গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বিশেষ আলোচনা: ‘আর্থিক স্বাধীনতা ছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্ভব নয়’ — কামাল আহমদ

লন্ডন, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বিবিসি বাংলা’র সাবেক সম্পাদক কামাল আহমদ বলেছেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। আর্থিক স্বাধীনতা না আসলে প্রকৃত স্বাধীনতা আসবে না।”

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাব হলে অনুষ্ঠিত “গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ও বাস্তবতা” শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় গণমাধ্যম খাতের সংকট, সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং গণমাধ্যম মালিকপক্ষের একচেটিয়া প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রিপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রসঙ্গে কামাল আহমদ বলেন, আমরা দেশের ৮টি বিভাগীয় শহর, নগর ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক করেছি । সাংবাদিক, মালিক, একাডেমিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১৪শ জনের মতামত নিয়েছি এবং যেসব বিষয়ে সবচেয়ে বেশি একমত হওয়া গেছে, সেগুলোই প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কামাল আহমদ বলেন, মফস্বল থেকে রাজধানী পর্যন্ত অনেক সাংবাদিকেরই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অনিশ্চিত । ফলে অনেকেই মালিকপক্ষের স্বার্থে কাজ করতে বা বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন । পত্রিকার আইডি কার্ড বা টিভি মাইক্রোফোন হাতে দিয়ে সাংবাদিকদের বলা হচ্ছে “করে খাও” বা “যেভাবে হোক আয় করো”। যা পেশাদার নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়েরের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ-এর পরিচালনায় আলোচনায় নির্ধারিত আলোচক ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমদ এবং সিনিয়র সাংবাদিক ও সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের ১৮২ পৃষ্ঠার রিপোর্ট থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়, এর মধ্যে রয়েছে:
একই মালিকের অধীনে একাধিক সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল না রাখা।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বাসস — এই তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি সম্প্রচার সংস্থা গঠন করে ব্যয় কমানো ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাব।
এছাড়া ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, অফিসিয়াল সিক্রেসি আইন ও আদালত অবমাননা আইন যেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপব্যবহার না হয়, সেদিকে জোর দেওয়া। আশা করা হয়, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হবে।

গণমাধ্যম নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে কামাল আহমদ বলেন, “সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব । এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোরও এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান নেওয়া উচিত । বিএনপির ৩১ দফায় ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও পত্রিকার প্রধান সম্পাদক বেলাল আহমদ বলেন: “বর্তমানে সব ক্ষেত্রেই আস্থার সংকট বিরাজ করছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তবে প্রশ্ন থেকে যায় — প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন হবে কিনা। আমরা আশা করছি, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সরকার উভয়ই সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”

সিনিয়র সাংবাদিক ও সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন বলেন: “ মিডিয়া নিরাপদ থাকলে রাষ্ট্র ও সমাজ নিরাপদ থাকবে ।সাংবাদিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, চাকরির নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব নয়। কমিশনের প্রস্তাবনায় এসব বিষয়ে যে সুপারিশ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে সাংবাদিকতার মান উন্নত হবে এবং সমাজে আস্থা ফিরে আসবে।” তিনি তথ্য মন্ত্রণালয় বাতিল করে গন মাধ্যম কমিশন গঠনে গুরুত্বারোপ করেন।

প্রেসক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন “এই আয়োজনের উদ্দেশ্য ইউকেতে বসবাসরত সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা । আমরা চাই সবাই এই রিপোর্ট সম্পর্কে জানুক এবং বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করুক।”
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব সেক্রেটারি, তাইসির মাহমুদ বলেন: “ ৪০ বছর পর এটি দ্বিতীয় গণমাধ্যম সংস্কার রিপোর্ট । আগের বহু আলোচনাতেই সাংবাদিকদের স্বাধীনতা, আর্থিক সুরক্ষা ও বেতনভাতার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে । কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এবার আমরা চাই এই প্রস্তাবনাগুলো শুধু রিপোর্টে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কার্যকর হোক। সাংবাদিকরা যদি সময় সময় প্রস্তাবগুলো মিডিয়ায় তুলে ধরেন তাহলে সরকার তা কার্যকর করতে চাপ অনুভব করবে।
অনুষ্ঠানে আরো আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি যথাক্রমে মহিব চৌধুরী ও মোহাম্মাদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সাবেক সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক ও কবি সারওয়ার-ই আলম ও গবেষক ফারুক আহমেদ সহ আরও অনেকে । ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী এবং ট্রেজারার সালেহ আহমেদ।
সভায় প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসিসটেন্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, এসিসটেন্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি মুহাম্মদ আকরামুল হোসাইন, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান, নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সুহেল ও জাকির হোসাইন কয়েস।
সভায় উপস্থিত সবাই একমত হন যে, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংবাদ পরিবেশনের মান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সফল আয়োজন: কমিউনিটি কুয়েশ্চন টাইম উইথ হাইকমিশনার

লন্ডন ২১ জুন: যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ হাকমিশনের কাছে কমিউনিটির মানুষের আশা-প্রত্যাশা এবং চাওয়া-পাওয়া অনেক বেশী । একজন প্রবাসী হিসেবে নিজের দেশের প্রতিনিধি বা সেদেশের দ্বায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন চাওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয় এবং এটি মৌলিক অধিকারেরই একটি অংশ।

আমি পরিবর্তিত পরিস্থিতে দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা কর যাচ্ছি। কমিউনিটির অনেক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে বৈঠক হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। আমি সবার সাথে কথা বলে চেষ্টা করেছি সমস্যা গুলো চিহ্নিত করতে। এর সমাধানে যথাযথ পথ খুঁজে বের করাও আমার দায়িত্ব।

হাইকমিশনার লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে ‘কমিউনিটি কুয়েশ্চন টাইম উইথ হাইকমিশনার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। এতে রেওয়াজ অনুযায়ী ক্লাব প্রেসিডেন্ট ও হাইকমিশনারের প্রারম্ভিক রক্তব‍্য ছাড়া কোনো গতানুগতিক বক্তব্যের সুযোগ ছিলোনা।

প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, আমরা এই আয়োজনের মাধ্যমে সব কিছুর জবাব বা সমাধান পাবো তেমনটি আশা করি না। আমরা চাই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বার বার আলোচনায় আসুক। যথার্থ ও সম্মানের সাথে  প্রশ্ন করা বা জবাবদিহিতার কালচার অব্যাহত থাকুক। আর সাহস নিয়ে এমন কঠিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় আমরা হাইকমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ বলেন,
প্রেস ক্লাব আগেও বাংলাদেশের হাইকমিশনার, ঢাকার বৃটিশ হাইকমিশনার, মন্ত্রী, প্রথম বাংলাদেশি এমপি এবং প্রথম নির্বাহী মেয়রকে নিয়েও সমান আয়োজন করেছে।

নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রশ্ন বা মতামত রাখেন, ইউকেবিসিসিআই’র চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ ওবিই, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ডিজি সলিসিটর দেওয়ান মাহদী, ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ওলি খান এমবিই, ব্রিটিশ বাংলাদেশী ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তোফাজ্জুল মিয়া, সোসাইটি অব বৃটিশ বাংলাদেশী সলিসিটর্স এর প্রেসিডেন্ট সলিসিটর নুরুল গাফফার, বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসাইন ও একাউন্টেনট ক্লাব ইউকে’র প্রতিনিধি এ মুহিত। নেতৃবৃন্দ কমিউনিটির বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। ক্লাব সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী ও টেজারার সালেহ আহমদ সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

সাংবাদিকরা হাইকমিশনের সেবার মান, ওয়েব সাইটের দুর্বলতা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, নো ভিসা ফি ও দেশী ভেজেটেবুল আমদানিতে সমস‍্যাসহ কমিউনিটির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন রাখেন। বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালিন সরকারের প্রধান উপেদাষ্টার সাম্প্রতিক লন্ডন সফর সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও প্রশ্ন আসে। হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম মনোযোগসহ প্রশ্নগুলো শুনেন এবং উত্তর দেন।কিছু জটিল ও কঠিন প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয় তাকে।

আবিদা ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন, প্রবাসীদের জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি জটিলতা দূরীকরণে প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল স্থাপন,বার্মিংহামের স্মল হিথ পার্কে বহিবিশ্বে প্রথম পতাকা জাতীয় পতাকা উওোলনের দিনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি,
দেশীয় সবজি আমদানিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করেছেন । আমি সরকারের কাছে আপনাদের সেই সব দাবি যথাযথ ভাবে পৌঁছে দিয়েছি এবং দেবো।

PHOTO by: Eklasur Rahman Pakku &
Masud Ahmed.

READ MORE

ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী মিডিয়া ট্রেনিং প্রোগ্রাম

লন্ডন, ২২ মে ২০২৫ : ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী মিডিয়া ট্রেনিং প্রোগ্রাম ১৮ মে রোববার পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি হলে অনুষ্ঠিত হয় । প্রোগ্রামে ব্রিটেনের বাংলা মিডিয়ার বিভিন্ন সংবাদপত্র , টেলিভিশন, অনলাইন নিউজপোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারী তাইসির মাহমুদের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যে কোনো পেশায় প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। পেশাগত জীবনে আমরা প্রতিদিনই কিছু না কিছু শিখে যাচ্ছি।সাংবাদিকরা যত বেশি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন ততই নিজেদের পেশাক্ষেত্রে সমৃদ্ধ করবেন।বক্তারা বলেন, নৈতিকতা সমৃদ্ধ সাংবাদিকগণ সমাজ, কমিউনিটি ও জাতিকে সত্যিকারের পথ দেখতে পারেন । সাংবাদিকরা যদি নিষ্ঠার সাথে তাদের দ্বায়িত্ব পালন করতে পারেন তবে সমাজ, দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

প্রেস ক্লাবের অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইনের সার্বিক ত্বত্তাবধানে ট্রেনিং প্রোগ্রামে ৯ জন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণ কারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট মহিব চৌধুরী, ফাউন্ডার সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম বাসন, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী ও লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমীর প্রিন্সিপাল আশিদ আলী।

এতে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকতার মূলনীতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বিবিসি বাংলার সাবেক প্রযোজক সিনিয়র সাংবাদিক উদয় শঙ্কর দাশ ।

“জার্নালিজম : নীতি ও মানদণ্ড” বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বিবিসি বাংলার সাবেক বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন।

“টিভি উপস্থাপনায় দক্ষতা” বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন চ্যানেল এস টেলিভিশনের সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার, কলামিস্ট ডাক্তার জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার।

“টিভি রিপোর্টিংয়ে কমিউনিটি পার্সপেক্টিভ” বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও চ‍্যানেল এস-এর সাবেক চিফ মুহাম্মদ জুবায়ের।

“কলম থেকে পিক্সেল : প্রিন্ট ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার মধ্যে সেতুবন্ধন”- বিষয়ে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এনটিভি ডিজিটাল এর সম্পাদক ও হেড অব অনলাইন ফখরুদ্দিন জুয়েল।

“সাংবাদিকতা: কমিউনিটির প্রতি দায়িত্ব” বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারী ও সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকার সম্পাদক তাইসির মাহমুদ।

READ MORE

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের অভ্যন্তরিণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫

লন্ডন, ১৪ মে ২০২৫: উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের অভ্যন্তরিণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫ । ১১ মে রোববার প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে দিনব্যাপী দাবা, ক্যারম ও লুডু প্রতিযোগিতায় বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।


দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হোন চ‍্যানেল এস-এর বার্মিংহাম প্রতিনিধি মোঃ আতিকুর রহমান এবং রানার আপ হোন মোহাম্মাদ শামিম আহমেদ । ক‍্যারামে মোট ১৬ জন প্রতিযোগীকে ৮টি গ্রুপে ভাগ করে নক আউট পদ্ধতিতে খেলা শুরু হয় । এই খেলায় এবারও চ‍্যাম্পিয়ন হোন মোঃ আতিকুর রহমান । তিনি গতবারও এই খেলায় চ্যাম্পিয়ন ছিলেন ।
অপরদিকে লুডু খেলায় দু’টি বোর্ডে ৮ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন । তবে পরপর ছক্কা মেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন জান্নাতুল ফিরদৌস তুলি । রানার আপ হোন মোঃ বদরুজ্জামান বাবুল।
দিনশেষে সন্ধ্যায় বিজয়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী পর্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়ান গ্রাণ্ড মাস্টার এনামুল হোসেন রাজিব, ব্রিটিশ বাংলা চেস এসোসিয়েশনের (বিবিসিএ) প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক আবু মুসা হাসান ও সভাপতি মাহমুদ মাজেদ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ট্রেজারার সালেহ আহমদ, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন ও নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সোহেল । দাবা প্রতিযোগিতায় বিচারকের ভুমিকা পালন করেন বিবিসিএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ নান্নু।
এছাড়াও পুরস্কার বিতরনী পর্বে অংশগ্রহণ করে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রহমত আলী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল সিলেট ইউকে কমিটির প্রধান উপদেষ্টা এম শামসুদ্দিন, হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট হসপিটাল ইউকে কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেটের কেন্দ্রীয় কমিটির এক্সিকিউটিভ মেম্বার মিছবাহ জামাল, প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য মানিক মিয়া, জেনারেল সেক্রেটারি মনসুর আহমদ খান ও নির্বাহী সদস্য মতিউর রহমান খোকন।


লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ইভেন্ট এন্ড ফ‍্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট সফল ও আনন্দঘন করে তুলতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন ক্লাবের এসিসটেন্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, প্রথম নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সুহেল ও নির্বাহী সদস্য ফয়সল মাহমুদ । অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারি মোঃ আকরামুল হোসেন ও নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন কয়েস। টুর্নামেন্টের স্পনসর ছিলো ‘বিবিসিএ’ এবং ডটপ্রিন্ট প্রিন্টিং কোম্পানী।
প্রধান অতিথি গ্র্যান্ড মাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশও সাংবাদিকরা দাবাকে গুরুত্ব সহকারে সবসময় প্রচার করে থকেন। বিলেতেও বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন দেখে খুব ভালো লাগছে ।


সভাপতি মোহাম্মাদ জুবায়ের বলেন, সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি আনন্দঘন টুর্নামেন্ট উপহার দিতে পারলাম। যারাই এই আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ বলেন, খেলাধূলা আমাদের শরীরচর্চা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখে । তাছাড়া ক্লাবের সদস্যদেরকে এনগেইজ করতে এ ধরনের খেলাধূলা আয়োজনের বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ বাংলা চেস এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় সংগঠনের ২০ পাউন্ডের বার্ষিক সদস্য ফি’র পরিবর্তে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্যরা ১০ পাউন্ড ফি দিয়ে সদস্য পদ গ্রহণ করতে পারবেন । এছাড়া সাংবাদিক মিছবাহ জামাল সানরাইজ ও স্পেরট্রাম বাংলা রেডিও থেকে প্রেস ক্লাবের আগামী টুর্নামেন্টের জন‍্য ৫০০ পাউন্ড স্পনসর করার ঘোষণা করেন।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৪ অনুষ্ঠিত : গতিশীল প্রেস ক্লাব উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার

লন্ডন, ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ : বিলেতের বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে । গত ২৭ জানুয়ারি (২০২৫) সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডস্থ লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় । ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ ।

সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদক গত এক বছরের কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন । এরপর আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ট্রেজারার সালেহ আহমদ । উপস্থিত সদস্যরা প্রথমে আর্থিক রিপোর্টের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ । এরপর সাধারণ সম্পাদকের কার্যবিবরণীর ওপর আলোচনা শুরু হয় । এতে বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন । এসময় ২০২৩ সালের বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরনী অনুমোদন করা হয়।

সাধারণ সভায় গত এক বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশে বিশেষ ভুমিকা রাখায় “হাইয়েস্ট প্রেজেন্স এন্ড রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন ইক্বরা টিভির চীফ রিপোর্টার ও বাংলাপেইজ২৪ এর প্রধান সম্পাদক খালেদ মাসুদ রনি । তাছাড়া, নির্বাহী কমিটিতে সক্রিয়া ভুমিকা পালনের জন্য ‘বেস্ট পারফরমেন্স ইন ইসি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন ক্লাবের ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন ও নির্বাহী সদস্য ফয়সল মাহমুদ।

ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ জুবায়ের, জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী সাংবাদিক খালেদ মাসুদ রনির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা সার্টিফিকেট তুলে দেন। সাবেক সভাপতি নবাব উদ্দিন ও মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী রুপি আমিনের হাতে সম্মাননা সার্টিফিকেট তুলে দেন। অন‍্যদিকে সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা ও ট্রেজারার সালেহ আহমদ সাংবাদিক ফয়সল মাহমুদের হাতে সম্মাননা সার্টিফিকেট তুলে দেন।

ক্লাব সভাপতি মোহাম্মাদ জুবায়ের তাঁর বক্তব্যে বলেন, গত এক বছর আমরা রুটিন কর্মসূচিগুলোর বাইরে বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করেছি । এতে আপনাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিলো । এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সিলেট ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন বধ্যভুমিতে নির্মিত শহীদ স্মৃতি উদ্যাণ প্রকল্পে আমাদের জেনারেল মেম্বার ও লাইফ মেম্বারদের পক্ষ থেকে ২২ হাজার পাউণ্ড অনুদান প্রদান। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে যুক্ত হতে পারা আমাদের ক্লাবের জন্য গর্বের । গত ৪ জানুয়ারি শহীদ স্মৃতি উদ্যানে ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব কমপ্লেক্স’ নামে একটি ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ বলেন, প্রায় ৩২ বছরের পুরোনো এই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা এখন প্রায় তিন শ’র কাছাকাছি। এই সংগঠন এখন অনেক বড় হয়েছে। কাজের পরিধিও বেড়েছে অনেক গুণ । সপ্তাহে একাধিক সংবাদ সম্মেলন, নির্বাহী কমিটির সভা, বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন, বার্ষিক সামারট্রিপ, ফুটবল টুর্নামেন্ট, কর্মশালা, নিয়মিত সদস্য-সন্ধ্যা আয়োজন, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে সময় সময় মতবিনিময়সহ কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সংগঠনকে প্রতিনিধিত্ব করাসহ বহুমুখী কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় সারা বছর। আজকের সাধারণ সভায় আমরা গত এক বছরের কার্যবিবরণী উপস্থাপন করলাম । প্রেস ক্লাব সদস্যরা আমাদের কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বপুর্ণ মতামত দিয়েছেন। তাদের মতামত অবশ্যই আমাদের কাজে আরো স্স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে মনে করি। তিনি জানান, গত এক বছরে ৪৫টি প্রেস কনফারেন্স এবং ১১টি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব ।
সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনের ওপর প্রশ্নোত্তরপর্বে অংশগ্রহণ করেন ক্লাবের সদস্য সর্বজনাব আকবর হোসেন, মিছবাহ জামাল, বাতিরুল হক সর্দার, খালেদ বিন ওয়ালিদ, জিয়া উদ্দিন তালুকদার, এনাম চৌধুরী, মাহবুব আলী খানশূর, আশরাফুল ওয়াহিদ দুলাল, আব্দুল হামিদ টিপু, আহাদ চৌধুরী বাবু, শওকত মাহমুদ টিপু, এম এ কাইয়ুম, মোহাম্মদ শরীফুজ্জামান, হাসনাত আরিয়ান খান, উদয় শঙ্কর দাশ, বুলবুল হাসান, আনোয়ারুল ইসলাম অভি, জিআর সোহাইল, মহিব চৌধুরী, সৈয়দ আনাস পাশা, হিমিকা ইমাম, দিলু নাসের ও তবারক পারভেজ।

এতে মূলধারার সাংবাদিকদের সাথে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠান আয়োজন, শিক্ষামূলক ইউরোপ ট্যুর, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, সাংবাদিকদের ট্রেনিং আয়োজন, নিউ মেম্বারশীপ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
ট্রেজারার সালেহ আহমদ বলেন, গত এক বছর সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বাবদ আমরা ৮ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করেছি । তাছাড়া ক্লাবের নিজস্ব প্রোপার্টি ভাড়া বাবদ আয় হয়েছে প্রায় ১২ হাজার পাউন্ড।
আর্থিক রিপোর্টের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সর্বজনাব আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, আহাদ চৌধুরী বাবু, মোস্তাক আলী বাবুল, উদয় শঙ্কর দাশ, মহিব চৌধুরী, ফয়সল রুহেল, সালাহ উদ্দিন শাহিন, আশরাফুল ওয়াহিদ দুলাল, মোহাম্মদ শরিফুজ্জামান, আজিজুল হক কায়েস, আবু রহমান, শামসুল ইসলাম, খালেদ মাসুদ রনি, আব্দুল কাইয়ুম, নাহিদ জাগিরদার, মোহিতুর রহমান বাবলু ও আমিমুল আহসান তানিম।

আর্থিক রিপোর্টের ওপর বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন সদস্যরা । বিশেষ করে ক্লাবের ব্যয় কিভাবে আরো কমানো যায় এবং পূর্ব লন্ডনে ক্লাবের অফিসের জন্য একটি প্রোপার্টি ক্রয় করার জন্য কিভাবে ফান্ড সংগ্রহ করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর সর্বসম্মতিক্রমে আর্থিক রিপোর্ট অনুমোদন করা হয়।
সভার শুরুতে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের মরহুম সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আফসার উদ্দিন ও আজীবন সদস্য আব্দুল খালিক তালুকদারের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

সভায় নির্বাহী কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি সাঈম চৌধুরী, এসিসটেন্ট সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, এসিসটেন্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, ট্রেইনিং এন্ড অরগানাইজিং সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইন, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন, নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সুহেল, জাকির হোসাইন কয়েস, ফয়সল মাহমুদ ও পলি রহমান।
ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনমুলক বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। পরে ক্লাব সদস্যরা নৈশভোজে অংগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ইভেন্ট ভেন্যূতে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর এক বছরের মাথায় ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ পরবর্তী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হলো । প্রেস ক্লাবের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনের বাধ্যবাধতা রয়েছে।

READ MORE

রোবটিক্স বিজ্ঞানী ড. হাসান শহীদের নেতৃত্বে কুইন মেরি ইউনভার্সিটি অব লন্ডনে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন উদ্ভাবন

‘এন ইন্সপায়ারিং ইভিনিং উইথ ড. হাসান শহীদ’ শীর্ষক লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের বিশেষ অনুষ্ঠান

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রোবটিক্স বিজ্ঞানী ড. হাসান শহীদের নেতৃত্বে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের বিজ্ঞানীরা বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন উদ্ভাবন করেছে। ১৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৫ সেন্টিমিটার প্রস্থের মূল ফ্রেমের এ ড্রোনের ওজন মাত্র ৭১ গ্রাম। কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে এবং এ গবেষণা, ‘ডিভেলাপমন্ট অব এ সোলার পাওয়ার্ড মাল্টিরোটর মাইক্রো এরিয়াল ভেহিকল’ নামে ন্যাচার গ্রুপের জার্নাল সায়েন্টিফক রিপোর্টস এ প্রকাশিত হয়েছে। ড্রোনটি নিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা সোলার মিডিয়া প্লাটফর্ম ‘পিভি ম্যাগাজিন’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির পিপলস প্যালেস হলে এ ব্যাপারে বাংলা মিডিয়ার সামনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রেস ক্লাব সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের-এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদের পরিচালনায় এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. হাসান শহীদ। ‘এন ইন্সপায়ারিং ইভিনিং উইথ রোবোটিক সাইন্টিস্ট ডক্টর হাসান শহীদ’ শীর্ষক লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের বিশেষ এই অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, ট্রেজারার সালেহ আহমদ এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট ইমদাদুল হক চৌধুরী ও বেলাল আহমদ, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রহমান,
প্রেস ক্লাবের লাইফ মেম্বার এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির অনারারি ফেলো ব্রিটিশ বাংলাদেশী প্রথম মিলিনিয়ার মুকিম আহমদ, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দার, বৃটিশ বাংলাদেশ ক্যাটারাস এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তফজ্জুল মিয়াসহ অন্যান্যরা। এছাড়া বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির রোবটিক্স বিজ্ঞানী ড. হাসান শহীদ ইতিমধ্যে অনন্য মেধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। এবার নেতৃত্ব দিলেন বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন উদ্ভাবনে।এর আগে কুইন মেরিতে বিশ্বের প্রথম সোলারকপ্টার উদ্ভাবন‌ও তার নেতৃত্বে হয়েছে।

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন:

‘মাইক্রো সোলারকপ্টার’ নামে পরিচিত এই সিস্টেমটি একটি রিচার্জেবল রেডিও-নিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র মাল্টিরোটর ড্রোন যা গড়ে ৩.৫ মিনিট পর্যন্ত উড়তে পারে। সূর্যের আলোতে ২৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট কন্ডিশনে এটি চার্য হতে সময় নেয় ৬৮ মিনিট এবং সূর্যের আলো ছাড়া ৩৮ দিন পর্যন্ত হাইবারনেশনে থাকতে পারে। সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সিস্টেমটি নিজে নিজেই রিচার্য হতে পারে বিধায় কোন কাজে ব্যবহৃত হওয়া বা অপারেশনের সময় এটিকে মাঠেই রাখা যায়।

একটি মাইক্রো এরিয়াল ভেহিকল (এমএভি) হিসাবে, বড় কোন সিস্টেমের তুলনায় এটির অনেক সুবিধা রয়েছে, যেমন কম উচ্চতায় উড়ার ক্ষমতা এবং কম খরচ। একটি ক্ষুদ্র সোলার প্যানেল ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা। মাল্টিরোটর ব্যবস্থাপনার কারণে সিস্টেমটির স্বয়ংক্রিয়তা বা ওটোনমি বেশি। আকাশের নিচু স্তরে উড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়োগের জন্য এটি ফিক্সড-উইং সিস্টেমের তুলনায় অনেক বেশি উপযোগী।

২০১২ : সোলারকপ্টার উদ্ভাবন:
এ মাইক্রো সোলারকপ্টারটির উদ্ভাবনের কাজ, কুইন মেরিতে প্রথম সোলার-হাইব্রিড মাল্টিরোটর ভেহিকল উদ্ভাবনের সাথে সংশ্লিষ্ট। ড. হাসান শহীদের তত্ত্বাবধানে সেটির কাজ ইরাকি বংশোদ্ভূত ছাত্র আলী আবিদালিকে দিয়ে ২০১১ সালে শুরু হয় এবং সেটিতে সোলার প্যানেল, চার্য কন্ট্রোলার এবং ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ২০১২ সালে সেটি উড়তে সক্ষম হয়। এরপর কুইন মেরিতে শুধুমাত্র সৌরশক্তি ব্যবহার করে সোলারকপ্টার উদ্ভাবনের কাজ শুরু হয়। সেটি ছিলো সৌরশক্তি চালিত বিশ্বের প্রথম মাল্টিরোটার এরিয়াল ভেহিকল, যেটি কোন রকম ব্যাটারির সহায়তা ছাড়া উড়তে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে প্রদর্শন করা সম্ভব হয় যে কোয়াডরোটর ডিজাইনের সোলারকপ্টার ব্যাটারির সহায়তা ছাড়া শুধুমাত্র সূর্যের আলোতে উড়তে পারে। এর পর কুইন মেরি এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সৌরশক্তি চালিত আরো বেশ কয়েকটি মাল্টিরোটার ভেহিকলের উদ্ভাবন হয়েছে।

দিনে দিনে ড্রোন প্রয়োগের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে আকাশে নিরাপদে বেশি সময় ধরে উড়তে সক্ষম মাল্টিরোটর ড্রোনের চাহিদা। বেশি সময় ধরে উড়তে পারা ড্রোন এবং অনেকগুলো ড্রোন একসাথে কাজ করতে পারা বা ড্রোন সোয়োর্মের উন্নয়নের সাথে মাল্টিরোটর সোলার ড্রোন মনিটরিং, ইন্সপেকশন, ফটোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট অনেক ধরনের প্রয়োগের উপযোগী হবে। এ ধরনের কয়েকটি কাজরে উদাহরণ হলো, নির্মাণ কাজ মনিটরিং, বনে-জঙ্গলে জীবজন্তুর চলাফেরা এবং বিপদ-আপদের ঝুঁকি মনিটরিং, আবহাওয়া মনিটরিং, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বন্যা এবং ভূমিকম্প কবলিত স্থানে ক্ষয়ক্ষতি এবং ত্রান কাজ মনিটরিং ইত্যাদি। এমনকি এ ধরনের মাল্টিরোটর সোলার ড্রোনকে স্যাটেলাইট হিসেবেও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

উদ্ভাবিত মাল্টিরোটর মাইক্রো সোলারকপ্টারের মতো সিস্টেম মাল্টিরোটর সিস্টেমের প্রয়োগের পরিধি নিঃসন্দেহেআরো বাড়াবে। মাইক্রো সোলাকপ্টারে সংযুক্ত আছে একটি ফার্স্ট পারসন ভিউ ক্যামেরা যা এটিকে অনেক ধরনের প্রয়োগের জন্য উপযোগী করবে যেমন অবিরাম পরিবেশ মনিটরিং, কোন বিশেষ স্থানের ভিডিও ইন্সপেকশন এবং মঙ্গল গ্রহের মতো স্থানে পরিবেশ মনিটরিং যেখানে চার্য করার কোন স্টেশন নেই। ক্ষুদ্র আকারের হওয়ার কারণে এ মাইক্রো সোলারকপ্টার সোয়োর্ম বিন্যাসের বা অনেকগুলো একসাথে মিলে কাজ করার জন্য বিশেষ উপযোগী হবে। এভাবে এরা অনেক বড় এলাকা একসাথে মনিটরিং এবং ভিন্ন ভিন্ন কাজ একসাথে করতে পারবে।

ড. হাসান শহীদ-এর
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
ড. হাসান শহীদ কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটিয়ারিয়াল সায়েন্স এর শিক্ষক (রিডার) এবং গবেষক। তার গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা একশ’ এর উপরে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ছাত্র তার অধীনে পিএইচডি ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকসহ ৫ জন ছাত্র তার অধীনে পিএইচডি গবেষণা করছে। সোলার ড্রোন ছাড়া তিনি মানুষের পরিপাক তন্ত্র ইন্সপেকশন এবং রোগ শনাক্ত করনের উপযোগী ক্যাপসুল রোবট, অনুভূতি সম্পন্ন কৃত্রিম হাত (প্রসথেটিকস), বয়স্ক এবং ডিস্যাবল লোকদের সহায়তা করতে পারে এমনসব রোবট নিয়ে গবেষণা করছেন।

গবেষণার পাশাপাশি বিশ্বাবিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য এর আগে ড. হাসান শহীদ ইউকের সবচেয়ে সম্মনাজনক শিক্ষা পুরস্কার ‘ন্যাশনাল টিচিং ফেলোশিপ (এনটিএফ)’ অর্জন করেছেন। ব্রিটেন এবং সারাবিশ্বে সুপরিচিত এ পুরস্কার ছাত্র-ছাত্রীদের শেখানোর ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক অবদানের জন্য ইউকে হায়ার এডুকেশন আক্যাডেমি ব্যক্তিবিশেষকে প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশী আক্যাডেমিক হিসেবে ড. হাসান শহীদ প্রথম এ পুরস্কার পেয়েছেন।

এ পুরস্কারের জন্য ইউকের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষক এবং শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট স্টাফদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ তিনজনকে নির্বাচন করতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচিত শিক্ষকদের মধ্য থেকে বাছাই করে হায়ার এডুকেশন আক্যাডেমি প্রতিবছর এ পুরস্কার দিয়ে থাকে। যে কারণে ড. শহীদকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল, তার মধ্যে রয়েছে- ছাত্র-ছাত্রী কেন্দ্রিক শিক্ষা বা স্টুডেন্ট সেন্টর্ড লার্নিং, গবেষণা-ভিত্তিক শিক্ষা বা রিসার্চ-লেড টিচিং এবং অনেকগুলো পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রজেক্টের সুপারভিশনে বিশেষ অবদান। উচ্চতর শিক্ষায় উৎকষর্তায় বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য ড. হাসান শহীদ এর আগে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির ড্রেপার্স প্রাইজ এবং ড্রেপার্স টিচিং ফেলোসীপে সম্মানিত হয়েছেন।
ড. হাসান শহীদ বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার হানুয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন এবং বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে ততকালীন যশোর বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় তয় স্থান নিয়ে এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স এবং ইলেকট্রনিক্স বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান নিয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি শেফিল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে রোবটিক্সে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে যোগ দেন।

READ MORE

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের শোকসভা : শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায় বিবিসিখ্যাত প্রয়াত পাঁচ সাংবাদিককে স্মরণ

লন্ডন, ২৩ অক্টোবর ২০২৪ : লন্ডনে সহকর্মীদের আবেগঘন স্মৃতিচারণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হলো বিবিসির প্রয়াত পাঁচ বৃটিশ-বাংলাদেশী সাংবাদিককে। গত ১৮ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত শোকসভায় এই গুণী সাংবাদিকদের স্মরণ করা হয় । এঁরা হলেন ঊর্মি রহমান, গোলাম কাদের, কাদের মাহমুদ, গোলাম মুর্শিদ ও শাহীন জামান । প্রত্যেকেই ছিলেন বিবিসিখ্যাত সাংবাদিক, দীর্ঘদিন বিবিসির বাংলা বিভাগে কাজ করে সুনাম অর্জন করেন তাঁরা । একইসঙ্গে লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জনমত ও নতুন দিনের প্রকাশনায়ও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সহকর্মীদের স্মৃতিকথায় উঠে আসে বিলেতে সাংবাদিকতা, বাংলা ভাষার চর্চা-বিকাশ এবং বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারে তাঁদের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকার কথা । তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছিলেন মহীরুহসম। সাংবাদিকরা মনে করেন এসব কীর্তিমান তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিলেতে বাংলাদেশী সমাজ ও সাংস্কৃতিকে অনেক দূর নিয়ে গেছেন । তাদের হারানোর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশী কমিনিটির যে ক্ষতি এবং শূন্যতার সৃষ্ঠি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার কথা নয় । এই পাঁচজন স্বনামধন্য সাংবাদিক সম্প্রতি অল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেন।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের । সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রয়াত সাংবাদিকদের কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলোর সাবেক পরামর্শক সম্পাদক কামাল আহমেদ, সাপ্তাহিক জনমত এর সাবেক নির্বাহী সম্পাদক দানেস আহমেদ, অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক নতুন দিন-এর সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি খুররম মতিন, প্রেস ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট নবাব উদ্দিন, চ্যানেল এস এর সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার ডাঃ জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, বিশিষ্ট সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মিলন, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী ও সাংবাদিক আব্দুল মুনিন জাহেদী ক্যারল প্রমুখ।
তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে প্রয়াত পাঁচ সাংবাদিকের কর্মনিষ্ঠা, বন্ধুত্ব, সহকর্মীদের প্রতি গভীর আন্তরিকতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং বাংলা ভাষার প্রতি তাঁদের মমতার কথা। এ সময় ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সভায় কবিতা পাঠ করেন সাংবাদিক ঊর্মি মাযহার ও কবি সারওয়ার-ই আলম ।

বিবিসি বাংলার সাবেক সাংবাদিক কামাল আহমেদ বলেন, মূলত পাঁচজন নয়, সৈয়দ আফসার উদ্দিনসহ বিবিসি বাংলার ছয়জন প্রয়াত সাংবাদিকের মধ্যে একটি বিষয়ে অভিন্ন মিল ছিল, আর তা হলো—ব্রিটেনে বাংলা ভাষা, শিল্পকলা-সাহিত্য চর্চা ও প্রসারে তাঁরা প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন । শুধু সাংবাদিকতাই নয়, এর বাইরেও তাঁদের কিছু না কিছু অবদান আছে। উর্মি রহমান ব্রিটেনে বাংলা ভাষার প্রচলনের জন্য এখানে তিনি অনেক ভূমিকা রেখেছেন। গোলাম মুরশিদ বাংলা বই যেমন লিখেছেন, তাঁর সাহিত্য কর্মের মাধ্যমে বাংলা ভাষার প্রসার-সাহিত্য এবং ইতিহাস নিয়ে আত্মনিয়োগ করেছেন । তিনি ছিলেন শিক্ষক ।শাহীন জামান শিল্পচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ।সাংবাদিকতা ছাড়াও নাটক, সঙ্গীত আয়োজনে তাঁর ভূমিকা ছিলো উল্লেখ্য করার মতো । কাদের মাহমুদ লেখক হিসাবে শুধু ব্রিটেনে নয়, বাংলাদেশে ভূমিকা রেখেছেন ।এঁদের সবার ভূমিকা উল্লেখ করার মতো। গোলাম কাদের ব্রিটেন বাংলা পাড়ায় এবং ব্রিটেনের বাইরে কম্পিউটারে বাংলা ফন্ট ব্যবহারের প্রচলন শুরু করতে ভূমিকা রেখেছেন।

সাপ্তাহিক জনমতের সাবেক সম্পাদক নবাব উদ্দিন বলেন, গত এক বছরে আমরা ছয় জন গুনি সাংবাদিককে হারিয়েছি, এটা সত্যি আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি ।তিনি বলেন, গোলাম কাদেরের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক ছিলো, শেষ দেখা হয় বাংলাদেশ বিমানে ।সাংবাদিক গোলাম মুরশিদ বাংলা ভাষার পন্ডিত ছিলেন । মালবারি স্কুলের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন, মারবারি স্কুলে থাকাকালীন এ লেভেল এবং জিসিএসই শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি মালবারি গুচ্ছ প্রকাশ করেন যা বাংলা শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সাপ্তাহিক জনমত মালবারি গুচ্ছ প্রকাশের দায়িত্ব পালন করে। বইগুলো বাঙালির জীবন কাহিনী নিয়ে সরল ভাষায় রচিত । একইসঙ্গে তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে অভিধান রচনা করেন । রুপসী বাংলা ডিকসনারী তৈরী ও ‘কালাপানির হাতছান নামে একটি বই লেখেন যা বিতর্কের সৃষ্টি করে।

ঊর্মি রহমান সম্পর্কে নবাব উদ্দিন বলেন, তাঁর সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক ছিল ।কাদের মাহমুদ সম্পর্কে তিনি বলেন, জনমতে থাকাকালে কাদের মাহমুদ সাহিত্য পাতা চালু করে লন্ডনে বাংলা সাহিত্য চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । তিনি পঞ্চাশটির মতো বই রচনা করেন । এছাড়াও তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক ।শাহীন জামানের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক ছিলো, তিনি ছিলেন আমার বন্ধুর মতো ।তার সাথে অনেক কাজ করেছি, নাটক করেছি । তাঁর মৃত্যুর পর আমি দাফন-কাপন থেকে শুরু করে চেষ্টা করেছি সধ্যমতো সবকিছু করার।

সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী গোলাম কাদের সম্পর্কে বলেন, তাঁর প্রতি বিলেতের বাংলা গণমাধ্যমকর্মীদের অনেক ঋণ রয়েছে । বাংলা কাগজগুলোতে বাংলা ফন্ট ব্যবহারের কাজটি তিনি খুব সহজ করে দেন । তিনি আমাদেরকে শিখিয়ে দেন কীভাবে সহজে বাংলা ফন্ট বিজয় ব্যবহার করা যায় ।বাংলা ফন্ট নিয়ে বিপদে পড়লে উনাকে ডাকতাম।

ঊর্মি রহমান সম্পর্কে মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, তাঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগ খুব নিবিড় ছিল । ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত আন্তরিক ও সদালাপী মানুষ ছিলেন তিনি। পনের বছর আগে প্রেস ক্লাবের একটি নির্বাচনে তিনি নির্বাচন কমিশনার হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন । প্রেস ক্লাবের যে ক’জন সদস্য নির্বাচন কমিশনার হয়েছিলেন তিনি তাঁদের মধ্যে একজন ।

লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মহিব চৌধুরী বলেন, গোলাম কাদের একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন নিরপেক্ষতা এবং ভ্যালেন্স বজায় রেখে যতটা কাজ করা যায় তা তিনি করতেন।এটা হয়তো বিবিসির প্রভাব হতে পারে । তিনি অত্যন্ত অনেস্ট মানুষ ছিলেন।

লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ৭০/৮০ এর দশকে যারা সাংবাদিকতা করেছেন তাদের সাথে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের একটা গ্যাপ তৈরি হয়ে গেছে। গত ১০/১২ বছরে একটা জেনারেশন মিডিয়াতে তৈরি হয়ে গেছে যারা ৭০/৮০ দশকের সাংবাদিকদের ততটা চিনেন না ।প্রয়াত পাঁচজন সাংবাদিকের সাথে সাপ্তাহিক জনমত ও নতুন দিনের সুত্রে গত ৩০/৪০ বছর ধরে সম্পর্ক গড়ে উঠে । আমরা এসব গুনি সাংবাদিকদের স্মরণ করছি, দোয়া করেছি আল্লাহ উনাদের মাফ করে দেন । আমরা লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাব অন্যান্য সিনিয়র সাংবাদিকদের সহযোগিতায় তাদের স্থায়ীভাবে স্মরনে রাখতে কিছু ভূমিকা রাখবো।

সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ বলেন উর্মি রহমান, গোলাম কাদের, কাদের মাহমুদ, গোলাম মুর্শেদ ও শাহীন জামান এই পাঁচজন সাংবাদিক স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিভাবান এবং গুনি ছিলেন । তারা সাংবাদিকতার পাশাপাশি বাংলা ভাষার প্রচার এবং প্রচারে অন্যন্য ভূমিকা রেখেছেন, এজন্য তঁরা বাংলাদেশী কমিউনিনিতে স্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

শোকসভা শেষে প্রয়াত পাঁচ সাংবাদিকের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

READ MORE

উৎসবমুখর পরিবেশে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৪ অনুষ্ঠিত :

ওয়ান বাংলা ফ্রেণ্ডস ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়ন, চ্যানেল এস রানার্স আপ

লন্ডন, ১৬ অক্টোবর ২০২৪ : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিলেতে বাংলা মিডিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৪ সম্পন্ন হয়েছে । ১৩ অক্টোবর রোববার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ব লন্ডনের স্টেপনি গ্রীন ফুটবল মাঠে এ টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় । মিডিয়া কাপ টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহন করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে ছুটে আসেন প্রেস ক্লাবের সদস্যরা । সাংবাদিকদের মিলন মেলায় পরিনত হয় ফুটবল টুর্নামেন্ট।

বিকেলে খেলা শেষে পুরস্কার বিতরনী আনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লন্ডন-বাংলা প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ । এতে বক্তব্য রাখেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন, প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট মহিব চৌধুরী, সাবেক প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরী, প্রধান স্পনসর ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের সিইও ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান, পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টের স্বত্তাধিকারী তোফাজ্জুল আলম, টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনা টিমের লীডার লন্ডন স্পোর্টিফ-এর ট্রেজারার আতিকুর রহমান, চ্যাম্পিয়ন টিম ওয়ানবাংলা ফ্রেণ্ডস ইউনাইটেড এর লীডার আহাদ চৌধুরী বাবু ও রানার্স আপ চ্যানেল এস টিমের লীডার কামরুল হাসান। প্রেস ক্লাবের মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলো লন্ডন স্পোর্টিফ ।

সকালে প্রেস ক্লাবের ইভেন্টস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বে খেলার নিয়ম-নীতি জানিয়ে দেয় টুর্নামেন্টের ব্যবস্থাপনা টিম লন্ডন স্পোটিফ।
এবারের টুর্নামেন্টে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন মিডিয়া হাউস থেকে মোট ৮টি টিম অংশ গ্রহণ করে। টিম গুলো হলো : বিঅনটিভি ইউকে, বাংলা পোস্ট, চ্যানেল এস, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড, এসপি ইউনাইটেড, ইউকে বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড ও সাপ্তাহিক দেশ । খেলায় ২-০ গোলে বিজয়ী হয় ওয়ান বাংলা ফ্রেন্ডস ইউনাইটেড এবং রানার্স আপ হয় চ্যানেল এস।
বিচারকমন্ডলীর নির্বাচনে টুর্নামেন্টে চুড়ান্ত পর্বের খেলায় সেরা খেলোয়াড়ে ভুষিত হয়েছেন এনটিভি ইউরোপের সিনিয়র রিপোর্টার কয়েস আহমদ রুহেল, পুরো খেলায় সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন টিভিওয়ানের সিনিয়র রিপোর্টার জাকির হোসাইন কয়েস, সেরা গোলদাতা নির্বাচিত হয়েছেন এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার কয়েস আহমদ রুহেল এবং সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল এস-এর ভিডিও এডিটর ওয়ালিদ বিন খালিদ সাগর।


এবারের মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনে উপকমিটিতে ছিলেন ক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী, ট্রেজারার সালেহ আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল, ট্রেনিং সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইন, আইটি সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল হান্নান, নির্বাহী সদস্য শাহিদুর রহমান সুহেল, জাকির হোসেন কয়েস ও ফয়সল মাহমুদ।
টুর্ণামেন্টের মূল স্পন্সর ছিলো ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউড (ডাব্লিউপিসি), শেফ অনলাইন ও পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট । এছাড়া টিমগুলোর স্পন্সর ছিলো- ইউকেবাংলা মার্কেট প্লেস, রুপালি এক্সপ্রেস, এক্সেল টিউটর্স, কিংডম সলিসিটর্স, রিয়া মানি ট্রান্সফার, লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি, ফিস্ট এন্ড মিস্টি রেস্টুরেন্টে, বাংলা কাগজ, ফিস্ট এক্সপ্রেস রেস্টুরেন্ট ও ভিনটেইজ এক্সিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট ।

প্রেস ক্লাব প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের ও জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ তাঁদের বক্তব্যে বিজয়ী ও রানার্স আপ টিমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ৮টি টিমের প্রতিটি সদস্যের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা। সকলের অংশগ্রহণে আমরা একটি আনন্দঘন টুর্নামেন্ট উপহার দিতে পেরেছি। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের স্পনসরদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা । তাঁরা বলেন, ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে আমাদের ক্লাবের বছরের একটি সেরা আয়োজন । এই আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত আমাদের সদস্যরা একটি দিনের জন্য একই স্থানে একীভূত হয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন । এটি আমাদের সদস্যদের মধ্যে পারস্পারিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে মনে করি ।

READ MORE

আনন্দঘন আয়োজনে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সামার ট্রিপ ২০২৪ অনুষ্ঠিত

বিখ্যাত ইংরেজ সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জন্মস্থান স্ট্রার্টফোর্ডের আপন এভনে গত ২৮ জুলাই রোববার অনুষ্ঠিত হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সামার ট্রিপ ২০২৪। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল রোড থেকে তিনটি বাসে করে ক্লাবের সদস্যরা সপরিবারে যাত্রা শুরু করেন । সকাল পৌনে ১১টায় তিনটি বাস শেক্সপিয়ারের বাড়ির উদ্দেশ্যে হোয়াইটচ্যাপেল ত্যাগ করে । বাসে উঠার আগে প্রত্যেকের হাতে ‘রাধুনী’র পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় স্নাক্সস ব্যাগ তথা সকালের নাস্তা।
পৃথকভাবে তিনটি বাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ জুবায়ের, জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাঈম চৌধুরী, আইটি সেক্রেটারি মোঃ হান্নান, ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন, ইসি মেম্বার ফয়সল মাহমুদ ও জাকির হোসেন কয়েস।

যাত্রা পথে তিনটি বাসেই চলে গান ,কবিতা, ধাঁধা ও হাস্যরসাত্মক গল্পকথা ‌। দুপুর আড়াইটার দিক স্ট্রার্টফোর্ডের আপন এভনে তিনটি বাস একসাথে পৌঁছে । ক্লাবের নর্থ ইংল্যান্ড এবং মিডল্যান্ডসের সদস্যরাও এবারের পিকনিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়।

খাবারের তত্ত্বাবধানে ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রথম নির্বাহী সদস্য সাহিদুর রহমান সুহেল। তাঁকে সহযোগিতা করেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য ও বাংলা প্রেস ক্লাব বার্মিংহামের সভাপতি মুহাম্মদ মারুফ, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সোহেল আমেদ চৌধুরী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আকরামুল হেসেন সহ আরো অনেকে ‌। খাওয়া-দাওয়া শেষে অনুষ্ঠিত হয় খেলাধুলা । এই পর্ব পরিচালনা করেন সাহিদুর রহমান সুহেল, অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার ইব্রাহিম খলিল এবং অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আকরামুল হোসাইন। খেলাধুলার শুরুতেই ছিল নারীদের হাড়ি ভাঙ্গা। এরপর দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয় বাচ্চাদের মার্বেল দৌড় । পুরুষদের জন্য ছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলা এবং সব শেষে ছিল দড়ি টানাটানি । খেলাধুলা শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী । বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের, সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, ইভেন্টস এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিন সহ কার্যকরী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি ক্লাবের সিনিয়র সদস্যবৃন্দ । সাথে ছিলেন সামার ট্রিপের মূল স্পন্সর বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিষদ ইউকের সভাপতি এস এম খালিক উদ্দিন ।

সবশেষে পড়ন্ত বিকেলে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা বিশ্বখ্যাত কবি শেক্সপিয়ারের বাড়িসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য-সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন আপন এভন শহর ঘুরে দেখেন । এরপর সন্ধ্যা ৭টায় সকলে ফিরে আসেন বাস পার্কিং পয়েন্টে। সারাদিনের হৈ হল্লুড় পেছনে ফেলে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তিনটি বাস ছাড়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে। পথে চলে গান কবিতা কৌতুক । রাত ১০টায় লন্ডন ফিরে সকলে বিদায় নেন যার যার মতো করে।
এবারের সামার ট্রিপে খাবার এবং খেলাধুলার সরঞ্জাম প্রদান সহ সকল পুরস্কারের স্পন্সর ছিল বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিষদ ইউকে সিআইসি।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের ওয়ারউইকশায়ারের স্ট্র্যার্টফোর্ড-আপন-আ্যাভনে জন্ম নেওয়া উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ছিলেন একজন ইংরেজ কবি ও নাট্যকার । তাঁকে ইংরেজি ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক এবং বিশ্বের একজন অগ্রণী নাট্যকার ভাবা হয়। ট্র্যাজেডি, কমেডি, ইতিহাসনির্ভর প্রায় ৪০টি নাটক, পৌনে ৪০০ কবিতায় সমৃদ্ধ–সফল সাহিত্যকর্ম রয়েছে। ১৫৬৪ সালে জন্ম নেওয়া এই বিশ্বখ্যাত কবি পৃথিবী থেকে বিদান নেন ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল । সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

READ MORE

লন্ডন, ২১ এপ্রিল ২০২৪ঃ “সিলেটে স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান’-এ লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ৩৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর

সিলেট ক্যাডেট কলেজ-সংলগ্ন বধ্যভূমিতে “সিলেট শহীদ স্মৃতি উদ্যান’ প্রতিষ্ঠায় অংশীদার হলো লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব । ক্লাবের সম্মানিত সাধারণ সদস্য ও আজীবন সদস্যদের সহযোগিতায় ৩৫ লাখ টাকা প্রদান করা হচ্ছে । ২১ এপ্রিল রোববার বিকেলে লন্ডন বাংলা প্রেস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৩৫ লাখ টাকার চেক (প্রতীকী) হস্তান্তর করা হয় । এই অর্থ শীঘ্রই সিলেট শহীদ স্মৃতি উদ্যান কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে ।


অনুষ্ঠানে প্রতিকী চেকটি গ্রহণ করেন সিলেট শহীদ স্মৃতি উদ্যান ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষে কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা আহমদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি । এই ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে ১১ হাজার পাউন্ড দান করেছেন কনজার্ভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুকিম আহমদ।


লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের এর সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মহিব চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম বাসন, সদ্যসাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য ইউকেবিসিসিআইর সাবেক প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ এমবিই, ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার এমবিই, ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের সিইও ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান ও লন্ডনের ব্রেন্ট কাউন্সিলের সাবেক মেয়র কাউন্সিলার পারভেজ আহমদ।


অনুষ্ঠানে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য, সাধারণ সদস্য, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৩৫ লাখ টাকা সংগ্রহে বিশেষ ভুমিকা রাখার জন্য ক্লাবের সদ্যসাবেক প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হক চৌধুরীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে যাঁরা এই ফান্ডরেইজ ক্যাম্পেইনে স্বতঃস্ফুর্তভাবে সাড়া দিয়ে ৩৫ লাখ টাকা প্রদান করেছেন তাঁদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।


উল্লেখ্য, সিলেট ক্যাডেট কলেজের পেছনে সালুটিকর বধ্যভূমিতে স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর এবং নির্মাণকাজ শেষে উদ্বোধন করা হয় ২০২৩ সালের ৪ই মার্চ । এই প্রকল্প প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অবঃ) এম এ সালাম বীরপ্রতীক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ জিয়া উদ্দিন ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের স্বজনদের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরে নিয়ে ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন এই বধ্যভূমিতে নৃশংস কায়দায় হত্যা করে মাটিচাপা দেয় । এই বধ্যভূমিতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান’। যুদ্ধকালিন সময়ে সেখানে মাটিচাপা দেওয়া অজ্ঞাত অনেক শহীদের মধ্য থেকে ৬৬ জনের নাম-পরিচয় সনাক্ত করে পৃথক পৃথক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে । বাকি শহীদদেরও নাম-পরিচয় শনাক্তকরণে কাজ চলছে । ৬৬ শহীদের পরিবার প্রথমবারের মতো দেশের জন্য আত্মোত্যাগকারী তাদের শহিদ স্বজনদের স্মৃতিচিহ্নের সন্ধান পেয়েছেন । নান্দনিক এই স্মৃতি উদ্যানে পর্যায়ক্রমে পাঠাগার, যাদুঘর, কফিশপ এবং আলাদা বসার জায়গা নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।

READ MORE
This website uses cookies to provide user authentication. Please indicate whether you consent to our site placing cookies on your device and agree with our Privacy Policy. To find out more, please read our Privacy and Cookie Policy