্ঠান

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রোবটিক্স বিজ্ঞানী ড. হাসান শহীদের নেতৃত্বে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের বিজ্ঞানীরা বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন উদ্ভাবন করেছে। ১৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৫ সেন্টিমিটার প্রস্থের মূল ফ্রেমের এ ড্রোনের ওজন মাত্র ৭১ গ্রাম। কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে এবং এ গবেষণা, ‘ডিভেলাপমন্ট অব এ সোলার পাওয়ার্ড মাল্টিরোটর মাইক্রো এরিয়াল ভেহিকল’ নামে ন্যাচার গ্রুপের জার্নাল সায়েন্টিফক রিপোর্টস এ প্রকাশিত হয়েছে। ড্রোনটি নিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা সোলার মিডিয়া প্লাটফর্ম ‘পিভি ম্যাগাজিন’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির পিপলস প্যালেস হলে এ ব্যাপারে বাংলা মিডিয়ার সামনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের-এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদের পরিচালনায় এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. হাসান শহীদ। ‘এন ইন্সপায়ারিং ইভিনিং উইথ রোবোটিক সাইন্টিস্ট ডক্টর হাসান শহীদ’ শীর্ষক লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের বিশেষ এই অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, ট্রেজারার সালেহ আহমদ এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট ইমদাদুল হক চৌধুরী ও বেলাল আহমদ, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রহমান,
প্রেস ক্লাবের লাইফ মেম্বার এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির অনারারি ফেলো ব্রিটিশ বাংলাদেশী প্রথম মিলিনিয়ার মুকিম আহমদ, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দার, বৃটিশ বাংলাদেশ ক্যাটারাস এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তফজ্জুল মিয়াসহ অন্যান্যরা। এছাড়া বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির রোবটিক্স বিজ্ঞানী ড. হাসান শহীদ ইতিমধ্যে অনন্য মেধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। এবার নেতৃত্ব দিলেন বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন উদ্ভাবনে।এর আগে কুইন মেরিতে বিশ্বের প্রথম সোলারকপ্টার উদ্ভাবন‌ও তার নেতৃত্বে হয়েছে।

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন:

‘মাইক্রো সোলারকপ্টার’ নামে পরিচিত এই সিস্টেমটি একটি রিচার্জেবল রেডিও-নিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র মাল্টিরোটর ড্রোন যা গড়ে ৩.৫ মিনিট পর্যন্ত উড়তে পারে। সূর্যের আলোতে ২৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট কন্ডিশনে এটি চার্য হতে সময় নেয় ৬৮ মিনিট এবং সূর্যের আলো ছাড়া ৩৮ দিন পর্যন্ত হাইবারনেশনে থাকতে পারে। সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সিস্টেমটি নিজে নিজেই রিচার্য হতে পারে বিধায় কোন কাজে ব্যবহৃত হওয়া বা অপারেশনের সময় এটিকে মাঠেই রাখা যায়।

একটি মাইক্রো এরিয়াল ভেহিকল (এমএভি) হিসাবে, বড় কোন সিস্টেমের তুলনায় এটির অনেক সুবিধা রয়েছে, যেমন কম উচ্চতায় উড়ার ক্ষমতা এবং কম খরচ। একটি ক্ষুদ্র সোলার প্যানেল ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা। মাল্টিরোটর ব্যবস্থাপনার কারণে সিস্টেমটির স্বয়ংক্রিয়তা বা ওটোনমি বেশি। আকাশের নিচু স্তরে উড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়োগের জন্য এটি ফিক্সড-উইং সিস্টেমের তুলনায় অনেক বেশি উপযোগী।

২০১২ : সোলারকপ্টার উদ্ভাবন:
এ মাইক্রো সোলারকপ্টারটির উদ্ভাবনের কাজ, কুইন মেরিতে প্রথম সোলার-হাইব্রিড মাল্টিরোটর ভেহিকল উদ্ভাবনের সাথে সংশ্লিষ্ট। ড. হাসান শহীদের তত্ত্বাবধানে সেটির কাজ ইরাকি বংশোদ্ভূত ছাত্র আলী আবিদালিকে দিয়ে ২০১১ সালে শুরু হয় এবং সেটিতে সোলার প্যানেল, চার্য কন্ট্রোলার এবং ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ২০১২ সালে সেটি উড়তে সক্ষম হয়। এরপর কুইন মেরিতে শুধুমাত্র সৌরশক্তি ব্যবহার করে সোলারকপ্টার উদ্ভাবনের কাজ শুরু হয়। সেটি ছিলো সৌরশক্তি চালিত বিশ্বের প্রথম মাল্টিরোটার এরিয়াল ভেহিকল, যেটি কোন রকম ব্যাটারির সহায়তা ছাড়া উড়তে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে প্রদর্শন করা সম্ভব হয় যে কোয়াডরোটর ডিজাইনের সোলারকপ্টার ব্যাটারির সহায়তা ছাড়া শুধুমাত্র সূর্যের আলোতে উড়তে পারে। এর পর কুইন মেরি এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সৌরশক্তি চালিত আরো বেশ কয়েকটি মাল্টিরোটার ভেহিকলের উদ্ভাবন হয়েছে।

দিনে দিনে ড্রোন প্রয়োগের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে আকাশে নিরাপদে বেশি সময় ধরে উড়তে সক্ষম মাল্টিরোটর ড্রোনের চাহিদা। বেশি সময় ধরে উড়তে পারা ড্রোন এবং অনেকগুলো ড্রোন একসাথে কাজ করতে পারা বা ড্রোন সোয়োর্মের উন্নয়নের সাথে মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন মনিটরিং, ইন্সপেকশন, ফটোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট অনেক ধরনের প্রয়োগের উপযোগী হবে। এ ধরনের কয়েকটি কাজরে উদাহরণ হলো, নির্মাণ কাজ মনিটরিং, বনে-জঙ্গলে জীবজন্তুর চলাফেরা এবং বিপদ-আপদের ঝুঁকি মনিটরিং, আবহাওয়া মনিটরিং, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বন্যা এবং ভূমিকম্প কবলিত স্থানে ক্ষয়ক্ষতি এবং ত্রান কাজ মনিটরিং ইত্যাদি। এমনকি এ ধরনের মাল্টিরোটর সোলার ড্রোনকে স্যাটেলাইট হিসেবেও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

উদ্ভাবিত মাল্টিরোটর মাইক্রো সোলারকপ্টারের মতো সিস্টেম মাল্টিরোটর সিস্টেমের প্রয়োগের পরিধি নিঃসন্দেহেআরো বাড়াবে। মাইক্রো সোলাকপ্টারে সংযুক্ত আছে একটি ফার্স্ট পারসন ভিউ ক্যামেরা যা এটিকে অনেক ধরনের প্রয়োগের জন্য উপযোগী করবে যেমন অবিরাম পরিবেশ মনিটরিং, কোন বিশেষ স্থানের ভিডিও ইন্সপেকশন এবং মঙ্গল গ্রহের মতো স্থানে পরিবেশ মনিটরিং যেখানে চার্য করার কোন স্টেশন নেই। ক্ষুদ্র আকারের হওয়ার কারণে এ মাইক্রো সোলারকপ্টার সোয়োর্ম বিন্যাসের বা অনেকগুলো একসাথে মিলে কাজ করার জন্য বিশেষ উপযোগী হবে। এভাবে এরা অনেক বড় এলাকা একসাথে মনিটরিং এবং ভিন্ন ভিন্ন কাজ একসাথে করতে পারবে।

ড. হাসান শহীদ-এর
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
ড. হাসান শহীদ কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটিয়ারিয়াল সায়েন্স এর শিক্ষক (রিডার) এবং গবেষক। তার গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা একশ’ এর উপরে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ছাত্র তার অধীনে পিএইচডি ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকসহ ৫ জন ছাত্র তার অধীনে পিএইচডি গবেষণা করছে। সোলার ড্রোন ছাড়া তিনি মানুষের পরিপাক তন্ত্র ইন্সপেকশন এবং রোগ শনাক্ত করনের উপযোগী ক্যাপসুল রোবট, অনুভূতি সম্পন্ন কৃত্রিম হাত (প্রসথেটিকস), বয়স্ক এবং ডিস্যাবল লোকদের সহায়তা করতে পারে এমনসব রোবট নিয়ে গবেষণা করছেন।

গবেষণার পাশাপাশি বিশ্বাবিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য এর আগে ড. হাসান শহীদ ইউকের সবচেয়ে সম্মনাজনক শিক্ষা পুরস্কার ‘ন্যাশনাল টিচিং ফেলোশিপ (এনটিএফ)’ অর্জন করেছেন। ব্রিটেন এবং সারাবিশ্বে সুপরিচিত এ পুরস্কার ছাত্র-ছাত্রীদের শেখানোর ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক অবদানের জন্য ইউকে হায়ার এডুকেশন আক্যাডেমি ব্যক্তিবিশেষকে প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশী আক্যাডেমিক হিসেবে ড. হাসান শহীদ প্রথম এ পুরস্কার পেয়েছেন।

এ পুরস্কারের জন্য ইউকের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষক এবং শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট স্টাফদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ তিনজনকে নির্বাচন করতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচিত শিক্ষকদের মধ্য থেকে বাছাই করে হায়ার এডুকেশন আক্যাডেমি প্রতিবছর এ পুরস্কার দিয়ে থাকে। যে কারণে ড. শহীদকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে- ছাত্র-ছাত্রী কেন্দ্রিক শিক্ষা বা স্টুডেন্ট সেন্টর্ড লার্নিং, গবেষণা-ভিত্তিক শিক্ষা বা রিসার্চ-লেড টিচিং এবং অনেকগুলো পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রজেক্টের সুপারভিশনে বিশেষ অবদান। উচ্চতর শিক্ষায় উৎকষর্তায় বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য ড. হাসান শহীদ এর আগে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির ড্রেপার্স প্রাইজ এবং ড্রেপার্স টিচিং ফেলোসীপে সম্মানিত হয়েছেন।
ড. হাসান শহীদ বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার হানুয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন এবং বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে ততকালীন যশোর বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় তয় স্থান নিয়ে এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স এবং ইলেকট্রনিক্স বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান নিয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি শেফিল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে রোবটিক্সে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে যোগ দেন।

READ MORE
This website uses cookies to provide user authentication. Please indicate whether you consent to our site placing cookies on your device and agree with our Privacy Policy. To find out more, please read our Privacy and Cookie Policy